শৌনক মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর অপব্যবহার করে নারীদের সম্মানহানির এক ভয়াবহ প্রবণতা সামনে আসতেই কেন্দ্রীয় সরকারের কড়া হস্তক্ষেপ দাবি করলেন শিবসেনা (UBT)-এর সাংসদ প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী। কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে লেখা একটি চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেছেন, এলন মাস্কের মালিকানাধীন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘X’-এর AI টুল ‘Grok’ ব্যবহার করে মহিলাদের অশ্লীল ও বিকৃত ছবি তৈরি করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অনৈতিক এবং অপরাধমূলক।
প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী তাঁর চিঠিতে লিখেছেন, বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি গভীরভাবে উদ্বেগজনক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ‘X’-এর AI ফিচার ‘Grok’-কে ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি ভুয়ো বা জাল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে নারীদের ছবি পোস্ট করছে। এরপর সেই ছবিগুলোর ওপর এমন সব প্রম্পট দেওয়া হচ্ছে, যার মাধ্যমে AI সংশ্লিষ্ট নারীদের পোশাক পরিবর্তন করে বা তাঁদের যৌন আবেদনময়ী রূপে উপস্থাপন করছে।
সাংসদের অভিযোগ, বিষয়টি কেবল জাল অ্যাকাউন্ট বা অনুমতি ছাড়া ব্যবহৃত ছবির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যেসব নারী স্বেচ্ছায় সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের ছবি শেয়ার করছেন, তাঁদেরও একইভাবে টার্গেট করা হচ্ছে। এই প্রবণতা নারীদের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার ওপর সরাসরি আঘাত বলেই মনে করছেন তিনি।
প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদীর মতে, ‘Grok’-এর মতো একটি AI টুল এই ধরনের কুরুচিকর ও আপত্তিকর প্রম্পট গ্রহণ করছে এবং তার ভিত্তিতে ছবি তৈরি করছে—যা একজন নারীর ব্যক্তিগত মর্যাদা ও ‘Right to Privacy’-এর চরম লঙ্ঘন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন, এটি শুধু অনৈতিক কাজ নয়, বরং একেবারে ‘ক্রিমিনাল অ্যাক্ট’। ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার করে এভাবে নারীদের শ্লীলতাহানি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
চিঠিতে তিনি আরও লেখেন, ভারত এই ধরনের ডিজিটাল সন্ত্রাসের নীরব দর্শক হয়ে থাকতে পারে না। তাই তিনি কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, অবিলম্বে ‘X’ প্ল্যাটফর্মের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হোক এবং প্রয়োজন হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একইসঙ্গে, AI টুলগুলোর ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থা ও স্পষ্ট নীতিমালা তৈরির দাবিও তুলেছেন তিনি।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, গত মাসেই সংসদে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ‘ডিপফেক’ ও AI-এর অপব্যবহারকে গণতন্ত্র এবং সামাজিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি বলে উল্লেখ করেছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটেই প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদীর এই চিঠি নতুন করে AI নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জাতীয় স্তরে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

নারী অধিকার সংগঠন ও সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকেও এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে। অনেকেই মনে করছেন, প্রযুক্তির অগ্রগতির অজুহাতে নারীদের সম্মান ও নিরাপত্তা বিপন্ন হতে দেওয়া যায় না। এখন দেখার, কেন্দ্রীয় সরকার এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ নেয়।