শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
ফের একবার বিতর্কের কেন্দ্রে বীরভূমের দাপুটে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারকে কদর্য ভাষায় ফোনে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর অবশেষে বৃহস্পতিবার বোলপুরের এসডিপিও দফতরে হাজিরা দিলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টে ৩৫ মিনিটে বোলপুরের মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের দফতরে পৌঁছন অনুব্রত। এদিন অনুব্রতর হাজিরা ঘিরে বোলপুর থানা চত্বরে পুলিশি নিরাপত্তা ছিল আঁট সাঁটো। জিজ্ঞাসাবাদের ২ ঘণ্টা পর এসডিপিও অফিস ছাড়লেন বীরভূমের বাঘ অনুব্রত মণ্ডল। এদিন স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় এসডিপিও-র অফিস ছাড়েন কেষ্ট। মুখে ছিল স্বস্তির হাসি। তবে কীসে তিনি স্বস্তি পেয়েছেন, তা শেয়ার করেননি অনুব্রত। এদিন অফিস থেকে বেড়তেই নিজের গাড়ি করে দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছে যান অনুব্রত। সাংবাদিকরা হাজারো প্রশ্ন করলেও এদিন কোনও প্রশ্নের উত্তর দেননি কেষ্ট।
ঘটনার সূত্রপাত একটি ভাইরাল অডিও ক্লিপকে ঘিরে, যেখানে অনুব্রত মণ্ডলকে বোলপুর থানার আইসি-কে আপত্তিকর ভাষায় আক্রমণ করতে শোনা যায়। যদিও ওই অডিওর সত্যতা যাচাই করা হয়নি, তবে এই কথোপকথন রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দেয়। বিতর্কের মুখে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে অনুব্রতকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পরই অনুব্রত মণ্ডল এক লিখিত চিঠিতে ক্ষমা চেয়ে নেন। চিঠিতে তিনি লেখেন, “আমার ওই কথাগুলো বলা উচিত হয়নি। আমি দুঃখিত।” তবে এই ক্ষমাপ্রার্থনাতেও বিতর্ক থামেনি। আইসি-কে কদর্য ভাষায় আক্রমণের অভিযোগে অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৪টি ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি ধারা জামিন অযোগ্য বলে জানা গেছে, যা অনুব্রতের আইনি জটিলতা আরও বাড়িয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ এর আগে দু’বার অনুব্রত মণ্ডলকে তলব করেছিল। প্রথমে গত শনিবার তাঁকে তলব করা হলেও, তিনি হাজিরা দেননি। এরপর রবিবার ফের তলব করা হয়, কিন্তু তখনও তিনি গরহাজির থাকেন। অবশেষে বৃহস্পতিবার এসডিপিও দফতরে এসে হাজিরা দিলেন বীরভূমের প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি।
অনুত্রত মণ্ডলের ক্ষমাপ্রার্থনা সত্ত্বেও বিরোধীরা তাঁর গ্রেফতারের দাবিতে সরব হয়েছে। বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার কড়া ভাষায় বলেছেন, “কান ধরে অনুব্রত মণ্ডলকে জেলে ঢোকাতে হবে।” অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীও অনুব্রতর গ্রেফতারের দাবিতে সুর চড়িয়েছেন।
এই প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “একজন তৃণমূল নেতা মদ্যপ অবস্থায় ফোন করে পুলিশ অফিসারকে গালিগালাজ করছেন। হুমকি দিচ্ছেন। রাজীব কুমারকে বলছেন, এই ডিজি আইসিকে কখন সরাবে? সেই নেতাকে গ্রেফতার না করে মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে প্রোটেকশন দিচ্ছেন, সেটা ভাবা যায় না।” তাঁর মতে অনুব্রত মণ্ডলরা কেউ নন, যত নষ্টের গোড়া মমতা। তাঁরই ছত্রছায়ায় নেতা-মন্ত্রীরা এই ধরনের আচরণ করার সাহস পান। শুভেন্দু আরও বলেন, এই ধরনের নেতারা সব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অ্যাসেট। প্রকাশ্যে সভামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, কেষ্টকে রাজ্যসভার টিকিট দিতে চেয়েছিলাম, নেয়নি। সেই অনুব্রত থানায় গেলে থোড়াই পুলিশ ফোন বাজেয়াপ্ত করবে? যা দোষ এখন আইসির। তাঁর কোথায়, “আমি তো বলছি, আইসিকেই সাসপেন্ড করে দেওয়া হবে, দেখে নিন।”

বীরভূমের বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে আশ্বাস পেয়েই পুলিশের সামনে হাজিরা দিয়েছেন অনুব্রত। তিনি বলেন, “বুধবার রাতে এক ব্যক্তির ফোনে ফোন করে দীর্ঘক্ষণ অনুব্রতর সঙ্গে কথা বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পরই গ্রেফতার হবেন না এই আশ্বাস পেয়ে পুলিশের কাছে হাজিরা দিতে গিয়েছেন তিনি।”