বারুইপুর কান্ডের প্রতিবাদে ফের বিরোধী নেত্রীর ভূমিকায় পথে নামলেন মমতা, মমতার মিছিল ঘিরে হাজিরা ও কালীঘাটে বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় রণক্ষেত্রের চেহারা নিল কলকাতা
সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পরে প্রথমে দু তিনটে ছোট ছোট স্ট্রিট কর্নার করার পরে এবারে কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে বড় আকারে পদযাত্রায় নামলেন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা হাইকোর্টের কাছে আবেদনের প্রেক্ষিতে বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত শর্তসাপেক্ষে মিছিলের অনুমতি পেলেও সেই মিছিলকে ঘিরে বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে তৃণমূলের কর্মীর নেতাদের বাকবিতণ্ডায় কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল মমতার মিছিল। কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে কালীঘাট তৃণমূল মিছিল করছিল। অভিযোগ, সেইখানেই পাশ থেকে হেঁটে যাচ্ছিলেন বিজেপি কর্মীরা। সেই সময় তৃণমূলের মিছিল দেখেই চোর স্লোগান দেন বিজেপি কর্মীরা। এরপরই দুপক্ষের মধ্যে তুমুল বাগবিতণ্ডা।
বচসা-ধস্তাধস্তি-হাতাহাতি চলতে থাকে দু’পক্ষের মধ্যে। বাজানো হয় মাছ চোর গান। পরিস্থিতি ঠান্ডা করার চেষ্টা করেন পুলিশ কর্মীরা। ঘটনাস্থলে পৌঁছন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশকে একহাত নেন তিনি। কীভাবে পুলিশ তাঁর উপর নজর রাখছে, কীভাবে তৃণমূল কর্মীদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে সবটা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন মমতা। ব্যাপক বিশৃঙ্খলার মধ্যে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে মেজাজ হারান তিনি। এক ব্যক্তিকে কষিয়ে চড় মারেন তিনি। ওই ব্যক্তি তৃণমূলেরই কর্মী বলে জানা গিয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে বলেন, ‘আমাদের ছেলে-মেয়েরা যাতে স্লোগান দিতে না পারে সেই চেষ্টা করেছে। আমি বিজেপিকে দুষছি না। আমি প্রশাসনকে দুষছি। আপাদের দায়িত্ব যাতে র্যালি করা যায়। এর বদলে আপনারা কী করলেন, বিজেপির লোকজনকে এখানে নিয়ে আসা হল। তারপর আমাদের হ্যান্ডমাইক কেড়ে নিল। অথচ হাইকোর্ট আমাদের অনুমতি দিয়েছিল হ্যান্ড মাইক ব্যবহার করার। আমাদের কর্মীদের মারা হল। ওরা মারধর করেছে আমাদের মহিলা পুরুষ সকলকে। আমার কাছে মেসেজ এল যে আমাদের আইটি সেলের চেয়ারম্যানকে ঘেরাও করে রাখা হয়েছে। তাঁকে মারা হয়েছে। তাই তাঁকে উদ্ধারের জন্য আমি গেলাম। উদ্ধার করলাম। কোথায় গেল আইন?’

বর্তমানে বিজেপি শাসিত পশ্চিমবঙ্গ উত্তরপ্রদেশের থেকেও খারাপ চেহারা ধারণ করেছে বলে অভিযোগ করে মমতার দাবি, ‘উত্তরপ্রদেশের থেকেও বেশি বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে। দেশের মানুষ ভাবতেই পারবে না কী হচ্ছে এখানে। প্রত্যেককে আক্রমণ করা হচ্ছে। ওরা কীভাবে হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করল? আমরা ধিক্কার জানাই। বিজেপি ও তাঁদের দলদাসরা অত্যাচার করছে। বারুইপুরে কালকে প্রতিবাদীদের ৫০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে আমি শুনেছি। দুর্গাপুর,বর্ধমান, ভগবানপুর, পটাশপুরে হয়েছে, বেহালা, মালদহে নারী নির্যাতন হয়েছে। কোথায় হয়নি? ২ মাসের মধ্যে ১৪ জনের বেশি মেয়ে ও মহিলার উপর ধর্ষণ, নির্যাতন হয়েছে। অনেকে খুন হয়েছে। আমার আবেদন শান্তিপূর্ণভাবে সবটা বিচার করুন। আমার উপর নজর রাখা হচ্ছে। আমার তো নিরাপত্তা নেই, তারপরও কেন দেখবে কে ঢুকছে কে বেরচ্ছে? অনৈতিক ভাবে আমার উপর নজর রাখা হচ্ছে। ওদের সাহস থাকলে ওরা নিয়ম মেনে নজর রাখুক। আমায় গৃহবন্দি করেছে রেখেছে। আপনারা সাধারণ মানুষের বাক স্বাধীনতা নষ্ট করতে পারেন না।