সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
জয় শ্রীরাম শ্লোগান তুলে একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় ক্ষমতায় আসতে পারেনি বিজেপি। রাজ্যজুড়ে একের পর এক অস্ত্র মিছিল করে রামনবমী পালন করলেও ভগবান রাম চন্দ্র গড় পর্যন্ত উদ্ধার করেননি বিজেপিকে। এবারে তাই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের অনেক আগে থেকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শরণাপন্ন হয়েছেন মা কালী এবং মা দুর্গার। তাই শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভার জন্য মঞ্চ তৈরি করা হলো দক্ষিণেশ্বরের কালী মন্দিরের আদলে।
ব্রিগেডের সভামঞ্চকে ঘিরে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করেছে বিজেপি। জানা গেছে, মঞ্চটি তৈরি করা হচ্ছে দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দিরের আদলে। মঞ্চসজ্জায় তুলে ধরা হচ্ছে বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির নানা প্রতীক।
মঞ্চের দেওয়ালে আঁকা থাকবে কোচবিহার রাজবাড়ির ছবি, বাঁকুড়ার বিখ্যাত টেরাকোটার ঘোড়া এবং উত্তরবঙ্গের জঙ্গলের দৃশ্য। বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় ১২ জন শিল্পী এই শিল্পকর্ম তৈরি করছেন বলে জানা গেছে।
বিজেপির এক নেতার বক্তব্য, বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিতেই এই ধরনের মঞ্চসজ্জা করা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, বাঙালির সংস্কৃতি ও গৌরবকে সামনে এনে বিজেপি প্রমাণ করতে চাইছে যে তারা বাঙালির সংস্কৃতির সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত।
গত কয়েকটি নির্বাচনে শাসক দল তৃণমূল বিজেপির বিরুদ্ধে ‘বাঙালি-বিরোধী’ তকমা লাগিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা পেয়েছিল। বিশেষ করে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই ইস্যুটি বেশ গুরুত্ব পেয়েছিল।
এবার সেই অভিযোগের জবাব দিতে বিজেপি নিজেদের আরও বেশি করে বাঙালির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত দল হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।
স্লোগানেও পরিবর্তন
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপির কৌশলেও কিছু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আগে যেখানে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান বেশি শোনা যেত, সেখানে এখন বাংলায় এসে অনেক বিজেপি নেতা ‘জয় মা কালী’ ধ্বনি তুলছেন। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলার মানুষের উদ্দেশে লেখা এক খোলা চিঠিতেও কালীর নাম উল্লেখ করেছেন, যা রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

শুক্রবার বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং বিজেপির পশ্চিমবঙ্গের সোশ্যাল মিডিয়া ইনচার্জ সপ্তর্ষি চৌধুরী কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে ব্রিগেডের মঞ্চ পরিদর্শন করেন।

সব মিলিয়ে শনিবারের ব্রিগেড সমাবেশকে সামনে রেখে বিজেপি বাংলার সংস্কৃতি ও বাঙালিয়ানার বার্তা তুলে ধরতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।