সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
”ওঁকে মারধর করা হয়েছে, এই অভিযোগ সত্যি না মিথ্যা, তা খতিয়ে দেখা হবে।” শনিবার নবান্ন অভিযানে অভয়ার মায়ের উপরে পুলিশি অত্যাচারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানিয়ে দিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা।
গতকাল শনিবার নবান্ন অভিযান ঘিরে তুলকালাম পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে আরজিকরের নির্যাতিতার মা ও বাবার ডাকে শনিবার ছিল নবান্ন অভিযান। তবে সেই মিছিলের দখল ছিল বিজেপির হাতেই। মিছিলের প্রথম সারিতে দেখা মিলেছে শুভেন্দু অধিকারী, অর্জুন সিং, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক দিন্দা সহ রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের। শান্তিপূর্ণ মিছিল বেলা গড়াতেই পরিণত হয় ধুন্ধুমার পরিস্থিতিতে। এই হট্টগোলের মাঝে তাঁকে মারধরের অভিযোগ করেন নির্যাতিতার মা। মহিলা জানান, তাঁর কপালে এবং পিঠে চোট লেগেছে। তিনি আঙুল তোলেন পুলিশের দিকে। রবিবার এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভর্মা।
তিনি জানালেন, নির্যাতিতার মা জখম হয়েছেন বলে যে অভিযোগ সামনে এসেছে, তার তদন্ত হবে। যদি মহিলার গায়ে হাত তোলা হয়ে থাকে, তবে সেই কাজ কারা করেছেন, তা খতিয়ে দেখা হবে।
নবান্ন অভিযানে পুলিশের লাঠিচার্জের অভিযোগ তুলেছেন অভয়ার বাবা-মা। পাশাপাশি নবান্ন অভিযানে আহত হয়েছেন ৫ পুলিশকর্মী। তাঁদের মধ্যে ৩ জন ভর্তি এসএসকেএমে। আহত কর্মীদের দেখতে আজ হাসপাতালে যান সিপি মনোজ ভর্মা। সেখানে গিয়ে পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে নিহত চিকিৎসকের মায়ের অভিযোগের তদন্ত হবে। গতকাল পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ নিয়ে নির্যাতিতার মা বলেছিলেন, “কলকাতা পুলিশ মেরেছে। পুরুষ ও মহিলা পুলিশ উভয়েই লাঠিপেটা করেছে। আমার শাঁখা ভেঙে দিয়েছে। পিঠে লেগেছে। আমাকে ফেলেও দেওয়া হয়েছে। ওর বাবাকেও মেরেছে। কেন আমায় মারা হল? কেন আমার মেয়েকে কাজের জায়গায় মারা হল? কেন প্রশাসন তৎপর হল না সেদিন?”
মেয়ের বিচার চেয়ে শনিবার পথে নেমেছিলেন অভয়ার মা। সেই নবান্ন অভিযানেই তাঁর চাঞ্চল্য়কর অভিযোগ, পুলিশ তাঁকেই মারধর করেছে। এদিন সিপি মনোজ ভার্মা বলেন, “আরজি করের নির্যাতিতার মা যে অভিযোগ করছেন – নিশ্চয়ই উনি আঘাত পেয়েছেন। এটা একেবারেই হওয়া উচিত নয়। কেন হল? কী কারণে হল? পুলিশ মেরেছে বলে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, সেটা সত্যি না মিথ্যে খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগ এলে নিশ্চয়ই তদন্ত করা হবে। অভিযোগ না পেলেও…গতকাল থেকে আমরা তদন্ত করছি।”
তাঁর কথায়, ”ওঁকে মারধর করা হয়েছে, এই অভিযোগ সত্যি না মিথ্যা, তা খতিয়ে দেখা হবে।” সে ক্ষেত্রে নির্যাতিতার মা যদি অভিযোগ করতে চান, পুলিশ কি হাসপাতালে যাবে তাঁর অভিযোগ নিতে? এই প্রশ্নের জবাবে কলকাতার নগরপাল বলেন, ”অভিযোগ যদি আসে অবশ্যই তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগ যদি না-ও পাই, আমরা (কলকাতা পুলিশ) স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে তদন্ত করব। ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।” এছাড়াও, কর্মরত পুলিশ কর্মীদের গায়ে হাত, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা , হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার।
অন্যদিকে, কলকাতা পুলিশের তরফে মোট সাতটি এফআইআর দায়ের হয়েছে বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে। লালবাজার সূত্রে খবর, বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দা, অগ্নিমিত্রা পাল এবং বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচীর নাম রয়েছে এফআইআরে। অভিযোগ, কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের বাধাদান এবং তাঁদের হুমকি দিয়েছেন অভিযুক্ত নেতারা। লালবাজারের তরফে জানানো হয়েছে, নবান্ন অভিযানের সময় আহত হয়েছেন মোট পাঁচ পুলিশকর্মী।