শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
”পশ্চিমবঙ্গের সচেতন ভোটাররা মনস্থির করে ফেলেছেন এই অর্বাচীন, তোষণবাজ, আপাদমস্তক দুর্নীতিগ্রস্ত দলটাকে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে গণতান্ত্রিক ভাবে বঙ্গোপসাগরে ছুঁড়ে ফেলবে। তাই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ঘন্টা বাজলেই, তৃণমূলের মৃত্যুঘণ্টা বাজবে।” এভাবেই মমতার উদ্দেশ্যে হুংকার দিয়ে তৃণমূলের মৃত্যু ঘন্টা বাজানোর চরম হুঁশিয়ারি দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
আজ শনিবার নদীয়া জেলার রানাঘাট রাম নবমী উদযাপন সমিতি আয়োজিত “শ্রীরাম নবমী উৎসব-২০২৫”-এর শুভ সূচনা করতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানেই “পুলিশকে সামনে রেখে হিন্দুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে” বলে অভিযোগ তুললেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রানাঘাটের ফ্রেন্ডস ক্লাব ময়দানে ভাষণ দেওয়ার আগে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “রামনবমী ভন্ডুল করার জন্য কি কি করছে জানেন? ডালখোলাতে বিজেপির ৫০ জন যুব নেতাকে আজকে ম্যাজিস্ট্রেটের নোটিশ দেওয়া হয়েছে যে ১ লক্ষ টাকার বন্ড লিখতে হবে। ডালখোলাতে ২০২৩ সালে রামনবমীতে হিন্দুদের ওপর জিহাদীরা হামলা করেছিল। আমার করা এনআইএ মামলায় ১৭ জন জিহাদি গ্রেফতার হয়েছে। অথচ সেখানকার হিন্দু যুবকদেরকে এক লক্ষ টাকার বন্ড দিতে হচ্ছে। খড়গপুর থেকে খবর এলো হিন্দু জাগরণ মঞ্চের তিনজন যুবককে বলা হয়েছে কাল সকাল ছটা থেকে সন্ধ্যা ছটা খড়গপুর টাউন থানাতে আটক করা হবে, সেজন্য তাদের মোবাইল ফোন জমা দিয়ে বসে থাকতে হবে। এ তো হিন্দুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। হিন্দুদের বিরুদ্ধে পুলিশকে সামনে রেখে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।”
রানাঘাটে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “যে মাটিতে আমরা দাঁড়িয়ে আছি সেখানে ১১২ ফুট উঁচু দুর্গা মূর্তি তৈরি হওয়ার পরেও পুজো করতে দেয় নাই মমতা ব্যানার্জির সরকার। অথচ উত্তর ২৪ পরগনা ১১০ ফুট উঁচু মূর্তি পূজার অনুমতি পেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের একজন কাউন্সিলর। এদের মানসিকতাটা কি তাতেই পরিষ্কার। রানাঘাটের পাশের গ্রামে মূর্তি তৈরি করেও পূজা করতে পারেনি। তাদের চোখের জল ফেলতে হয়েছে। তাই এই সরকার সম্পূর্ণভাবে হিন্দু বিরোধী সরকার। যার মুখ্যমন্ত্রী ২০২৪ সালের ২২শে জানুয়ারি রাম মন্দির উদ্বোধনের দিন মিছিল করেন কলকাতার পার্ক সার্কাসে। এই কাজে তিনি দেশের মধ্যে এক নম্বর মুখ্যমন্ত্রী।”
তিনি বলেন, “যে মুখ্যমন্ত্রী মহাকুম্ভকে মৃত্যুকুম্ভ বলেন, যেখানে ৬৬ কোটি হিন্দু স্নান করেছে, এই মুখ্যমন্ত্রীই কয়েকদিন আগে ঈদের নামাজে অংশগ্রহণ করে হিন্দু ধর্মকে গন্দা ধর্ম বলেছেন। এগুলোর পরে এই সরকার যে হিন্দু বিরোধী তার প্রমাণ লাগবে বলে আমার মনে হয় না। জাগো হিন্দু ঐক্যবদ্ধ হও। হিন্দু যদি বাঁচতে চাও বিভেদ ভুলে এক। সরস্বতী পূজার শক্তি দেখিয়েছো কালকেও শক্তি দেখাও।”

রামনবমী প্রসঙ্গে তিনি আহ্বান জানান, “বাড়িতে থাকবেন না। রাস্তায় নামুন। মোটর বাইকে ধ্বজ লাগান। দেখা হলেই জয় শ্রীরাম বলুন। কপালে তিলক লাগান। যেখানেই রাম পুজো হবে, যেখানেই শোভাযাত্রা হবে, মায়েরা শাঁখ নিয়ে, ছেলেরা জয় শ্রীরামের ধ্বজ নিয়ে অংশগ্রহণ করে কাল বাংলার হিন্দুরা, প্রভু শ্রী চৈতন্যদেবের মাটিতে আমি বলে যাই, যিনি নবদ্বীপের মাটিতে রামরাম স্লোগানের মধ্যে তিনি রাম নামে জয়গান করেছিলেন, সেই মাটি থেকে রাম নবমীর শুভেচ্ছা এবং সফলতা কামনা করি।”