সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
‘আনন্দপুরে ২৫ মৃত্যুর দায় মুখ্যমন্ত্রীর হলে এসআইআর-এ ১৪০ মৃত্যুর দায় কার?’ আজ শনিবার ব্যারাকপুরের কর্মী সভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মৃত্যুর জন্য মমতাকে দায়ী করার কিছুক্ষণের মধ্যেই পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে অভিষেক অমিত শাহের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘যদি ২৫ মৃত্যুর জন্য রাজ্য সরকার দায়ী হয়, তাহলে এসআইআর প্রক্রিয়ায় ১৪০ জনের মৃত্যুর দায় কেন্দ্রের নয় কি?’ মোমো কারখানার অগ্নিকাণ্ডকে তৃণমূল সরকারের দুর্নীতির ফল হিসেবে উল্লেখ করে অমিত শাহ বলেন, ‘এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, মমতা ব্যানার্জির সরকারের দুর্নীতির ফল। অগ্নিকাণ্ডে কারখানা দরজায় তালা লাগানো ছিল, লোকেরা ভিতরে আটকে মারা গেছে এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।’
শনিবার বাংলায় এসে জোড়া কর্মীসভা থেকে থেকে যে সমস্ত ইস্যুতে তৃণমূল তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আক্রমণ শানিয়েছিলেন, তার প্রত্যেকটি ধরে ধরে পাল্টা জবাব দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘১০ লক্ষ কোটি টাকা বাংলাকে দেওয়া হয়েছে’ মন্তব্যের পালটা দিয়ে অভিষেক বলেন, গত পাঁচ বছরে জিএসটি বাবদ কেন্দ্র রাজ্য থেকে প্রায় সাড়ে ৬ লক্ষ কোটি টাকা আদায় করেছে। কেন্দ্র যে ১০ লক্ষ কোটি টাকা দিয়েছে বলে দাবি করছে, তার বিস্তারিত হিসাব কোথায়? এই প্রশ্ন তোলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
পাশাপাশি তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক বঞ্চনার অভিযোগও তোলেন। সংবাদমাধ্যমের সামনে অভিষেক বলেন, গত ১০–১২ বছরে কেন্দ্র বাংলাকে আসলে কত টাকা দিয়েছে, তার হিসাব সামনে আনুক কেন্দ্রীয় সরকার। গ্রামীণ রাস্তা, আবাস যোজনা বা অন্যান্য প্রকল্পে গত কয়েক বছরে কেন্দ্র কত টাকা দিয়েছে, তার ‘রিপোর্ট কার্ড’ জনসমক্ষে আনার দাবি জানান তিনি।
রাজ্যে এসআইআর ইস্যুতে তোলপাড়ের মধ্যেই বিজেপির কাছে ‘অনুপ্রবেশ’ একটি বড় নির্বাচনী হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। গেরুয়া শিবিরের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় বিপুল সংখ্যক অনুপ্রবেশকারীর নাম রয়েছে। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব নিয়মিতভাবেই এই ইস্যুতে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করছেন। শিলিগুড়ির সভায় অমিত শাহও রাজ্যে অনুপ্রবেশ, হিংসা ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে বছরের পর বছর ধরে ভয় ও অরাজকতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।’ তবে কমিশনের প্রকাশিত তালিকা সামনে রেখে পাল্টা প্রশ্ন তুলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘কমিশন যে তালিকা দিয়েছে, সেখানে কোথায় অনুপ্রবেশকারীরা? অনুপ্রবেশের নমূনা অমর্ত্য সেন, দেব, ঝুলন গোস্বামী, মহম্মদ শামী। বিজেপির তরফে দাবি করা হচ্ছিল রাজ্যে এক কোটি থেকে দেড় কোটি রোহিঙ্গা ও অনুপ্রবেশকারীর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত খসড়া তালিকা সেই ‘গল্প’ খারিজ করে দিয়েছে। অভিষেকের প্রশ্ন, যদি সত্যিই রাজ্যে এত সংখ্যক অনুপ্রবেশকারী ভোটার থেকে থাকে, তাহলে খসড়া ভোটার তালিকায় তাদের কোনও উল্লেখ নেই কেন? কেন্দ্র ও কমিশন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে বাংলার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছে।’

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, ‘প্রতিবার নির্বাচনের আগে ডেলি প্যাসেঞ্জারি করেন বিজেপি নেতা-মন্ত্রীরা। বিগত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি বলেছিল পশ্চিমবঙ্গ থেকে সব থেকে ভালো ফলাফল হবে। নির্বাচন শেষ হওয়ার পর এক্সিট পোল বিজেপি কত আসন পাবে তা বলে দিয়েছিল। কিন্তু যখন নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হয়েছিল তখন দেখা গেছিল সব উল্টে গেছে। যতই বিজেপি নেতারা চেষ্টা করুক না কেন বাংলায় ভোট বাক্সে দখল তারা নিতে পারবে না।’