মমতার নিরাপত্তা প্রশ্নে অগ্নিমিত্রার বিস্ফোরক মন্তব্য, রাজ্য রাজনীতিতে তুমুল চর্চা
সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
‘পরিবারের কাছেই তিনি নিরাপদ নন। সেখানে তাঁকে কে বাঁচাবে? রাজ্য সরকারের সুরক্ষা নেবেন কি না, সেটা তাঁর ব্যাপার।’ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা রক্ষী পরিবর্তন নিয়ে বিতর্কের প্রেক্ষিতে মমতা নিজের পরিবারের কাছে সুরক্ষিত নয় বলে বিষ্ফোরক দাবি করলেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
গতকাল অর্থাৎ বুধবার রাতে প্রাথমিক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন কর্মরত তার জন্য বরাদ্দ ও সরকারি নিরাপত্তা রক্ষীদের রাজ্য সরকার প্রত্যাহার করেছে বলে অভিযোগ তোলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। যদিও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন অসমর্থিত সূত্রে দাবি করা হয়েছে নিরাপত্তা প্রত্যাহার না করে নিরাপত্তা রক্ষীদের বদল করা হয়েছে। বিগত প্রায় ২০ বছর ধরে যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পার্সোনাল সিকিউরিটি অফিসার বা পিএসও হিসেবে কাজ করতেন, তাঁদের বুধবার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পিএসও-র দায়িত্ব দিয়ে ৪-৫ জনকে পাঠানো হলেও তাঁদের নিতে চাননি মমতা। এই বিষয়ে ডেরেক ও ব্রায়েন জানান, রাত সাড়ে ৯টায় কয়েকজন অচেনা অফিসারকে বাড়িতে পাঠানো হয়েছিল। মমতা তাঁদের চেনেন না। তাই ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁদের।
এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত ১৫ বছরে বাংলার মানুষকে বিপদে ফেলে দিয়েছেন। বিশাল কনভয়, বাড়ির সামনে পুলিশের ব্যারিকেড, কম তো অত্যাচার করেননি। আপনি এখন দেখাচ্ছেন সুরক্ষা চান না। এসব তো বাংলার মানুষ বিচার করবে। ১৫ বছর নিজেকে সুরক্ষিত করে বাংলার মানুষকে পাহাড়ের ধারে ঠেলে দিয়েছিলেন। ধাক্কা দেওয়াটা শুধু বাকি ছিল।’ সাংসদ সাগরিকা ঘোষও এই প্রসঙ্গে এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করেন। কেন দীর্ঘদিনের কর্মীদের প্রত্যাহার করা হল, কেনই বা গভীর রাতে মমতাকে নিরাপত্তাহীন করে দেওয়া হল, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিএসও-দের নাম উল্লেখ করে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে যা ঘটল, তা দুর্ভাগ্যজনক ও অনভিপ্রেত। বাড়ি কার্যত নিরাপত্তাহীন। দীর্ঘদিনের নিরাপত্তাকর্মীদের সরানো হয়েছে নেত্রীর মতো ভিআইপি-কে না জানিয়ে। পুলিশ প্রশাসনের যে পর্যায়তেই এই সিদ্ধান্ত হোক, প্রতিবাদ করে পুনর্বিবেচনার দাবি রাখছি। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অনুরোধ, নেত্রীর দীর্ঘদিনের পিএসও স্বরূপ গোস্বামী, কুসুম দ্বিবেদী সব পুরনো সিস্টেম আবার কার্যকর করুক সরকার। আপনি বিষয়টা দেখুন।’

মুখ্যমন্ত্রী পদ চলে যাওয়ার পরই হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের গলি থেকে গার্ডরেল সরিয়ে দেওয়া হয়। হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের মুখে যে পুলিশ কিয়স্ক থাকত এবং সাধারণ মানুষের অবাধ যাতায়াত বন্ধ ছিল, তা ফের চালু করা হয়। যদিও মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর শুভেন্দু অধিকারী একটি বৈঠকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তায় যাতে কোনও গাফিলতি না হয়। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রাপ্য সম্মান যাতে বজায় থাকে, সেদিকে নজর দেওয়ার কথা বলেছিলেন শুভেন্দু।