সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
‘এসআইআর স্টে করা উচিত। কোটি মানুষ এখনও ফর্ম পায়নি। নোটবন্দির মতো ভোটবন্দি করছে। এসআইআর ও গায়ের জোরে পগার পার করবে ভাবছে, কিন্তু পগার পার ওদের হতে হবে। বাংলার মানুষ ক্ষমা করবে না।’ এভাবেই শিলিগুড়ি থেকে ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত করার দাবি তুললেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার, উত্তরকন্যায় সরকারি পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠান থেকে জেলাশাসক, বিডিও-দের উদ্দেশ্যে মমতা বলেন, ‘কারও নথি হারালে করে দেবেন।’
এদিন ফের মমতা বলেন একজন বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলে তীব্র প্রতিবাদ হবে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে। মানুষের হৃদয় কাঁদছে, আর বিজেপি হাসছে। তবে স্পষ্ট করে জানাই, জেনুইন ভোটারের নাম বাদ গেলে ছেড়ে কথা বলব না। যত আঘাত করবে, তত প্রত্যাঘাত হবে।’
রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ তুলেও সুর চড়ান মমতা। তাঁর কথায়, ‘এসআইআর ঘোষণা হতেই নিউটাউনের বিভিন্ন বস্তি খালি হচ্ছে, সেখানে রোহিঙ্গারা থাকত বলে অভিযোগ। কোথা থেকে এল রোহিঙ্গারা? বর্ডার কার দায়িত্বে? দু-মুখো সাপ। একবার বলছো ২০০২ সালের ভোটার লিস্ট, আবার বলছো ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত যারা এসেছে, তাদের বাদ দেওয়া হবে না।’ অনুপ্রবেশ হলে তার দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিৎ বলে মন্তব্য করেন মমতা। আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘সীমান্তবর্তী এলাকায় বিএসএফ ও বিজেপি ক্যাম্প করে ২০২৪ সালের লোকেদের নাম তুলছে।’
নির্বাচনকে কমিশনকে তীব্র কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘হ্যালো স্যার, ক্যান ইউ হিয়ার মি?’ মমতার কথায়, ‘আমি মনে করি, এসআইআর স্টে করা উচিত। কোটি মানুষ এখনও ফর্ম পাইনি।’ কারণ ব্যাখ্যা করে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান বলেন, ‘ফেব্রুয়ারিতে ইলেকশন ডিক্লেয়ার হবে, তাহলে টাইম পেলেন কদিন? এর মধ্যে বাড়ি বাড়ি যেতে হবে, নাম লেখাতে হবে, পুরো প্রক্রিয়া এত কম সময়ে করা সম্ভব নয়।’ মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, এই তিন মাস যাতে রাজ্য কাজ না করতে পারে, তাই সুপার এমার্জেন্সি জারি করে অফিসারদের আটকে রেখেছে। টিচারদের স্কুল করতে হচ্ছে, বিএলও-দের কাজও করতে হচ্ছে। ২ ঘণ্টায় কত বাড়ি যেতে পারবে?

বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের ২২ বছরের রিচা ঘোষের নামে উত্তরবঙ্গে স্টেডিয়াম তৈরি করা হবে। সোমবার, উত্তরকন্যা থেকে সাংবাদিক সম্মেলনে এমনটাই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। শনিবার কলকাতায় ইডেন গার্ডেনে রিচা ঘোষকে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সম্মানিত করে সিএবি ও রাজ্য সরকার।
উত্তরবঙ্গে ১৬১ কোটি টাকার পুনর্গঠন প্রকল্প
উত্তরবঙ্গে টানা বৃষ্টি ও বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর আজ, সোমবার শিলিগুড়িতে উচ্চ পর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বৈঠকে রাজ্যের বিভিন্ন দফতরের শীর্ষ আধিকারিকদের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের জেলা প্রশাসনের কর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। বন্যা ও ধসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির হাতে ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেওয়ার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী চা শ্রমিকদের নতুন স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং ১৬১ কোটি টাকার পুনর্গঠন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন। জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিং, কোচবিহার-সহ উত্তরবঙ্গের মোট ২২টি জেলার প্রশাসনিক কর্তারা ভার্চুয়ালি এই বৈঠকে যুক্ত ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ডিসেম্বরের মধ্যে উত্তরবঙ্গের জন্য আরও একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প ঘোষণা করা হবে।
জিএসটি ইস্যুতে কেন্দ্রকে আক্রমণ
উত্তরকন্যার বৈঠক থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে জিএসটি ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। সরাসরি জিএসটি তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি অভিযোগ করেন যে, কেন্দ্র সরকার নিজেদের ‘মস্তিষ্ক প্রসূত’ মরুভূমি বৃক্ষের মতো পরিকল্পনা চাপিয়ে দিয়ে রাজ্যের পাওনা টাকা দিচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘নিজেদের শেয়ারের টাকা না দিয়ে বিজেপি শাসিত রাজ্যকে দেওয়া হচ্ছে।’ কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের অভিন্ন কর কাঠামো জিএসটি মেনে নেওয়া তাঁদের ‘বড় ভুল’ ছিল বলে মেনে নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ‘জিএসটি মেনে নেওয়া বড় ব্লান্ডার হয়েছিল!’ মুখ্যমন্ত্রী এ-ও জানান যে, জিএসটি যখন শুরু হয়, তখন রাজ্যের তৎকালীন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র তাঁকে অভিন্ন কর কাঠামো সম্পর্কে বুঝিয়েছিলেন। তার পরে প্রথম রাজনৈতিক দল হিসাবে তৃণমূল এবং রাজ্য সরকার হিসাবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার জিএসটি-কে সমর্থন করেছিল। কিন্তু জিএসটির নামে রাজ্যগুলি থেকে টাকা তুলে নিয়ে গেলেও রাজ্যের ভাগের টাকা কেন্দ্র দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন মমতা। তিনি বলেন, ‘অন্য রাজ্যকে টাকা দিচ্ছে। বিজেপির রাজ্যে সব খরচ করছে। কিন্তু বাংলার ভাগের টাকা না-দিয়ে সব নিয়ে চলে যাচ্ছে। আমি মনে করি রাজ্যের কর রাজ্যকে ফেরত দেওয়া উচিত।’ মমতা আরও বলেন, ‘টাকা তো দেয়ইনি, উল্টে আমাদের রাজ্য থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা নিয়ে চলে গিয়েছে। উত্তরবঙ্গে এত বড় বিপর্যয়ের পরেও একটা টাকাও দেয়নি কেন্দ্র। সব আমাদের করতে হয়েছে।’