সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
“বাংলা মাথা নোয়াবে না। আমরা ভিক্ষা করব না। আমরা নতুন করে সম্পদ সৃষ্টি করব, বাংলা নিজের শক্তিতে উন্নতি করবে।” এভাবেই আজ শুক্রবার লোকসভায় কেন্দ্রীয় বাজেটে বাংলাকে বঞ্চনার অভিযোগে গর্জে উঠলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ডহারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিন বাজেট অধিবেশন চলাকালীন ফের একবার অভিষেকের মুখে শোনা গেল সেই একই সুর। কেন্দ্রের তৃতীয় মোদি সরকারের বাজেটকে ‘বাংলাবিরোধী’ তকমা দিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, “বাংলার সাত হাজার কোটি টাকা এখনও দেয়নি কেন্দ্র।”
শুক্রবার সংসদে বাজেট নিয়ে নিজের ভাষণের শুরু কৃষক বঞ্চনা নিয়ে সুর চড়ালেন অভিষেক। তাঁর দাবি, “ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বাড়ানোর দাবিতে ক্রমাগত আন্দোলন চালিয়ে চলেছেন কৃষকরা। কিন্তু কেন্দ্র সেই দিকে কান পাততে নারাজ। তাদের সহায়ক মূল্য বাড়ানো কিংবা ঋণ মকুব তো দূর উল্টে ঋণ নেওয়ার মাত্রা বাড়িয়ে দিল কেন্দ্র। যার মধ্যে দিয়ে পরোক্ষভাবেই দেশের কৃষকদের আরও ঋণ নেওয়ার দিকেই ঠেলে দিয়েছে তারা।”
পাশাপাশি তাঁর আরও দাবি, “যেখানে দেশের বেশির ভাগ শিশুরা আজও অপুষ্টিতে ভুগছে, সেখানে দাঁড়িয়ে পিএম পোষণ প্রকল্পে অর্থ বাড়াচ্ছে না কেন্দ্র। নির্বাচনের আগে সব ঘরে এলপিজি গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু আকাশছোঁয়া দামের জেরে সেই গ্যাস ভরার টাকা পকেটে নেই দেশের প্রায় ১.২ কোটি গৃহস্থের।”
আদমসুমারি নিয়েও সুর চড়িয়ে অভিষেকের দাবি, “জনগণনা ছাড়া কোনও নতুন প্রকল্প বা নীতি নির্ধারণ করা অন্ধকারে তির চালানোর সমান।”
এরপরেই কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে অভিষেক বলেন, “বিজেপি গরিবের থেকে নিয়ে ধনীদের ট্যাঁক ভরাচ্ছে।”
পাশাপাশি, বিহারকে ভরিয়ে, বাংলাকে বাজেটে বঞ্চিত রাখা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তৃণমূল সাংসদ। তাঁর দাবি, “বিহারে বিজেপির শরিক জনতা দলের ১২ জন সাংসদ আছে। বাংলাতেও বিজেপি ১২ জন সাংসদ রয়েছে। তবে পার্থক্য একটাই বিহার ক্ষমতায় বিজেপি, বাংলায় নয়। তাই বাজেটে ভরে গেল বিহার, বাংলায় পড়ল বাঁধ। এটি একটি বাংলাবিরোধী বাজেট। এছাড়াও, গত কয়েক বছর ধরে বাংলার প্রাপ্য সাত হাজার কোটি টাকা আটকে রেখেছে কেন্দ্র।”
তাঁর দাবি, পাশের রাজ্য বিহারে শুধু বিজেপি সরকারে আছে বলে বিহার বোনাঞ্জা পাচ্ছে। আর বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় নেই বলে বাংলা পাচ্ছে বঞ্চনা। সংসদে অভিষেক দাবি করলেন, দেশে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর নামে ‘হাফ ফেডারেলিজম’ চলছে। কী এই হাফ ফেডারেলিজম? সেটার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন অভিষেক। বাজেটের জবাবি ভাষণে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বললেন, “বিহারে বিজেপির ১২ জন সাংসদ আছেন। বাংলাতেও বিজেপির ১২ জন সাংসদ। কিন্তু বিহারে বিজেপি শাসক শিবিরে তাই বিহার বোনাস পাচ্ছে আর বাংলায় যেহেতু বিজেপি বিরোধী আসনে তাই অর্থনৈতিক বঞ্চনা ছাড়া আর কিছুই পাচ্ছে না। এটাই ‘হাফ ফেডারেলিজম’।”
তথ্য তুলে ধরে অভিষেকের দাবি, “বাংলার জন্য উল্লেখযোগ্য একটিও আর্থিক প্যাকেজ বা বড় প্রকল্প ঘোষণা করা হয়নি। উলটে বাংলা বিভিন্ন প্রকল্পে কেন্দ্রের কাছে ১.৭ লক্ষ কোটি টাকা পাওনা। সেই বকেয়াও মেটানো হচ্ছে না। এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আর্থিক অবরোধ। সুপরিকল্পিতভাবে বাংলার উন্নয়ন এবং আর্থিক বৃদ্ধি রুখে দেওয়া হচ্ছে।”

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, শুধু ১০০ দিনের কাজে ৭ হাজার কোটির বেশি বকেয়া রাজ্যের। বাংলার ৫৯ লক্ষ শ্রমিক বঞ্চিত। আবাস যোজনায় ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি বকেয়া। এতে ১৩ লক্ষ পরিবার বঞ্চিত। এরপর অভিষেক জানিয়ে দেন, কেন্দ্রের বঞ্চনা সত্ত্বেও বাংলা এই কর্মপ্রার্থীদের কাজ দিচ্ছে, গৃহহীনদের বাড়ি দিচ্ছে। অভিষেকের সাফ কথা, “বাংলা মাথা নোয়াবে না। আমরা ভিক্ষা করব না। আমরা নতুন করে সম্পদ সৃষ্টি করব, বাংলা নিজের শক্তিতে উন্নতি করবে।”