সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
সুন্দরবনের প্রতিভা, সংস্কৃতি আর সৃষ্টিশীলতার এক অনন্য মিলনমেলা। কলকাতার শহীদ সূর্য সেন মঞ্চে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হল পাল ফিল্ম প্রোডাকশনস-এর উদ্যোগে আয়োজিত তৃতীয় বর্ষ সুন্দরবন গৌরব সম্মান ২০২৬ এবং একইসঙ্গে প্রথম বর্ষ সুন্দরবন ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল।
দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করার পাশাপাশি সিনেমা ও সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা বিশ্বজিৎ পালের হাত ধরে শুরু হয়েছিল এই অনন্য উদ্যোগ।
এই মঞ্চে একদিকে যেমন সম্মানিত হল সুন্দরবনের কৃতী মানুষজন, অন্যদিকে তেমনই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এল নতুন প্রজন্মের শর্ট ফিল্ম, তথ্যচিত্র ও সঙ্গীতচর্চা।
সুন্দরবনের কৃতীদের সম্মান
অনুষ্ঠানের শুরুতেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য সুন্দরবনের গর্বদের হাতে তুলে দেওয়া হয় সুন্দরবন গৌরব সম্মান।
শিক্ষা ও সাহিত্য ক্ষেত্রে এই সম্মান পান শিক্ষারত্ন পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রাক্তন শিক্ষক বিবেক পাল। রাজনীতি ও সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য সম্মানিত হন গোসাবা পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কার্য ও পরিবহন কর্মাধ্যক্ষ, তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তাপস মণ্ডল।
চিত্রগ্রহণ (DOP) বিভাগে সুন্দরবন গৌরব সম্মান পান অমিত মুখার্জি। পাশাপাশি সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ রক্ষা ও “একটি গাছ একটি প্রাণ” সচেতনতা আন্দোলনের জন্য সুন্দরবন গৌরব রত্ন সম্মানে ভূষিত হন পূর্ব বর্ধমানের স্বপন দত্ত বাউল।
🎥 প্রথম বর্ষ সুন্দরবন ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল
এই অনুষ্ঠানেই অনুষ্ঠিত হয় বহু প্রতীক্ষিত প্রথম সুন্দরবন ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল। প্রায় ২৫০টি শর্ট ফিল্ম ও মিউজিক অ্যালবাম জমা পড়ে, যার মধ্যে বাছাই করে ৩৩টি শর্ট ফিল্ম প্রদর্শিত হয়।
ফেস্টিভ্যালের সঞ্চালনা ও পরিচালনায় ছিলেন পাল ফিল্ম প্রোডাকশনের কর্ণধার ও পরিচালক বিশ্বজিৎ পাল, টেকনিক্যাল হেড অয়ন রায় ও সৃষ্টি সরকার।
🏆 পুরস্কার ও প্রাপ্তির তালিকা
বেস্ট তথ্যচিত্রের সম্মান পায় ‘Chaplin Artis and Warrior’, পরিচালক আবির মজুমদার।
বেস্ট শিশুদের গানে পুরস্কৃত হন সঙ্গীতশিল্পী লিপিকা দে।
বেস্ট ফিমেল গায়ক ও বেস্ট ভক্তিমূলক গানের সম্মান পান শুক্লা দে।
বেস্ট গীতিকার হন অরুণাভ চ্যাটার্জি, বেস্ট মিউজিক ভিডিও ‘ঢাকেতে পড়ল কাঠি’ (প্রযোজনা রীতা বিশ্বাস)।
বেস্ট সংলাপ প্রীতম শর্মা (শর্ট ফিল্ম মানুষে)।
বেস্ট চিত্রনাট্য দিলীপ নস্কর (শিক্ষার আলো)।
বেস্ট সম্পাদনা অনুপ পাল (বৃহন্নলা) ও এম রাজ (মুখোমুখি)।

এছাড়াও বেস্ট সাইলেন্ট ফিল্ম, বেস্ট কমেডি, বেস্ট সোশ্যাল মেসেজ, বেস্ট ক্রিটিক্স চয়েস সহ একাধিক বিভাগে পুরস্কার দেওয়া হয়।
শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে সম্মান পান দেবা মণ্ডল, বাদল সরকার ও সন্দীপ পাইন।
শ্রেষ্ঠ অভিনেতা ও অভিনেত্রী বিভাগে পুরস্কৃত হন অগ্রদূত গুপ্ত, পার্থ মিত্র, দিলীপ নস্কর, অনামিকা বিশ্বাস, কুসুম সামন্ত ও রীতা বিশ্বাস।

লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট
বাংলা চলচ্চিত্রে আজীবন অবদানের জন্য লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট পুরস্কার পান বিশিষ্ট পরিচালক বিকাশ ব্যানার্জি ও কাজরী মোদক।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত চিত্রগ্রাহক অজয় বরণ দে, বহু অভিনেতা-অভিনেত্রী, পরিচালক ও চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা।

সুন্দরবনের শিকড় থেকে উঠে আসা এই সম্মান ও ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল প্রমাণ করল—প্রতিভার কোনও ভৌগোলিক সীমা নেই। সুন্দরবন আজ শুধু প্রাকৃতিক ঐতিহ্য নয়, সৃজনশীলতারও এক উজ্জ্বল কেন্দ্র।