সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
জাতীয় নির্বাচন কমিশনের চালু করা ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার চাপ নিতে না পেরে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হলেন নদীয়ার আরো এক বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও। গত কয়েকদিনে রাজস্থান কেরালা তামিলনাড়ু এবং গুজরাটে একের পর এক বুথ লেভেল অফিসার এসআইআরের চাপ নিতে না পেরে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন। বাংলাতেও ইতিমধ্যেই আত্মহত্যা করেছেন অন্তত আরো দুই। এবার ঘটনাস্থল নদীয়া।
নদিয়ার কৃষ্ণনগরের ষষ্ঠীতলায় এক বিএলও গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হলেন। মৃতার নাম রিঙ্কু তরফদার (৫১)। তিনি একটি সুইসাইড নোটও লিখে গিয়েছেন। যেখানে তিনি লিখেছেন, “বিএলও-র কাজ তুলতে না পারলে প্রশাসনিক চাপ আসবে। তা আমার পক্ষে নেওয়া সম্ভব নয়।” তাঁর মৃত্যুর জন্য নির্বাচন কমিশনকেও দায়ী করেছেন রিঙ্কু তরফদার।
নদিয়ার চাপড়া থানার বাঙালঝি এলাকার স্বামী বিবেকানন্দ বিদ্যামন্দিরের পার্শ্বশিক্ষক ছিলেন রিঙ্কু তরফদার। বাঙালঝি এলাকায় বিএলও-র দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। এদিন বাড়িতে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। একটি সুইসাইড নোটও পাওয়া গিয়েছে।
সেখানে মেয়েদের উদ্দেশে তিনি লিখেছেন, “বাবার খেয়াল রাখিস। আমার কিছুই করার নেই। আমার সংসার ছেড়ে যেতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। নিজে হাতে করে এই সংসার পাতা।” এরপরই লেখা রয়েছে, “বিএলও কাজ তুলতে না পারলে প্রশাসনিক চাপ আসলে তা আমার পক্ষে নেওয়া সম্ভব নয়।”
তাঁর মৃত্যুর জন্য নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করে ওই বিএলও লিখেছেন, “আমার এই পরিণতির জন্য নির্বাচন কমিশন দায়ী। আমি কোনও রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করি না। খুবই সাধারণ মানুষ।
কিন্তু এই অমানুষিক কাজের চাপ আমি নিতে পারছি না। আমি একজন পার্শ্বশিক্ষিকা। বেতন পরিশ্রমের তুলনায় খুবই কম। কিন্তু, এরা আমাকে ছাড় দিল না।”

রাজস্থান কেরালা তামিলনাড়ু এবং বাংলায় এর আগেই জাতীয় নির্বাচন কমিশনের চাপে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন আরো অন্তত ৮ বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও। এতদিন ধরে ভারতীয় জনতা পার্টির নেতারা শুধুমাত্র বিরোধী শাসিত রাজ্যে এমন ঘটনা ঘটছে বলে আত্মহত্যার বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজের রাজ্য গুজরাতে এমন ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরে মুখে কুলুপ এঁটেছেন দেশের ভাজপা নেতারা।
প্রসঙ্গত জাতীয় নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিজেদের রাজনৈতিক প্রভুদের খুশি করার জন্য যে কাজ তিন বছরে হওয়া উচিত সেই কাজ মাত্র তিন মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য বুথ লেভেল অফিসার বা বি এল ওদের উপরে অস্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক চাপ তৈরি করছে বলে তারা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হচ্ছেন এমন অভিযোগ জানিয়ে গতকাল দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ চিঠি দিয়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি সেই চিঠিতে মমতা আবেদন জানিয়েছিলেন সঠিক পরিকল্পনা করে যথেষ্ট সময় হাতে রেখে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয় ভাবনা চিন্তা করুক নির্বাচন কমিশন এবং তার আগে এইভাবে তৈরি করি এসআইআর প্রক্রিয়া চালানো স্থগিত রাখা হোক। মমতার আবেদন যে যথাযথ ছিল তার প্রমাণ আজ মিলল আরো একবার প্রধানমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজের রাজ্য গুজরাটে এই আত্মহত্যার ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরে।