সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
সালটা ১৮৭৬। বাংলা তথা ভারত বর্ষ তখনও শাসন করছে ব্রিটিশরা। বছর কয়েক আগেই শেষ হয়েছে সিপাহী বিদ্রোহ।
এমন পরিস্থিতিতে তৎকালীন ভারতবর্ষের রাজধানী কলকাতা এবং সংলগ্ন এলাকার শাসনভার সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে শহরাঞ্চল গুলির বেশ কিছু এলাকা একসঙ্গে নিয়ে পুরসভা গঠন করার সিদ্ধান্ত নেয় তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার।
১৮৭৬ সালেই কলকাতা পৌরসভা বা কলকাতা মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের পাশাপাশি মাথা তুলে দাঁড়ায় রাজপুর সোনারপুর পৌরসভা।
কালের নিয়মে কলকাতা পুরসভা বাংলার সেলিব্রেটি পৌরসভার স্ট্যাটাস পেলেও কোনো অজ্ঞাত কারণে আজও দুয়োরানীর মত কর্পোরেশন স্টেটাস পায়নি রাজপুর সোনারপুর
তবে তাতে কিছু যায় আসে না সোনারপুরবাসীর। এমনটাই দেখা গেল এপ্রিলের প্রথম দিন সোনারপুরের রাজপথে রাজপুর সোনারপুর পৌরসভার চেয়ারপার্সন পল্লব দাস , সোনারপুর উত্তর বিধানসভার বিধায়ক ফিরদৌসী বেগম, সোনারপুর দক্ষিণের বিধায়ক লাভলী মৈত্র এবং রাজপুর সোনারপুর পৌরসভার উদ্যমী সিআইসি নজরুল ইসলাম মন্ডলের উদ্যোগে আয়োজিত বিশাল বর্ণাঢ্য পদযাত্রায়।
ইতিহাস বলে, 1869 সালে "দক্ষিণ সুবারবান পৌরসভা" স্থাপিত হয়েছিল, যা বেহালা নিয়ে গঠিত এবং দক্ষিণ 24 পরগণার চরম দক্ষিণ অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। শ্রী রায় বাহাদুর অম্বিকা চরণ রায় নবগঠিত পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান হয়েছিলেন যিনি জেলার দক্ষিণ অংশের দেখাশোনা করেন যার মধ্যে হরিণাভি, মালঞ্চ, ছনরিপোতা ইত্যাদি গ্রাম অন্তর্ভুক্ত ছিল।

রাজপুর সোনারপুর তার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্যের জন্য বিখ্যাত। কলকাতার দক্ষিণ অংশে অবস্থিত, এটি তার সুন্দর স্থাপত্য, ঐতিহাসিক নিদর্শন এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত। রাজপুর সোনারপুরের লুকানো রত্নগুলির মধ্যে একটি হল নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন, একটি বিখ্যাত শিক্ষা ও আধ্যাত্মিক প্রতিষ্ঠান।

রাজপুর সোনারপুরের আরেকটি বিখ্যাত আকর্ষণ হল চিন্তামণি কর পাখি অভয়ারণ্য, যা বিভিন্ন ধরণের বিদেশী এবং পরিযায়ী পাখির আবাসস্থল। এটি পাখি প্রেমী এবং প্রকৃতি প্রেমীদের জন্য একটি স্বর্গরাজ্য।

উপরন্তু, রাজপুর সোনারপুর তার প্রাণবন্ত সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যবাহী উৎসবের জন্য পরিচিত। স্থানীয় সম্প্রদায় সারা বছর ধরে বিভিন্ন উৎসব উদযাপন করে, যা এই অঞ্চলের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরে।