সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
ভারতের ৭৯তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রেড রোডে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং কুচকাওয়াজে যোগ দিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশবাসীর উদ্দেশে এক আবেগঘন বার্তা দিলেন।
বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার অবদান তুলে ধরে তিনি বলেন, “লড়াই আমাদের রক্তে। আজও আমরা অন্যায় দেখলে গর্জে উঠি। আগামীদিনেও প্রতিটি দেশবাসীর সম্মান রক্ষার জন্য আমাদের লড়াই চলবে।”
বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্যে বাংলার সেই মহান স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্মরণ করেন, যাঁদের আত্মত্যাগ আজও প্রেরণা জোগায়। তিনি নাম নেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, ক্ষুদিরাম বসু, প্রফুল্ল চাকী, কানাইলাল দত্ত, বিপিনচন্দ্র পাল, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, মাতঙ্গিনী হাজরা, মাস্টারদা সূর্য সেন, বিনয়-বাদল-দীনেশ এবং বাঘা যতীনের মতো মহাপুরুষদের।
তিনি বলেন, “এই বাংলাই সেদিন বিদেশী শক্তির বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছিল। স্বাধীনতার জন্য জীবন-মৃত্যুকে পায়ের ভৃত্য করেছিলেন আমাদের পূর্বপুরুষ।”

বাংলা নবজাগরণের মনীষীদের প্রতি প্রণাম
মমতা রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস, স্বামী বিবেকানন্দ, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন কিভাবে এই মনীষীরা বাংলা ও ভারতের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানসিক উন্নয়নে পথপ্রদর্শক হয়েছেন।
তিনি বলেন, “যত মত তত পথ” – এই দর্শন, “বন্দে মাতরম” গান, “চিত্ত যেথা ভয়শূন্য” প্রার্থনা – সবই আমাদের অন্তরে স্বাধীনতার চেতনা জাগিয়ে রেখেছে।”
বাংলা ভাষার উপর আক্রমণ প্রসঙ্গে সতর্কতা
স্বাধীনতা দিবসের দিনেও মমতা বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার কথা বলেন। তিনি সতর্ক করে দেন যে বাংলা সংস্কৃতি ও ভাষার উপর যে কোনও আক্রমণ বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর দাবি, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার জন্য বাংলার মানুষ সর্বদা ঐক্যবদ্ধ থাকবে।
রেড রোডের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর অংশগ্রহণ
প্রতিবারের মতো এবারও রেড রোডে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন মুখ্যমন্ত্রী। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান, গার্ড অফ অনার গ্রহণ করেন এবং রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরের ট্যাবলো পরিদর্শন করেন। কলকাতা পুলিশের বিভিন্ন শাখার কুচকাওয়াজও এদিন নজর কাড়ে।
পুলিশ আধিকারিকদের সম্মাননা প্রদান
রাজ্যের শান্তি ও সুরক্ষা বজায় রাখায় অসামান্য অবদানের জন্য ৬ জন পুলিশ আধিকারিককে সম্মানিত করেন মুখ্যমন্ত্রী।
চিফ মিনিস্টার পুলিশ মেডেল ফর আউটস্ট্যান্ডিং সার্ভিস: আইজি (মালদহ রেঞ্জ) দীপ নারায়ণ গোস্বামী, গৌরব শর্মা, মিরাজ খালিদ, দেবস্মিতা দাস।
চিফ মিনিস্টার পুলিশ মেডেল ফর কমেন্ডেবল সার্ভিস: ঝাড়গ্রামের পুলিশ সুপার অরিজিৎ সিনহা, বাঁকুড়ার এসআই ঈশ্বর সোরেন।
অসুস্থ ছাত্রছাত্রীদের খোঁজ নিতে হাসপাতালে মমতা
কুচকাওয়াজ চলাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়েন প্রায় ৩৫ জন পড়ুয়া। দ্রুত তাঁদের এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজে হাসপাতালে পৌঁছে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ছাত্রছাত্রীদের আশ্বস্ত করেন। পরে তিনি জানান, “চিন্তার কিছু নেই। সকলে সুস্থ আছেন, ডিহাইড্রেশনের কারণে অসুস্থ হয়েছিলেন।”
মমতার বার্তা – লড়াই চলবে
দিনের শেষ ভাগে মুখ্যমন্ত্রী সামাজিক মাধ্যমে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে লেখেন, “যে সোনার দেশের স্বপ্ন দেখে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামীরা জীবন দিয়েছেন, সেই দেশ গড়ে তুলতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আমি নিশ্চিত, এই লড়াইয়ে মানুষ আমাদের পাশেই থাকবেন। জয় হিন্দ! বন্দেমাতরম! জয় বাংলা!”