শৌনক মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
মাসের শুরুতেই মধ্যবিত্তের কপালে ভাঁজ। রান্নাঘরের বাজেট আরও চড়া হল। মার্চের প্রথম দিনেই এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল দেশের অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলি।
১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় ৩১ টাকা বেড়েছে। আজ থেকেই কার্যকর নতুন দাম। ফলে রেস্তোরাঁ, হোটেল থেকে শুরু করে ছোট ব্যবসায়ীদের খরচ বাড়ল নিশ্চিতভাবেই।
এখন থেকে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে খরচ পড়বে ১৮৭৫ টাকা ৫০ পয়সা। যদিও গৃহস্থদের জন্য আপাতত স্বস্তির খবর—১৪.২ কেজির গৃহস্থালি সিলিন্ডারের দামে কোনও পরিবর্তন হয়নি। তার দাম আগের মতোই ৮৭৯ টাকা রয়েছে। তবু প্রশ্ন একটাই—এই স্থিতাবস্থা কতদিন?
এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক অস্থিরতা। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। বিশেষ করে Strait of Hormuz ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে বিশ্ববাজারে। ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে, আপাতত এই প্রণালী দিয়ে কোনও জাহাজ চলাচল করতে পারবে না। ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডস রেডিও বার্তায় বিভিন্ন জাহাজকে সতর্ক করেছে—এই পথ আপাতত বন্ধ। বহু তেলবাহী জাহাজ মাঝসমুদ্রে অবস্থান করছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর।
কেন এত গুরুত্ব এই হরমুজ প্রণালীর? বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এবং বিপুল পরিমাণ এলএনজি প্রতিদিন এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি—গালফ অঞ্চলের প্রধান তেল রপ্তানিকারক দেশগুলির জাহাজ এই পথেই যায় এশিয়া ও ইউরোপে। ফলে এই পথ কয়েকদিন বন্ধ থাকলেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম লাফিয়ে বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ থেকে ১২০ ডলার ছুঁতে পারে।
তার সরাসরি প্রভাব পড়বে ভারতীয় বাজারে। ভারত তেলের চাহিদার বড় অংশই আমদানি করে, যার উল্লেখযোগ্য অংশ আসে গালফ অঞ্চল থেকে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেই পেট্রোল, ডিজেল, রান্নার গ্যাস—সবকিছুর দাম বাড়ার আশঙ্কা প্রবল। ইতিমধ্যেই বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধিকে অনেকেই সেই বড় ঝড়ের আগাম বার্তা বলেই মনে করছেন।
কলকাতার ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। বড় রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে পাড়ার হোটেল—সবাই হিসেব কষছেন নতুন খরচের অঙ্ক। অনেকের আশঙ্কা, খরচ সামাল দিতে খাবারের দামও বাড়াতে হতে পারে। সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি চিন্তার। গৃহস্থালি সিলিন্ডারের দাম আপাতত না বাড়লেও আন্তর্জাতিক বাজারের এই অস্থিরতা যদি চলতেই থাকে, তাহলে আগামী মাসগুলিতে নতুন ধাক্কা আসতেই পারে।

সব মিলিয়ে স্পষ্ট—পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের অভিঘাত এবার সরাসরি ছুঁতে শুরু করেছে ভারতের রান্নাঘর। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েন কত দ্রুত মেটে, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনের জ্বালানির বাজার।