WB Assembly : ‘ভয়ের পরিবেশ থেকে মুক্ত হয়েছে বাংলা’ বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের সূচনায় নিজের ভাষনে দাবি রাজ্যপালের
সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
‘বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে ভয়-সন্ত্রাসের পরিবেশ ছিল রাজ্যে। নতুন সরকারের আমলে তা দূর হয়েছে। আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা হবে রাজ্যে।’ বৃহস্পতিবার রাজ্য বিধানসভার বাজে অধিবেশনের সূচনায় এভাবেই পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমালোচনা করলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর এন রবি। সূচনা ভাষণে দুর্নীতি, তোলাবাজি, নারী নির্যাতন-সহ একাধিক বিষয় ছুঁয়ে গিয়ে রাজ্যপাল বলেন, ‘নতুন রাজ্য সরকার নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। দুর্নীতি, তোলাবাজি বন্ধ করতে বদ্ধপরিকর এই সরকার। নারী নির্যাতনের ঘটনাতেও জ়িরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকার তোলাবাজ-গুন্ডাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ অঙ্গীকার নিয়েছে।’ আগামী সোমবার বাজেট পেশ করবেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। ভাষণে রাজ্যপাল জানিয়েছেন, প্রথম পর্যায়ের বাজেট অধিবেশন চলবে আগামী ২৫ জুন পর্যন্ত। এ বার সরাসরি সম্প্রচারিতও হবে বাজেট অধিবেশন।
স্বাধীনতার পর থেকে প্রথম বার বিজেপি বাংলার মানুষের বিপুল জনসমর্থন নিয়ে সরকারে এসেছে বলে উল্লেখ করে নিজের বক্তব্যে রাজ্যপাল বারে বারে তুলে ধরেন কিভাবে বিগত সরকারের আমলে একের পর এক দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক অক্ষমতার জন্য রাজ্য প্রশাসন কাজ করতে পারছিল না। এবারের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যেভাবে বারে বারে বেআইনি অনুপ্রবেশের ঘরে বাংলার জনবিন্যাস বদলে গিয়েছে বলে দাবি করেছিলেন সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরে রাজ্যপাল বলেন, ‘ক্ষমতায় এসেই নতুন সরকার বিএসএফ-কে জমি দিয়েছে খোলা সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য। অনুপ্রবেশ বড় সমস্যা ছিল। এর জেরে আগের সরকারের আমলে জনবিন্যাসও বদলে গিয়েছে। নতুন সরকার এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করছে। অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে রাজ্য থেকে তাড়ানোর পদক্ষেপ করা হচ্ছে। সরকারি জমি জবরদখলমুক্ত করা হচ্ছে। বালি পাচার রুখতে কড়া পদক্ষেপ করছে নতুন সরকার। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি দূর করতেও বদ্ধপরিকর তারা। থ্রেট কালচার বরদাস্ত করা হবে না।’
রাজ্যপাল আরও বলেন, ‘রাজ্যে তোলাবাজি, দুষ্কৃতীরাজের অবসান হয়েছে। মানবপাচার রুখতে কড়া পদক্ষেপ করেছে প্রশাসন। বছরের পর বছর দখল করে রাখা জমি উদ্ধার করে শিল্পে ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে রাজ্যে। নারী নির্যাতনে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে রাজ্য। দুর্নীতিতে জর্জরিত ছিল পূর্বতন সরকার। মানুষ অভিযোগ করে সুবিচার পাননি। পরিকল্পনামাফিক আটকে রেখেছিল চিংড়িঘাটা মেট্রোর কাজ। ফলে রাজ্য পিছিয়ে পড়ছিল। বাংলার মানুষ বঞ্চিত হচ্ছিলেন। নয়া সরকার ক্ষমতায় এসে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছে। ইতিমধ্যেই মেট্রোর কাজ শুরু হয়েছে। ভয়ের পরিবেশ থেকে মুক্ত হয়েছে বাংলা।’
রাজ্যপাল আরও বলেন, ‘রাজ্যে তোলাবাজি, দুষ্কৃতীরাজের অবসান হয়েছে। মানবপাচার রুখতে কড়া পদক্ষেপ করেছে প্রশাসন। বছরের পর বছর দখল করে রাখা জমি উদ্ধার করে শিল্পে ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে রাজ্যে। নারী নির্যাতনে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে রাজ্য। দুর্নীতিতে জর্জরিত ছিল পূর্বতন সরকার। মানুষ অভিযোগ করে সুবিচার পাননি। পরিকল্পনামাফিক আটকে রেখেছিল চিংড়িঘাটা মেট্রোর কাজ। ফলে রাজ্য পিছিয়ে পড়ছিল। বাংলার মানুষ বঞ্চিত হচ্ছিলেন। নয়া সরকার ক্ষমতায় এসে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছে। ইতিমধ্যেই মেট্রোর কাজ শুরু হয়েছে। ভয়ের পরিবেশ থেকে মুক্ত হয়েছে বাংলা।’
বিগত সরকারের আমলে অপরাধমূলক সিন্ডিকেট, তোলাবাজি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমাজবিরোধীদের চক্র গড়ে উঠেছিল বলে অভিযোগ। নতুন সরকার এ সবের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করে বলে বিধানসভায় জানান রাজ্যপাল। বিশেষ ভাবে উল্লেখ করেন সিন্ডিকেট, তোলাবাজি, বেআইনি ভাবে কয়লা এবং বালি তোলা, মহিলা ও শিশুদের উপর অত্যাচার এবং পাচারের কথা। রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান আশ্বাস দেন, নতুন সরকার এই সবের বিরুদ্ধেই পদক্ষেপ করবে।

তিনি বলেন, ‘আমার সরকার আইনের শাসন ফেরাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে।’ সরকারি জমিতে বেআইনি দখল এবং বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে বর্তমান রাজ্য সরকার যে অভিযান চালাচ্ছে, সে কথাও উঠে আসে রাজ্যপালের ভাষণে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের বিবিধ পদক্ষেপের কথাও আলাদা ভাবে উল্লেখ করেন রবি। রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘পুরনো কেসগুলি পুনরায় খোলা হয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং নারী নির্যাতনের অভিযোগের তদন্তের জন্য দু’টি কমিশন গঠন করা হয়েছে।’
রাজ্যে আগামিদিনে শিল্প সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন রাজ্যপাল। জানান, নতুন সরকার ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক তৈরির পরিকল্পনা করছে। সিঙ্গুরে একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। তুলে ধরেন জলপথে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং বন্দর উন্নয়নে নতুন সরকারের উদ্যোগের কথাও।