সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বাংলার ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার সময়সীমা বাড়লো আরো সাত দিন। আগামী 14 ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন কমিশন বাংলায় যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে বলে জানিয়েছিল তা অন্তত আরো এক সপ্তাহ বাড়ানোর নির্দেশ দিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত।
সেই সঙ্গে বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে সরকারি আধিকারিকদের এনে বাংলায় মাইক্রো অবজারভার পদে জাতীয় নির্বাচন কমিশন যেভাবে নিয়োগ করেছিল তার প্রতিবাদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সুপ্রিম কোর্টে অভিযোগ করার প্রেক্ষিতে আজ সেই সমস্ত মাইক্রো অবজার্ভারদের পরিবর্তে রাজ্য সরকারের দেওয়া আধিকারিকদের তালিকা থেকে বাংলার ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগের নির্দেশ দিলেন প্রধান বিচারপতি।
শুধু তাই নয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন সুপ্রিম কোর্টের গিয়েছিলেন তাকে আইনবিরুদ্ধ করে দাবী করে অখিল ভারতীয় হিন্দু মহাসভার পক্ষ থেকে যে মামলা দায়ের করা হয়েছিল তা খারিজ করে দিয়ে বিষয়টিকে নিয়ে অনর্থক রাজনীতি না করার নির্দেশ দেন দেশের প্রধান বিচারপতি।
এসআইআর শুনানিতে এবার সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনার মুখে নির্বাচন কমিশন। নামের বানান নিয়ে যেভাবে আমজনতাকে হেনস্তা করা হচ্ছে, বাবা-মায়ের সঙ্গে বয়সের ফারাক হলে নোটিস পাঠানো হচ্ছে, তা নিয়ে বিরক্ত প্রকাশ করলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ আংশিক মান্যতা দিয়ে মাইক্রো অবজার্ভারদের চূড়ান্ত ক্ষমতা নেওয়ার থেকে সরিয়ে দিল শীর্ষ আদালত। এবার এসআইআর-এর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ইআরও-রাই। তবে, সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, বাংলার এসআইআর পরিস্থিতি দেখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময়সীমা বাড়িয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট! চূড়ান্ত ভোটার তালিকা নূন্যতম এক সপ্তাহ অতিরিক্ত বাড়ানোর নির্দেশ দিল আদালত।
সুপ্রিম কোর্ট আরও জানিয়েছে, ১৪ ফেব্রুয়ারির পরে আরও এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হবে ইআরও-দের। যাতে তাঁরা নথি যাচাই সম্পূর্ণ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, সেই কারণেই সময় দেওয়া হবে বলে জানাচ্ছে আদালত। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, কমিশন প্রয়োজনে ইআরও এবং এইআরও-দের পরিবর্তন করতে পারবে। যোগ্য মনে হলে বর্তমান অফিসারদের ব্যবহারও করতে পারবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ইআরও-রাই। মাইক্রো অবজার্ভার এবং এই অফিসারেরা শুধুমাত্র সাহায্য করবেন। রাজ্যের দেওয়া অফিসারদের দু’দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া যাবে বলেও জানিয়েছে কমিশন।
গত শুনানিতে মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল আদালতে। কমিশন জানিয়েছিল, রাজ্য কর্মী না দেওয়ায় মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আইনজীবীদের সঙ্গে আদালতে হাজির ছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মী দেওয়া হবে। সেই মতো কর্মী দেওয়ার কথা জানায় রাজ্য। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, রাজ্য নিশ্চিত করবে ৮,৫০৫ জনই গ্রুপ-বি অফিসার। মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট ডিইও বা ইআরও-র কাছে তাঁদের রিপোর্ট করতে হবে। এবং, দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে।
শীর্ষ আদালত জানায়, ৪ তারিখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অ্যাপিয়ার করেছিলেন তাঁর আইনজীবীদের সঙ্গে। মাইক্রো অবজারভারদের মোতায়েন করার বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়েছিল। কমিশনের তরফে জানানো হয়, বারংবার অনুরোধ করার পরও রাজ্য সরকারের তরফে যথোপযুক্ত কর্মী নিয়োগ করা হয়নি। যাঁরা কোয়াশি জুডিশিয়াল ডিউটি পালন করতে সক্ষম। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, অ্যাডিকুয়েট কর্মী দেবেন বলেছিলেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, অ্যাডিকুয়েট কর্মী দেবেন বলেছিলেন।

মমতার বিরুদ্ধে দায়ের মামলা খারিজ
মমতার সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করা নিয়ে আবেদন করেছিল অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে যে সওয়াল করেছেন, তাতে তাঁর সংবিধানের প্রতি আস্থাই প্রকাশ করে। পাশাপাশি প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তাঁর পর্যবেক্ষণ, ‘এতে অস্বাভাবিক কী আছে? এটাই তো সংবিধানের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের প্রকাশ। এই বিষয়টিকে রাজনীতিকরণ করবেন না।’