সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
বিধায়ক পদে শপথ নিলেন নবনির্বাচিত কালীগঞ্জের বিধায়ক আলিফা আহমেদ। উপনির্বাচনে জয়ের মাত্র ৯ দিনের মাথায় বিধানসভার নৌশের আলি কক্ষে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।
এই অনুষ্ঠানে রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। এদিনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, পঞ্চায়েত ও গ্রাম উন্নয়ন মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার, মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, মলয় ঘটক, সুজিত বসু এবং মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষ সহ শাসকদলের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি।
শপথ গ্রহণের পর আলিফা আহমেদ তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মতোই কাজ করব। বাবার বাকি থাকা কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব।” মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী আমাকে আইটি কর্মী থেকে একজন বিধায়ক হওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। তার জন্য কৃতজ্ঞ থাকব।” একইসাথে, নির্বাচনের সময় কৌশল নির্ধারণে সহায়তার জন্য তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ধন্যবাদ জানান। তাঁর এই মন্তব্য দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য এবং জনসেবার অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।
অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় শপথবাক্য পাঠ করানোর পর আলিফা আহমেদ দ্রুত তাঁর বাবার অসমাপ্ত কাজ বুঝে নেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “বিধানসভার রীতিনীতি অনুযায়ী, তিনি বিধায়কের দায়িত্ব পালন করুন।” এদিনের অনুষ্ঠানে আলিফা আহমেদের পরিবার থেকে তাঁর স্বামী ও সন্তান উপস্থিত ছিলেন, যা এই বিশেষ মুহূর্তটিকে আরও আবেগঘন করে তোলে।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কালীগঞ্জ কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন নাসিরউদ্দিন আহমেদ ওরফে লাল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হলে কেন্দ্রটি বিধায়ক শূন্য হয়ে যায়। নির্বাচন কমিশন সেই শূন্য আসনে উপনির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয় এবং তৃণমূল প্রয়াত বিধায়কের কন্যা আলিফাকে প্রার্থী করে।

গত ১৯ জুন অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে আলিফা আহমেদ বিজেপি এবং বাম-কংগ্রেস জোটের প্রার্থীদের পরাজিত করে বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেন। ২৩ জুন প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, তিনি বিজেপি প্রার্থী আশিস ঘোষকে ৫০,০৪৯ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন।