প্রিয়াঙ্কা মান্না। কলকাতা সারাদিন।
বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, সামাজিক মেলবন্ধন তৈরি করা এবং পরিবেশবান্ধব চিন্তাভাবনাকে বাস্তব রূপ দিতে নিউ টাউনে চালু হল এক অভিনব কমিউনিটি বুক ক্যাফে। নিউ টাউন কলকাতা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (এনকেডিএ)-র উদ্যোগে এই বুক ক্যাফের সূচনা হয়েছে নিউ টাউন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ফার্স্ট রোটারির জিরো শপ বিল্ডিংয়ে।
আধুনিক শহরের ব্যস্ত জীবনে যেখানে বই পড়ার জন্য নিরিবিলি জায়গার অভাব, সেখানে এই কমিউনিটি বুক ক্যাফে হয়ে উঠতে চলেছে পাঠকদের এক শান্ত আশ্রয়।
এনকেডিএ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য শুধুমাত্র বই পড়ার সুযোগ করে দেওয়া নয়, বরং ব্যবহৃত বই পুনরায় পাঠকের হাতে পৌঁছে দিয়ে সম্পদের দায়িত্বশীল পুনর্ব্যবহারকে উৎসাহিত করা। ‘Read, Donate and Reuse’—এই ভাবনাকে সামনে রেখেই পরিকল্পিত হয়েছে গোটা উদ্যোগ। বই ফেলে না দিয়ে আবার ব্যবহার করার মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তাও পৌঁছে দিতে চায় কর্তৃপক্ষ।
এই কমিউনিটি বুক ক্যাফের অন্যতম আকর্ষণ হল বই দান করে ক্রেডিট বা পয়েন্ট অর্জনের ব্যবস্থা। যে কোনও নাগরিক নিজের পড়া শেষ করা বই দান করলে নির্দিষ্ট ক্রেডিট পাবেন। পরে সেই ক্রেডিট ব্যবহার করে অন্য বই সংগ্রহ বা বিনিময় করা যাবে। এর ফলে বইয়ের আদান-প্রদান যেমন বাড়বে, তেমনই পাঠকের সঙ্গে বইয়ের এক নতুন সম্পর্ক তৈরি হবে বলে মনে করছেন এনকেডিএ কর্তারা।
প্রাথমিকভাবে প্রায় ২৫০টি বিভিন্ন ঘরানার বই নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে এই বুক ক্যাফে। উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ, শিশু সাহিত্য থেকে শুরু করে নানা বিষয়ভিত্তিক বই এখানে রাখা হয়েছে। ছাত্রছাত্রী, কর্মরত মানুষ, প্রবীণ নাগরিক কিংবা পরিবার—সকলের জন্যই এই ক্যাফে সমানভাবে খোলা। বই পড়ার পাশাপাশি এখানে বসে শান্ত পরিবেশে কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগও থাকছে।
জিরো শপ বিল্ডিংটি ২০২২ সালে তৈরি হয়েছিল মূলত বর্জ্য পৃথকীকরণ, পুনর্ব্যবহার ও রিসাইক্লিং নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য। সেই ধারাবাহিকতাতেই এই ভবনের গ্রাউন্ড ফ্লোরে গড়ে উঠেছে কমিউনিটি বুক ক্যাফে। এনকেডিএ আধিকারিকদের মতে, বইও এক ধরনের সম্পদ, যার পুনর্ব্যবহার সম্ভব এবং প্রয়োজনীয়।
এই বুক ক্যাফে প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। প্রতি সোমবার এটি বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি স্কুল, কলেজ, আবাসিক সংগঠন এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে বই দানের জন্য আহ্বান জানিয়েছে এনকেডিএ।

নিউ টাউনের বাসিন্দাদের মতে, এই উদ্যোগ শহরের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরকে আরও সমৃদ্ধ করবে। বই, পাঠক আর পরিবেশ—এই তিনের সুন্দর সমন্বয়ে নিউ টাউনের কমিউনিটি বুক ক্যাফে ধীরে ধীরে হয়ে উঠতে পারে জ্ঞানচর্চা ও সচেতন নাগরিকতার এক নতুন কেন্দ্র।