সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
জন্ম থেকে কোচবিহার জেলার দিনহাটা মহকুমার চৌধুরীহাটের সাদিয়ালের কুঠিতে বসবাস, পঞ্চাশ বছরের জীবনে কখন কোচবিহার জেলা ছাড়েননি। তবুও আসাম সরকার তাকে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করে পাঠাল নোটিশ। প্রমাণ দিতে না পারলে চলতি মাসের ১৫ই জুলাইয়ের পর তাকে “অনুপ্রবেশকারী” হিসেবে ঘোষণা করা হবে বলেও সেই নোটিশে উল্লেখ রয়েছে।
উক্ত ব্যক্তি উত্তম কুমার ব্রজবাসী জানান, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে জেলা পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে তার বাড়িতে একটি এনআরসি সংক্রান্ত নোটিশ এসে পৌঁছায়। প্রতিবেশীদের সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি জানতে পারেন, নোটিশটি আসাম সরকারের পক্ষ থেকে এসেছে। অভিযোগ, সেখানে বলা হয়েছে, তিনি ১৯৬৬ থেকে ১৯৭১ সালের মধ্যে অসম সীমান্ত অতিক্রম করে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছেন এবং দিনহাটার সাদিয়ালের কুঠিতে বসবাস করছেন। আরও বলা হয়েছে, পুলিশের যাচাই-বাছাইয়ের সময় তিনি নাকি বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
এই বিষয়ে উত্তমবাবুর আইনজীবী অপূর্ব সিনহা জানান, এনআরসি সংক্রান্ত মামলাটি আসাম সরকার শুরু করেছিল ২০১৫ সালে, অথচ সেই নোটিশ কোচবিহার জেলা পুলিশের দপ্তরে এসে পৌঁছায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে। তারও একমাস পরে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে, সেই নোটিশ উত্তমবাবুর হাতে আসে।
তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার যেখানে এনআরসি-কে আইনত স্বীকৃতি দেয় না, সেখানে অসমের এনআরসি নোটিশ জেলা পুলিশ সুপার কীভাবে গ্রহণ করলেন, সেটাই বড় প্রশ্ন। আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, উত্তমবাবুর বৈধ নাগরিকত্বের পক্ষে জমা দেওয়া বেশিরভাগ কাগজপত্রই অসম সরকার নাকচ করে দিয়েছে। বর্তমানে অসম প্রশাসনের দাবি, ১৯৬৬ সাল থেকে লাগাতার ভোটার তালিকায় তার নাম থাকার প্রমাণ দিতে হবে। অথচ রাজ্য প্রশাসন নিজেই ১৯৬৬ সালের ভোটার তালিকা সরবরাহ করতে পারছে না।

রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপের বার্তা
বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন রাজ্যের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ। তিনি বলেন, “উত্তম কুমার ব্রজবাসী শুধু ভারতীয় নাগরিক নন, তিনি তপশিলি তালিকাভুক্ত মানুষও। কামরূপ জেলার এসপি কী সাহসে কোচবিহারের নাগরিককে এমন নোটিশ পাঠান? কে কোন ভিত্তিতে তাঁকে অনুপ্রবেশকারী বলছে? এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করব।” তিনি আরও জানান, নিজে ব্যক্তিগতভাবে উত্তমবাবুর বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেবেন এবং প্রয়োজনে বিষয়টি নিয়ে বৃহত্তর স্তরে শোরগোল তোলা হবে।
নাগরিকত্বের লড়াইয়ে দাঁড়িয়ে এক দিনহাটা বাসিন্দা, প্রশাসনিক দ্বন্দ্বে প্রশ্নের মুখে নাগরিক অধিকার।