শৌভিক তালুকদার। কলকাতা সারাদিন।
মার্কিন রাজনীতিতে এলন মাস্ক এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংঘাত এক নতুন মাত্রা লাভ করেছে। এই সংঘাতের শুরু হয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে টেসলাকর্তা এলন মাস্কের কঠোর সমালোচনার মাধ্যমে। পরিস্থিতি আরও তীব্র হয় যখন ট্রাম্প মাস্ককে আমেরিকা থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন।
এই সংঘাতের মূল কারণ ছিল ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল’ নামে একটি বিল, যার উদ্দেশ্য ছিল সরকারি ব্যয় সংকোচ। ট্রাম্প এই বিলের পক্ষে থাকলেও, মাস্ক শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করেন। মাস্কের অভিযোগ, এই বিল পাশ করার আগে তাকে কিছু জানানো হয়নি এবং এটি চুপিচুপি মধ্যরাতে পাশ করা হয়েছে।
মাস্কের মতে, এই বিলের ফলে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, যদি এই বিল পাশ হয়, তাহলে তিনি ‘আমেরিকা পার্টি’ নামক নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করবেন, যা ডেমোক্র্যাট এবং রিপাবলিকানদের বাইরে দেশের সাধারণ জনগণের জন্য বিকল্প হয়ে উঠবে।
এই পরিস্থিতির পরেই ট্রাম্প মাস্ককে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি জানান, মাস্ক টেসলা ও অন্যান্য কোম্পানির জন্য যে পরিমাণ সরকারি ভর্তুকি পেয়েছেন, তা অতীতে কেউ পাননি। ট্রাম্পের হুমকি ছিল, যদি মাস্ক এই বিলের বিরোধিতা করতে থাকে, তাহলে তাকে দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরে যেতে হবে। যদিও এলন মাস্ক জন্মসূত্রে দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক, তিনি বর্তমানে মার্কিন নাগরিক।

এদিকে, মাস্ক ট্রাম্পের বিরুদ্ধে পালটা মন্তব্য করেন এবং বলেন, “এই সংঘাত আরও তীব্র করো, তবে আমি এখন এসব এড়িয়ে যাচ্ছি।” তিনি এটাও জানান যে, যদি ট্রাম্প তাকে না পেতেন, তাহলে ডেমোক্র্যাটরা হোয়াইট হাউস দখল করত। সংঘাতের মধ্যেই মাস্ক তার প্রশাসনিক পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
এই সংঘাতের ফলে আমেরিকার রাজনৈতিক দৃশ্যপটে এক নতুন দিক উন্মোচিত হয়েছে এবং তা ভবিষ্যতে দেশের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে।