শৌনক মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য মার্কিন ভিসা ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তন আনল ট্রাম্প প্রশাসন। যার জেরে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ভারতীয় কর্মীরা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার ঘোষণা করেন, এইচ-১বি ভিসাধারী প্রত্যেক কর্মীর জন্য তাঁদের নিয়োগকর্তাকে বছরে ১ লক্ষ মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮৮ লক্ষ টাকা) ফি দিতে হবে।
অর্থ না দিলে রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে তাঁদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বন্ধ থাকবে।
নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, রবিবার রাত ১২টা ১ মিনিট (ইস্টার্ন টাইম) থেকে কার্যকর হবে এই নিয়ম। অর্থাৎ নতুন এইচ-১বি ভিসা, মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন সব ক্ষেত্রেই বার্ষিক ১ লক্ষ ডলার ফি দিতে হবে। এই পদক্ষেপের প্রধান লক্ষ্য হল মার্কিন কর্মীদের চাকরি সুরক্ষিত রাখা এবং শুধুমাত্র উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন পেশাদারদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিশ্চিত করা। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এইচ-১বি ভিসা প্রোগ্রামটি প্রায়শই এমন কর্মীদের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে, যাদের দক্ষতা গড়পড়তা আমেরিকান কর্মীদের চেয়ে কম এবং যারা তুলনামূলক কম বেতনে কাজ করতে ইচ্ছুক। এর ফলস্বরূপ, আমেরিকান কর্মীরা অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ১ লক্ষ ডলার ফি আরোপের উদ্দেশ্য হল কোম্পানিগুলোকে নিরুৎসাহিত করা, যাতে তারা কেবল সেই বিদেশি পেশাদারদেরই নিয়োগ করে যাদের দক্ষতা সত্যিই ব্যতিক্রমী এবং যাদের জায়গায় কোনও আমেরিকান কর্মীকে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব নয়।
এই পরিবর্তন ভারতের মতো দেশগুলির জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এইচ-১বি ভিসার সিংহভাগ আবেদনকারী ভারতীয় পেশাদার। আমেরিকার তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে কর্মরত হাজার হাজার ভারতীয় কর্মী এবং তাদের পরিবার এই সিদ্ধান্তের ফলে সরাসরি প্রভাবিত হবেন। নতুন নিয়মটি শুধু নতুন ভিসার ক্ষেত্রেই নয়, বরং যারা বর্তমানে এইচ-১বি ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আছেন এবং এটি রিনিউ করতে চাইছেন, তাদের জন্যও প্রযোজ্য হবে।
প্রকাশিত ঘোষণায় বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র সুরক্ষা দপ্তর (Department of Homeland Security) বিশেষ ক্ষেত্রে ছাড় দিতে পারে – যদি সংশ্লিষ্ট ভিসাধারীর চাকরি মার্কিন জাতীয় স্বার্থে জরুরি হয় এবং দেশের নিরাপত্তা বা জনকল্যাণের জন্য হুমকি না হয়উই৬য়৭য়হু। এই বিধিনিষেধ আপাতত ১২ মাস বলবৎ থাকবে, তবে ফেডারেল অভিবাসন সংস্থার সুপারিশে তা বাড়ানো যেতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই পদক্ষেপ “এইচ-১বি ভিসা প্রোগ্রামের অপব্যবহার রুখতে” নেওয়া হয়েছে। এতদিন পর্যন্ত এই ভিসার জন্য কোম্পানিগুলিকে মাত্র ১,৫০০ ডলার প্রশাসনিক ফি দিতে হতো।
মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (USCIS)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেওয়া প্রায় ৪ লক্ষ এইচ-১বি ভিসার ৭২ শতাংশই ভারতীয়দের দখলে। ফলে নতুন নিয়মে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ভারতীয়রা।
মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক জানিয়েছেন, নতুন নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি এইচ-১বি ভিসার জন্য তিন বছরের মেয়াদে প্রতি বছর ১ লক্ষ ডলার দিতে হবে। তবে বাস্তবায়নের কিছু বিষয় এখনও বিবেচনাধীন রয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এইচ ওয়ান বি ভিসা নীতি বদল করায় রাজনৈতিক ঝড় উঠল এদেশে। শনিবার কংগ্রেস শিবির থেকে লাগাতার ঝাঁকে ঝাঁকে তোপ দাগা হয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে লক্ষ্য করে। মূল তোপটি দেগেছেন কংগ্রেসের বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বিদেশে বাস করা দেশের মানুষের হয়ে শিরদাঁড়া সোজা করে দাঁড়ানোর ক্ষমতা নেই বলে বোঝাতে চেয়েছেন রাহুল। এদিন রাহুল গান্ধী তাঁর ২০১৭ সালের একটি পোস্টকে রিপোস্ট করেছেন। যেখানে তিনি লিখেছিলেন, ভারতে একজন দুর্বল প্রধানমন্ত্রী রয়েছেন। সেই পোস্টের উপরেই তিনি এবার লিখেছেন, আবার বলছি, একজন দুর্বল প্রধানমন্ত্রী রয়েছেন ভারতে। তার সঙ্গে ট্রাম্পের নয়া ভিসা নীতি নিয়ে একটি খবর যুক্ত করে দিয়েছেন রাহুল।

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেও সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদীর। রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা খাড়্গে বলেন, আপনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা ফোনের পরেই ভারতীয় রিটার্ন গিফ্টে ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে। আপনার আবকি বার ট্রাম্প সরকার স্লোগানের বার্থ ডে রিটার্ন গিফ্ট এসে গিয়েছে। উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে আমদাবাদে এসেছিলেন ট্রাম্প। সেখানেই ট্রাম্পের সঙ্গে মোদীর নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে দাবি করেন খোদ প্রধানমন্ত্রী।