কনিষ্ক সামন্ত। কলকাতা সারাদিন।
“নন্দীগ্রাম বিধানসভার নন্দীগ্রাম ২ নং ব্লকের বিরুলিয়া সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতি লিঃ-এর পরিচালক মণ্ডলীর নির্বাচনে ১২-০ ফলাফলে চোরেদের পরাজিত করে রাষ্ট্রবাদী প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন।” এভাবেই আজ নিজের বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রামের একটি সমবায় সমিতিতে বিজেপি সমর্থিত প্রার্থীদের একচেটিয়া জয়ের পরে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “রাষ্ট্রবাদীদের নির্বাচিত করার জন্য ভোটদাতা সকল সমবায়ী বন্ধুদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি এবং নির্বাচিত সকল সদস্যদের জাতীয়তাবাদী গৈরিক অভিনন্দন জানাই।”
নন্দীগ্রামের সমবায় নির্বাচনে বিপুল জয়ের পাশাপাশি আজ হলদিয়ায় তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির নেতৃত্ব ও কার্যকর্তাদের সাথে বিশেষ সাংগঠনিক বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন বিরোধী দল নেতা শুভেন্দু অধিকারী।
অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল যখন দেশজুড়ে বাংলা এবং বাঙালি অস্মিতার পক্ষে লড়াইয়ের জন্য দিনরাত গলা ফাটাচ্ছে, সেই সময় বাংলার বুকে বাংলার গর্ব নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে অপমানের বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বিরোধী দলনেতা।
রবিবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে কয়েকটি ছবি পোস্ট করে তৃণমূলের বাংলা এবং বাঙালি প্রেম নিয়ে তীব্র ব্যঙ্গ করে শুভেন্দু অধিকারী লেখেন, “তোলামূলের বাংলা ও বাঙালি প্রেম… ছবিটি কৃষ্ণনগর পৌরসভার যাত্রী প্রতীক্ষালয়ের, যেখানে দেশনায়ক নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু, প্রণম্য কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায় থেকে প্রাতঃস্মরণীয় স্বামী বিবেকানন্দ তিনজনের ছবি লাগানো রয়েছে। এখন জায়গাটি আবর্জনা স্তুপে পরিণত করেছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করতে চাই এই আপনাদের বাংলা বাঙালি প্রীতি? আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ওনার দলীয় নেতৃত্ব বাংলা ও বাঙালি জাতির আবেগকে ভোট ব্যাঙ্কের রাজনীতির জন্য কাজে লাগাতে জানেন, প্রকৃত সম্মান করেন না। একদিকে দেশের যশস্বী প্রধানমন্ত্রী দিল্লিতে ‘কর্তব্য পথে’ দেশনায়ক নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর মূর্তি স্থাপন করেন আর অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত পৌরসভা নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু ও দেশপ্রেমিক কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের জন্মভূমি কৃষ্ণনগরেই ওনার ছবি ছিঁড়ে ঐ জায়গাটি কে আবর্জনার স্তুপে পরিণত করে। আসলে দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূল দল এবং তোষণবাজ তৃণমূল সরকার বাংলা ও বাঙালি বিদ্বেষী।”