সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
“হালখাতার সাথে সাথে রাজ্যের হাল ফেরানোর প্রার্থনা করুন।” এভাবেই বাংলা নববর্ষের দিন আরো একবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বাংলায় সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক অশান্তির পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর পাল্টা মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে।
নববর্ষের সকালেও রাজনীতির উত্তাপ। তমলুকে নববর্ষের শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে রাজ্যের হাল ফেরানোর ডাক শুভেন্দুর। হালখাতা নয়, বিরোধী দলনেতার হাতে দেখা গেল ‘হাল ফেরানোর খাতা’। তৃণমূল সরকারকে নিশানা শুভেন্দুর। এক্স হ্যান্ডেলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নববর্ষের শুভেচ্ছা নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না শুভেন্দু অধিকারী।
তমলুকের প্রসিদ্ধ বর্গভীমা মন্দিরে পুজো দেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকে বেরিয়ে বিরোধী দলনেতা জানান, রাজ্যের হাল ফেরানোর খাতায় সিঁদুর লাগিয়ে এসেছেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি বলেন, “সবাই নিজেদের হাল ফেরানোর সঙ্গে রাজ্যের হাল ফেরানোর প্রার্থনা করুন। এই রাজ্যের অবস্থা বেহাল। হিন্দুদের বাড়িতে ঢুকে জবাই করছে। হিন্দু পলায়ন হচ্ছে। তাই হালখাতার সাথে সাথে রাজ্যের হাল ফেরানোর প্রার্থনা করুন।”
মুর্শিদাবাদের পর ওয়াকফ প্রতিবাদে উত্তপ্ত হয়েছে ভাঙড়। পুলিশমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ব্যর্থ বললেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “ভাঙড়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী চাইব না। ওখানে তো মমতার পুলিশ আক্রান্ত হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী চাইবে। যেখানে হিন্দুরা আক্রান্ত হবেন সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী চাইব। আপনি ব্যর্থ, পুলিশমন্ত্রী হিসেবে আপনি ব্যর্থ। বাংলায় আনসারুল বাংলা কাজ করছে। বিএসএফকে জমি দেওয়া হচ্ছে না।” নববর্ষের সকালে এক্স হ্যান্ডেলে রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তা নিয়েও তৃণমূল সুপ্রিমোকে আক্রমণ শুভেন্দু অধিকারীর। মমতা পোস্টে বাংলা গানের অংশ উদ্ধৃত করে লেখেন, “আমি বাংলায় গান গাই। বাংলা দিবস-এ সকল নাগরিককে জানাই শুভনন্দন এবং ছোট ছোট ভাইবোনেদের জানাই অনেক শুভেচ্ছা।”
পাল্টা শুভেন্দু লেখেন, “রোম যখন পুড়ছিল, সম্রাট নিরো তখন বাঁশি বাজাচ্ছিলেন! রাজ্যে যখন সাম্প্রদায়িক হিংসার আগুন জ্বলছে, আপনিও গান গাইবেন সেটাই স্বাভাবিক… তবে গানের সুরটা বেসুরো হয়ে গেলো! নাগরিকদের ‘শুভনন্দন’ জানানোর আগে যে সকল ‘বরাহ-নন্দন’ দাঙ্গা করছে, সরকারি সম্পত্তি পোড়াচ্ছে, খুন করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করলে রাজ্যে নাগরিকরা নিজেদের সুরক্ষিত মনে করত।”