প্রিয়াঙ্কা মান্না। কলকাতা সারাদিন।
পঞ্জাবের জলন্ধরে এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। কাজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে এক যুবককে রাস্তা থেকে তুলে গাড়িতে নিয়ে গিয়ে চার মহিলা গণধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ। ঘটনার পর কোনোক্রমে পালিয়ে এসে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই যুবক। খবর প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
কীভাবে ঘটল ঘটনা?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জলন্ধরের এক কারখানার কর্মচারী প্রতিদিনের মতো সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় একটি গাড়ি তাঁর সামনে এসে দাঁড়ায়। গাড়ির ভিতরে ছিলেন চার মহিলা, যাদের বয়স আনুমানিক ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। প্রথমে তারা যুবকের কাছে একটি জায়গার ঠিকানা জানতে চান। যুবক উত্তর দিতে শুরু করতেই তাঁর চোখে কিছু স্প্রে করা হয়।
চোখ ঝাপসা হয়ে যাওয়ায় কিছু বোঝার আগেই যুবককে জোর করে গাড়ির ভিতরে তুলে নেয় মহিলারা।
যুবকের অভিযোগ
অভিযোগপত্রে যুবক জানিয়েছেন—
তিনি বিবাহিত এবং তাঁর একটি সন্তান রয়েছে।
মহিলাদের এই কথা বলার পর তাঁরা হেসে বলেন, “এতে আরও ভালো, আপনি অভিজ্ঞ।”
এরপর তাঁকে জোর করে মদ খাওয়ানো হয় এবং গাড়ির ভিতরেই শারীরিক নির্যাতন শুরু হয়।
এরপর তাঁকে একটি বড় বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে আবার মদের সঙ্গে যৌনশক্তি বাড়ানোর ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁকে সম্পূর্ণ নগ্ন করে গণধর্ষণ করে ওই চার মহিলা।
প্রাণনাশের হুমকি
যুবক আরও জানান, মহিলারা সম্পূর্ণ নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন এবং তাঁকে হুমকি দেন যে তিনি যদি বাধা দেন তবে তাঁকে খুন করে জঙ্গলে ফেলে দেওয়া হবে। একসময় তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। রাত প্রায় সাড়ে তিনটে নাগাদ জ্ঞান ফেরার পর কোনোমতে ওই বাড়ি থেকে পালিয়ে আসেন। সেখান থেকে ট্রাকের সাহায্যে জলন্ধরে ফিরে এসে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান।
পুলিশের পদক্ষেপ
অভিযোগ পাওয়ার পর জলন্ধর পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। চার অভিযুক্ত মহিলাকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। যদিও এ ধরনের অভিযোগে প্রমাণ সংগ্রহ অত্যন্ত কঠিন, তবু পুলিশ মেডিক্যাল টেস্ট এবং ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখছে।
পুরুষদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধ নিয়ে প্রশ্ন
ভারতে পুরুষদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই। সাধারণত মহিলাদের ক্ষেত্রেই ধর্ষণের ঘটনা বেশি সামনে আসে। তবে মাঝে মাঝে এমন ঘটনা ঘটে, যেখানে পুরুষরাও যৌন হেনস্থার শিকার হন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমাজে পুরুষদের যৌন নির্যাতনকে প্রায়ই হালকাভাবে নেওয়া হয় বা গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এই ঘটনা সেই ধারণাকে নতুন করে সামনে আনল।
জলন্ধরের এই অভিযোগ সমাজে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নারীরা অভিযুক্ত হলে ধর্ষণ বা যৌন হেনস্থার মামলা কতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তদন্তের ফলাফল কী হয় এবং অভিযুক্তরা ধরা পড়েন কি না, তা দেখার অপেক্ষায় গোটা জলন্ধর।