সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
বিহারের আদলে বাংলা সহ দেশের সমস্ত ভোটমুখী রাজ্যে ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর চালু করার জন্য দেশের প্রত্যেকটি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের জরুরি বৈঠকে ডাকল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের সঙ্গে একটি সম্মেলন করতে চলেছে। এই সম্মেলনে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়া শুরুর প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হবে বলে জানা গেছে।
চলতি বছরে বিহারে বিধানসভা নির্বাচনের দিকে লক্ষ্য রেখে ইতিমধ্যেই বিহারে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়া শুরু করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। আর এই প্রক্রিয়ায় ইতিমধ্যেই প্রাথমিক যে খসড়া তালিকা জাতীয় নির্বাচন কমিশন প্রকাশ করেছে সেখানে রয়েছে বিস্তর গরমিল। কারণ খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছে প্রায় 35 লক্ষ ভোটারের নাম। কোন কারণ না দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলার অভিযোগে সুপ্রিমকোর্ট জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে প্রত্যেককে তাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার কারণ জানাতে হবে এবং তাদের দ্বিতীয় বার করে সুযোগ দিতে হবে নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য। এই পরিস্থিতিতে গোটা প্রক্রিয়া নিয়ে যেখানে স্বচ্ছতার প্রশ্ন উঠেছে তার মধ্যেই বাংলা সহদেশের ভোটমুখী রাজ্যগুলিতে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শুরু করার উদ্যোগ নিচ্ছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।
জাতীয় নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, কমিশন সিইওদের কাছ থেকে যোগ্যতার প্রমাণ, বিশেষ করে নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য ভোটাররা আর কী কী অতিরিক্ত নথি জমা দিতে পারেন, সে বিষয়ে পরামর্শ চাওয়া হয়েছে। বিহারে এসআইআর-এর জন্য, নির্বাচন কমিশন ১১ নথির একটি নির্দেশক তালিকা দিয়েছিল, যার মধ্যে পাসপোর্ট, জন্ম শংসাপত্র, এবং জাতি শংসাপত্র অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু আধার কার্ড, রেশন কার্ড, এবং কমিশনের নিজস্ব এপিক বা সচিত্র ভোটার পরিচয় পত্র বাদ রাখা হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের এই এসআইআর নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক পিটিশন জমা পড়েছে, যার পরবর্তী শুনানি ৮ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত হয়েছে। যদিও ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে যে ১১ নথির তালিকা বিহারে চালু করা হয়েছিল তার সঙ্গে দ্বাদশ নথি হিসেবে আধার কার্ডকেও মান্যতা দিতে হবে। পিটিশনকারীরা কমিশনের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর পাশাপাশি এই সমস্ত সাধারণ নথিপত্র বাদ দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশন সম্ভবত আগামী ১ জানুয়ারি, ২০২৬-কে যোগ্যতা নির্ণায়ক তারিখ হিসাবে ধরে নিয়ে দেশের বাকি অংশের জন্য এসআইআর-এর নির্দেশ দিতে পারে। অর্থাৎ, আগামী বছরের ১ জানুয়ারি যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে, তারা আবেদন করতে পারবে। গত ২৪ জুনের নির্দেশে কমিশন বলেছিল যে তারা সারা দেশের জন্য এসআইআর চালু করবে, তবে বিহারে বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন হওয়ায় সেখানে এই প্রক্রিয়া প্রথমে শুরু করা হয়েছিল। বাকি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির জন্য নির্দেশ পরে জারি করা হবে বলে জানানো হয়েছিল।
এখন, সমস্ত সিইও-কে আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে তাদের রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ভোটারের সংখ্যা, শেষ ব্যাপক সংশোধন কবে হয়েছিল, এবং ভোটারদের জমা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত নথিপত্র বিষয়ে পরামর্শসহ বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করতে বলেছে। মনে করা হচ্ছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সাধু ও বিবেক জোশী কমিশনের ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট, দ্বারকায় সিইওদের সঙ্গে এই বৈঠক করবেন।