সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
“আমি গত ৩ বছর ধরে দলের কোন কর্মসূচিতে থাকি? আমি নিজের কর্মসূচি নিজেই তৈরি করি।” দীঘায় জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের দিনে সেখানে যাওয়ার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকের পর থেকে বিজেপি এবং আরএসএস-এর পক্ষ থেকে যেভাবে দিলীপ ঘোষকে কার্যত সেন্সর করা হয়েছে তারপরে নিজেই নিজের কর্মসূচি বানিয়ে নিচ্ছেন বলে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি।
শনিবার সকালে নিউটাউনের ইকো পার্কে মর্নিং ওয়ার্ক করার সময় তিনি বলেন, “আমার তো অফিসিয়াল কোনও কর্মসূচি নেই। আমি সকালে মিডিয়া করছি। অরাজনৈতিক প্রোগ্রামে যাচ্ছি। কালও বাইরেই ছিলাম। আমার তো আপাতত কোনও পলিটিক্যাল কর্মসূচি নেই। থাকে না মাঝেমাঝে। রেস্ট দরকার আছে তো। আমি তো ঘুরে এসে রেস্ট নিলাম বাড়িতে। সকাল থেকে মিডিয়া, কত লোক দেখা করতে আসে। তাদের সময় দিতে হয়। সেটা তো কর্মসূচির মধ্যে থাকে না। আমি এই নিয়ে কোনওদিনই ভাবিত নই। সামাজিক বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যাই। সব কর্মসূচি লেখা থাকে না। পাবলিক প্রোগ্রামগুলো লেখা থাকে।”
দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরে যাওয়া নিয়ে চাপানউতোরের মধ্যে বিজেপির কেন্দ্রীয় কোনও নেতা কি কথা বলেছেন দিলীপ ঘোষের সঙ্গে? গত ৩ দিন ধরেই এই নিয়ে জল্পনা চলছে। এদিন দিলীপ স্পষ্ট করে দিলেন, এখনও পর্যন্ত বিজেপির কোনও কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে তাঁর এই নিয়ে কথা হয়নি।
তাহলে কি রাজ্য বিজেপি-তে এই মুহূর্তে একা হয়ে গিয়েছেন দিলীপ? তাঁর সাফ জবাব, “আমি কারও সমর্থন চাই না। নিজের নীতি মেনে কাজ করি। বিমানে চাপিয়ে দিল্লি নিয়ে গিয়ে যখন লোকজনকে দলে যোগ দেওয়ানো হতো, আমাকেও ডাকা হতো। কিন্তু আমি যেতাম না। বলেছিলাম, আমি বাংলার রাজনীতি করি। কারও বাড়ির সামনে কখনও হাতজোড় করে দাঁড়াইনি। দিল্লিতে কারও অ্যাপয়েন্টমেন্ট চাইনি আমি।”
মমতার আমন্ত্রণে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে যাওয়ায় যে সমালোচনার ঝড় উঠেছে বিজেপি-র অন্দর থেকে, তা নিয়ে দিলীপের বক্তব্য, “আমি পার্টি দাঁড় করিয়েছি। সেই পার্টিতে বাইরে থেকে যাঁরা এসেছেন, তাঁরা এখন বড় বড় কথা বলছেন। দিলীপ ঘোষ সৌজন্য দেখিয়েছে।”

বিজেপির একের পর এক নেতা তাঁকে আক্রমণ করছেন। বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ তাঁকে ক্লোজড চ্যাপ্টার বলেছেন। বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দাও আক্রমণ করেছেন। এই নিয়ে কারও নাম না করে দিলীপ বলেন, “আগেও এরকম অনেকে বলেছে। পরে পায়ে হাত দিয়ে ক্ষমা চেয়েছে। হঠাৎ বিজেপি যারা, তারা অনেক কিছু বলবে। তার উত্তর দেওয়ারও দরকার নেই। সবার বলার অধিকার আছে। আমি কারও সমর্থন চাই না। আমি নিজের প্রিন্সিপ্যাল মেনে কাজ করি। দিল্লিতে যখন বিমানে করে নিয়ে গিয়ে লোক জয়েন করানো হত, তখন আমাকে ডাকা হত। আমি যেতাম না। বলেছিলাম আমি বাংলার রাজনীতি করি। আমি কোনওদিন কারও বাড়ির সামনে হাতজোড় করে দাঁড়াইনি। দিল্লিতে কারও অ্যাপয়েনমেন্ট চাইনি। আমি পার্টি দাঁড় করিয়েছি। সেই পার্টিতে যাঁরা অন্য পার্টি থেকে এসেছেন, তাঁরা এখন বড় বড় কথা বলছেন। আমি মমতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে ওখানে গিয়ে যে সৌজন্য দেখিয়েছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে সেটা দেখাতে পারেননি।”