সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
হৃদরোগে আক্রান্ত রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। আচমকা বুকে যন্ত্রণা শুরু হওয়ায় তড়িঘড়ি তাঁকে কমান্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসা চলছে তাঁর। তবে পরবর্তী চিকিৎসার জন্য তাঁকে স্থানান্তরিত করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। সোমবার কমান্ড হাসপাতালে তাঁকে দেখতে ছুটে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নির্দেশে রাজ্যপালকে দেখতে যান এসএসকেএম-এর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।
বর্তমানে রাজ্যপালের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। তবে, তাঁর আর্টারি বা ধমনীতে ব্লকেজ ধরা পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। এদিন সকালে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এসএসকেএম-এর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যান রাজ্যপালকে দেখতে। সূত্রের খবর, অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টিতে কাজ হবে না, ওপেন হার্ট সার্জারি করতে হবে।
সদ্য ফিরেছেন অশান্ত মুর্শিদাবাদ পরিদর্শন করে। এরই মধ্যে প্রকাশ্যে এলো তাঁর অসুস্থতার খবর। জানা গিয়েছে, অসুস্থ রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। হার্টে ব্লকেজ পাওয়া গিয়েছে তাঁর। তাঁর বাইপাস সার্জারিও হতে পারে বলে খবর মিলছে।
রাজ্যপালের অসুস্থতার খবর পেয়ে সোমবার সকালে আলিপুর কম্যান্ড হাসপাতালে তাঁকে দেখতে ছুটে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রাজ্যপালের শরীর খারাপ। দেখে এলাম। চিকিৎসা চলছে। আশা করছি তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।”
বর্তমানে রাজ্যপালকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে এনজিওগ্রাফি বা বাইপাস সার্জারির মতো পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেই হাসপাতাল সূত্রে খবর। রাজ্যপালের নিরাপত্তা ও চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। আরও জানা গিয়েছে যে, আলিপুর কম্যান্ড হাসপাতালে মাঝেমধ্যেই শারীরিক পরীক্ষা করাতে আসেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। সোমবার সকালেও সেখানে গিয়েছিলেন তিনি স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে। জানা গিয়েছে, রাজ্যপালের স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর তাঁর হার্টে দুটি ব্লকেজ ধরা পড়ে। তড়ঘড়ি তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর সিদ্ধান্ত নেয় চিকিৎসকরা। সেখানেই চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন বাংলার রাজ্যপাল।
জানা গিয়েছে, বাইপাসের ধারের একটি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসককে দিয়ে অপারেশন করাতে চান রাজ্যপাল। ইতিমধ্যেই সেই হাসপাতাল থেকেও টিম পৌঁছেছে কমান্ড হাসপাতালে। চিকিৎসক সুশান মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গিয়েছে ওই টিম। পরবর্তী চিকিৎসা কীভাবে হবে, তা নিয়ে আলোচনা হবে।

আপাতত চিকিৎসকরা রাজ্যপালের সব রিপোর্ট খতিয়ে দেখছেন। তাঁকে ওই বেসরকারি হাসপাতালে কবে স্থানান্তরিত করা হবে, সে ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আজ স্থানান্তরিত করা সম্ভব হবে না বলেই জানা গিয়েছে।