সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
“একটা অযোগ্য প্রদেশ কংগ্রেস। এই প্রদেশ কংগ্রেসের অবস্থা যা তারা কারও সাথে লড়াই করতে পারবে না।” এমন দাবি করে আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলে যোগ দিলেন উত্তরবঙ্গের প্রভাবশালী কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক শংকর মালাকার। বুধবার দুপুরে তৃণমূল ভবনে সুব্রত বকসি, অরূপ বিশ্বাসের উপস্থিতিতে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করলেন শঙ্কর মালাকার।
একই সঙ্গে দলবদলের প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই প্রদেশ কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। এদিন তাঁর সঙ্গে এলাকার আরও অনেক কর্মী কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন বলে দাবি করে শঙ্করবাবু বলেন, “একা বা কয়েকজন মিলে কংগ্রেস শক্তিশালী হবে না। মাত্র ৩% ভোট দিয়ে হবে না কংগ্রেসের। দিল্লি বিজেপির বিরুদ্ধে কিছু বলে না।”
শঙ্করের মতো আগামীদিনে আরও অনেকে তৃণমূলে যোগ দেবেন বলে এদিন জল্পনা বাড়িয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তিনি বলেন, “আমরা কাউকে তৃণমূলে আসতে বলিনি। কেউ স্বেচ্ছায় আসতে চাইলে ভালো। স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আসবে। পিচে সুইং আছে। দেখুন আরও উইকেট আসবে।”
যদিও কংগ্রেসের তরফে দাবি করা হয়েছে, আজই তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শঙ্করবাবু অবশ্য বলেন, কংগ্রেস থেকে বহিষ্কারের কোনও চিঠি তিনি পাননি। বরং নিজে থেকেই দলত্যাগের কথা জানিয়েছেন প্রদেশ নেতৃত্বকে।
অন্যদিকে, এক শংকরের তৃণমূলে যোগদানের সিদ্ধান্তকে কঠোর সমালোচনা করলেন আরেক শংকর। শিলিগুড়ির বিধায়ক তথা বিধানসভায় বিজেপির মুখ্য সচেতক শংকর ঘোষ বলেন, “শংকরদার বয়স হয়েছে। তৃণমূলকে টক্কর দেওয়ার ক্ষমতা আর ওনার নেই। তাই এই সিদ্ধান্ত। রাজ্যে কংগ্রেসের কার্যত কোনও অস্তিত্ব নেই। গোটা দেশেও কংগ্রেস সাফ হয়ে যাওয়ার মুখে। সেই হতাশা থেকে শংকরদা তৃণমূলে যোগদান করেছেন। ওনার বয়স হয়েছে। তৃণমূলকে টক্কর দেওয়ার ক্ষমতা আর ওনার নেই। তাই এত বছর তৃণমূলের সঙ্গে লড়াই করে এখন তাদের সামনে আত্মসমর্পণ করলেন তিনি। উনি হয়তো তৃণমূলের কৃপায় আরেক দফা বিধায়ক হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন সত্যি হবে না। দার্জিলিং জেলার যে কোনও আসনে দাঁড়ালে আমরা ওনাকে হারাব।”
বিজেপির বিরুদ্ধে মানুষের আবেগ নিয়ে রাজনীতি করার অভিযোগ খণ্ডন করে শংকরবাবু বলেন, “উনি যে দলে যোগদান করেছেন সেই দলটি দক্ষিণ কলকাতাকেন্দ্রিক। সেখানকার নেতারা উত্তরবঙ্গের মানুষকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক ভাবেন। তাই মন্ত্রিসভার কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদ উত্তরবঙ্গকে দেওয়া হয়নি। বরং বিজেপি উত্তরবঙ্গের ছেলে সুকান্ত মজুমদারকে রাজ্য সভাপতি করেছে। তাঁকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্ব দিয়েছে। তার আগে নিশীথ প্রামাণিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলেন। আমাকে দল বিধানসভায় দলের মুখ্য সচেতকের দায়িত্ব দিয়েছে। তৃণমূলে এগুলো কল্পনাও করা যায় না। বিরোধী দলে থেকে উন্নয়ন করা যায় কি না সেটা শিলিগুড়ির মানুষকে জিজ্ঞাসা করে দেখুন শংকর মালাকার।”