Swiggy Instamart ও HPCL-এর যুগান্তকারী উদ্যোগ, আর অপেক্ষা নয়—অ্যাপে অর্ডার করলেই দ্রুত পৌঁছে যাবে গ্যাস সিলিন্ডার, বড় শহরগুলিতেও সম্প্রসারণের ইঙ্গিত
শৌনক মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
রান্না করতে করতে হঠাৎ গ্যাস শেষ! এমন পরিস্থিতিতে পড়ে বহু মানুষকেই ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে। সিলিন্ডার বুক করার পর কখন ডেলিভারি হবে, সেই অপেক্ষায় কখনও ঘণ্টা, কখনও আবার এক-দু’দিনও কেটে যায়। তবে সেই চেনা সমস্যার দিন এবার শেষ হতে পারে। কারণ দেশে প্রথমবার এমন এক পরিষেবা চালু হয়েছে, যেখানে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই বাড়িতে পৌঁছে যাবে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার।
দেশের অন্যতম জনপ্রিয় কুইক কমার্স প্ল্যাটফর্ম [Swiggy Instamart (Quick Commerce)] এবং রাষ্ট্রায়ত্ত [HPCL (Hindustan Petroleum Corporation Limited)] যৌথভাবে এই অভিনব উদ্যোগ শুরু করেছে। আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে পরিষেবা চালু হয়েছে [বেঙ্গালুরু (Bengaluru)] শহরে। তবে সফল হলে খুব দ্রুত দেশের অন্যান্য বড় শহরেও এই পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে অনলাইনে মুদিখানার জিনিস, ওষুধ, ফল-সবজি থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কয়েক মিনিটে পৌঁছে যাচ্ছে বাড়িতে। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হল রান্নার গ্যাসও। ফলে জরুরি মুহূর্তে গ্যাস শেষ হয়ে গেলে আর দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হবে না।
তবে শুরুতেই সব ধরনের সিলিন্ডার পাওয়া যাবে না। আপাতত গ্রাহকরা ৫ কেজি এবং ১০ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার অর্ডার করতে পারবেন। ১০ কেজির ক্ষেত্রে দেওয়া হবে HP Navya কম্পোজিট সিলিন্ডার এবং ৫ কেজির ক্ষেত্রে থাকবে সাধারণ ধাতব সিলিন্ডার। বড় ১৪.২ কেজির গৃহস্থালি সিলিন্ডার এখনও এই পরিষেবার আওতায় আসেনি।
এই পরিষেবার অন্যতম আকর্ষণ HP Navya কম্পোজিট সিলিন্ডার। প্রচলিত লোহার সিলিন্ডারের তুলনায় এটি অনেকটাই হালকা। ফলে বহন করা যেমন সহজ, তেমনই বাড়ির ভিতরে সরিয়ে রাখতেও অতিরিক্ত কষ্ট হয় না।
শুধু তাই নয়, এই কম্পোজিট সিলিন্ডারে মরচে পড়ার কোনও আশঙ্কা নেই। ফলে রান্নাঘরের মেঝে বা দেওয়ালে লালচে দাগ পড়ার সমস্যাও থাকবে না। আরও বড় সুবিধা হল, এই বিশেষ ডিজাইনের সিলিন্ডারে বাইরে থেকেই গ্যাসের স্তর দেখা যায়। অর্থাৎ কতটা গ্যাস বাকি রয়েছে, তা বুঝতে আর সিলিন্ডার নাড়াচাড়া করতে হবে না।
সবচেয়ে বড় চমক লুকিয়ে রয়েছে নতুন গ্রাহকদের জন্য। এই পরিষেবা ব্যবহার করতে আগে থেকে কোনও LPG (Liquefied Petroleum Gas) সংযোগ থাকার প্রয়োজন নেই। প্রথমবার অ্যাপের মাধ্যমে সিলিন্ডার অর্ডার করলেই সেটিকে নতুন কানেকশন হিসেবে ধরা হবে। এরপর গ্যাস শেষ হলে পুরনো খালি সিলিন্ডার ফেরত দিয়ে রিফিল বুক করলেই হবে।
সংস্থার দাবি, মূলত ব্যাচেলর, পড়ুয়া, কর্মসূত্রে একা থাকা মানুষ, ছোট পরিবার এবং যাঁদের দ্রুত গ্যাসের প্রয়োজন হয়, তাঁদের কথা ভেবেই এই পরিষেবার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ফলে অস্থায়ীভাবে থাকা বা ভাড়াবাড়িতে বসবাসকারী বহু মানুষের জন্য এটি বড় স্বস্তির খবর হতে পারে।
তবে রান্নার গ্যাস অত্যন্ত সংবেদনশীল পণ্য হওয়ায় নিরাপত্তার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। Swiggy Instamart জানিয়েছে, সাধারণ ডেলিভারি পার্টনারদের হাতে এই সিলিন্ডার তুলে দেওয়া হবে না। বরং HPCL-এর অনুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটর এবং বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীরাই সম্পূর্ণ নিরাপত্তা বিধি মেনে গ্রাহকের বাড়িতে সিলিন্ডার পৌঁছে দেবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কুইক কমার্সের বাজারে এটি একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে। আগামী দিনে যদি বড় আকারের গৃহস্থালি সিলিন্ডারও এই পরিষেবার আওতায় আসে, তাহলে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে। একই সঙ্গে অন্যান্য তেল বিপণন সংস্থাও একই পথে হাঁটতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এখন নজর একটাই—বেঙ্গালুরুর সাফল্যের পর কবে কলকাতা, দিল্লি, মুম্বই বা দেশের অন্যান্য শহরে পৌঁছবে এই ১০ মিনিটের গ্যাস ডেলিভারি পরিষেবা? লক্ষ লক্ষ গ্রাহক সেই ঘোষণার অপেক্ষায়।