শৌনক মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
‘কোন ভালবাসায় ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কয়লামাফিয়ার সঙ্গে গোপন মিটিং করছেন? কোন গোপন আলোচনা হল কয়লা মন্ত্রীর সঙ্গে কয়লা মাফিয়ার? তা বাংলার মানুষ জানতে চায়।’ আসানসোলের এক ব্যবসায়ী জয়দেব খাঁর সঙ্গে বিজেপির রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ছবি প্রকাশ করে এমন বিস্ফোরক প্রশ্ন তুললেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা।
সম্প্রতি আসানসোল সাংগঠনিক জেলায় বিজেপির স্থায়ী আমন্ত্রিত সদস্য পদ দেওয়া হয়েছে কয়লা মাফিয়া বলে এক সময়ে বিজেপি নেতাদের অভিযোগে অভিযুক্ত জয়দেবকে। তারপরেই তৃনমূলের অভিযোগ, দুর্নীতিতে অভিযুক্ত জয়দেব খাঁর যোগদানে আরও একবার বিজেপির অপরাধীদের আশ্রয়ের তত্ত্ব প্রমাণ হল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর সঙ্গে জয়দেব খাঁর ‘গোপন মিটিং’-এর ছবি দেখিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন,
‘বিজেপিকে কি আর সাধে ওয়াশিং মেশিন বলা হয়? যারা এতদিন বিজেপির চোখে দুর্নীতিগ্রস্ত ছিল, তারাই বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর সম্মানীয় হয়ে যাচ্ছে।’
বুধবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক থেকে তোপ দাগলেন মন্ত্রী শশী পাঁজা ও সাংসদ পার্থ ভৌমিক। তাদের অভিযোগ জয়দেব খাঁর সঙ্গে গোপন বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও তৎকালীন কয়লামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী। সেই ছবি দেখিয়ে গেরুয়া শিবিরকে তুলোধনা করেন তৃণমূল নেতৃত্ব।
কয়লা মাফিয়া প্রসঙ্গে বিজেপিকে আক্রমণ করে তৃণমূলের তরফে সাংসদ পার্থ ভৌমিক অভিযোগ করেন, ‘এখন বাংলায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাতেও ইডি, সিবিআই-এর তৎপরতা বেড়ে যাবে। সকল সরকারি সম্মানজনক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজে লাগিয়ে হিটলারি কায়দায় ভারতবর্ষ পরিচালনার প্রয়াস করছে বিজেপি। জয়দেব খাঁর যোগদান তার একটা নতুন সংকলন।যাকে এতদিন কয়লা চোর বলা হচ্ছিল, তাকে বিজেপিতে স্থায়ী সদস্যপদ দেওয়া হল কেন? কয়লাখনি কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে। কেন্দ্রের সাহায্য ছাড়া কেউ কয়লা মাফিয়া হতে পারে না। তাহলে কয়লামন্ত্রীর সঙ্গে কয়লামাফিয়ার কী গোপন আলোচনা হয়েছে, তা বাংলার মানুষ জানতে চায়।’
তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিক কটাক্ষ করে বলেন, ‘বন্যেরা বনে সুন্দর, অপরাধী বা ক্রিমিনালরা সবচেয়ে সুরক্ষিত বিজেপিতে।’ এরপরেই বিজেপিকে অপরাধীদের আশ্রয়স্থল বলে দাবি করে পার্থর অভিযোগ, রাজনৈতিক স্বার্থে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই এবং ইডিকে ব্যবহার করছে বিজেপি। পার্থ ভৌমিকের দাবি, ‘যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়, তাদের ভয় দেখিয়ে বিজেপিতে নিয়ে আসা হয়। বিজেপিতে যোগ দিলেই সেই সব অভিযোগ কার্যত উধাও হয়ে যায়।’

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘মহারাষ্ট্রের প্রফুল্ল প্যাটেলের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হলে তিনি যখন বিজেপিতে যোগ দিলেন তখন তিনি বিজেপির রত্ন হয়ে গেলেন। হিমন্ত বিশ্বশর্মা তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির কেলেঙ্কারি ছিল তিনি মুখ্যমন্ত্রী হয়ে গেলেন, বাংলার শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ ছিল ইডি, সিবিআই তদন্ত শুরু হল তখন তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়ে বিরোধীদলের নেতা হয়ে গেলেন অনেক এমন উদাহরণ আছে। দুর্নীতি করে বিজেপিতে যোগ দিলে এখন দুর্নীতি মুক্ত হতে এখন আর কোনও উকিল লাগে না। ২০১৪ সালের পর থেকে সিবিআইয়ের মামলার সংখ্যা অনেক বেড়েছে, যার প্রায় ৯৫ শতাংশই বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে। অথচ খুব অল্প সংখ্যক মামলারই নিষ্পত্তি হয়েছে।’