শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
‘কালীঘাটে কেলেঙ্কারি, মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আপনি এটা কি করছেন?’ এভাবেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণাত্মক প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মহানবমীর সন্ধ্যায় বরাবরের রীতি মেনে কালীঘাটের মন্দিরে কাসর ঘন্টা বাজিয়ে আরতি করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই আরতিতে মমতা শাস্ত্র বিরোধী কার্যকলাপ করেছেন বলে রীতিমতো ভিডিও শেয়ার করে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন শুভেন্দু। সকালের শিরোনামের পক্ষ থেকে সেই ভিডিও সত্যতা যাচাই করা হয়নি অবশ্য।
সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেন্দু অধিকারীর পোস্ট করা ভিডিও-র পাশাপাশি শুভেন্দু লিখেছেন, ‘মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আপনি এটা কি করছেন? কালীঘাট মন্দিরের গর্ভগৃহে পুরোহিত আপনাকে মা দক্ষিণা কালীর চরণামৃত বা প্রসাদ কিছু একটা দিয়েছেন, যা আপনি মাথায় ছোঁয়ালেন, মুখেও গ্রহণ করলেন, দিয়ে সেটাই আবার মা’এর দিকে ছুঁড়ে দিলেন? প্রসাদ হোক বা চরণামৃত বা অন্যকিছু যেটা আপনি গ্রহণ করে মুখে নিলে তা এঁঠো হয়ে যায়, আর সেই এঁঠো মা’এর দিকে ছোঁড়া যায় না, এটা অনাচার।’
শুভেন্দু লিখেছেন,’ভাগবত পুরাণ এবং কালিকা পুরাণ অনুসারে, কালীঘাটে দেবীর ডান পায়ের আঙুল পড়েছিল তাই কালীঘাট ৫১ সতীপীঠের একটি। শুধু তাই নয় ৫১ টি সতীপীঠের মধ্যে অন্যতম পবিত্র শক্তিপীঠ কালীঘাট, হিন্দুধর্মে যার আধ্যাত্মিক মাহাত্ম অপরিসীম। গর্ভগৃহে আপনার এই অনাচার সরাসরি হিন্দুদের বিশ্বাস ও আস্থার উপর আঘাত এবং শাস্ত্র বিরোধী।’
তাঁর অভিযোগ, ‘মাননীয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার দল তৃণমূলের নেতৃত্ব তাদের ৩০ শতাংশ ভোটব্যাঙ্ক কে সুরক্ষিত করতে অত্যন্ত সচেতন ভাবেই বার বার হিন্দুদের বিশ্বাস ও আস্থায় আঘাত দিয়ে চলেছেন। আমাদের আরাধ্য দেবদেবীকেও এনারা ছাড়ছেন না। এর আগে ওনারই দলের এক সাংসদ মা কালী সম্পর্কে কটুক্তি করেছিলেন।’
শুভেন্দু আরও লিখেছেন, ‘কালীঘাট মন্দিরে পুজিতা মা দক্ষিণা কালী অত্যন্ত জাগ্রত বলেই আমাদের বিশ্বাস, নিশ্চিত ভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাপাধ্যায় আপনাকে এর ফল ভোগ করতেই হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হিন্দু রীতি-নীতি’র বিষয়ে অজ্ঞতা আবারো প্রকাশ্যে এলো।’
অন্যদিকে বাংলার ফুটবলারদের জম্মু কাশ্মীরে ফুটবল টুর্নামেন্ট খেলতে যাওয়া নিয়ে যে সমস্যা তৈরি হয়েছিল তা কল্যান চৌবে তে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করে সমস্যার সমাধান করেছেন বলে জানিয়ে আজ শুভেন্দু অধিকারী নিজের এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘৬৯তম জাতীয় স্কুল গেমস ফুটবল অনূর্ধ্ব ১৯ বয়েজ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৫, জম্মু ও কাশ্মীরের শ্রীনগরে আগামী ৬ অক্টোবর থেকে ১০ অক্টোবর ২০২৫, তারিখের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।
পশ্চিমবঙ্গের অনূর্ধ্ব ১৯ স্কুলের বয়েজ দলে বেঙ্গল ফুটবল অ্যাকাডেমির ৬ জন খেলোয়াড় রয়েছে, যারা ইতিমধ্যে এই টুর্নামেন্টে খেলার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছে (রেজিস্ট্রেশনের শেষ তারিখ ছিল ৩০ সেপ্টেম্বর) এবং তাদের যাতায়াত সহ অন্যান্য বিষয়ও সব পাকাপোক্ত ব্যবস্থা হয়ে গেছে।
তবে, সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ) আয়োজিত অনূর্ধ্ব ১৮ এলিট লিগ কলকাতা জোন ২০২৫-২৬ এর কোয়ালিফায়িং রাউন্ডের ম্যাচ, যেখানে বেঙ্গল ফুটবল অ্যাকাডেমি অংশগ্রহণ করবে, তা ১০ অক্টোবর হবে বলে নির্ধারিত ছিল। এর ফলে, শ্রীনগরে ম্যাচে অংশ নেওয়া ছয়জন খেলোয়াড় ছাড়াই বেঙ্গল স্কুল ফুটবল দলকে খেলতে হতো। এমতাবস্থায়, কিছু উদ্বিগ্ন ব্যক্তি আমার দ্বারস্থ হন যাতে এই প্রতিশ্রুতিমান তরুণ ফুটবলাররা দুটি জাতীয় স্তরের টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, কারণ এর ফলে তারা জাতীয় স্তরে খেলার মূল্যবান অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে।
আমি এই বিষয়ে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশননের প্রেসিডেন্ট শ্রী কল্যাণ চৌবে কে অনুরোধ জানিয়েছিলাম, তিনি যথেষ্ট সহানুভূতিশীল হয়ে বেঙ্গল ফুটবল অ্যাকাডেমির ম্যাচের সময়সূচী পরিবর্তন করেছেন এবং এখন ম্যাচ টি ১৫ অক্টোবরের পরে অনুষ্ঠিত হবে যার ফলে এই উদীয়মান তরুণ বাঙালি ফুটবলারদের দুটি টুর্নামেন্টেই অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে আর কোনো বাধা রইলো না। আমি সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন ও প্রেসিডেন্ট শ্রী কল্যাণ চৌবে কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’