সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস পুজো নিয়ে রাজ্যবাসীর জন্য করলেন বড় ঘোষণা। তিনি বলেন, ১২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হবে। তার জন্য আমরা প্রস্তুত। আজ থেকে পুজোর কন্ট্রোল রুম চালু হল। জগদ্ধাত্রী পুজোর বিসর্জনের পর এই কন্ট্রোল রুম বন্ধ হবে। পুজোর সময় দফতরের ছুটি বাতিল। ১৬১৬ জন সিনিয়র অফিসার অফিসে থাকবে। বিদ্যুৎ দফতরের ৭৩৪১৪ জন কর্মী কাজ করবে। মোবাইল ভ্যান ৩৪৫০টা থাকবে। পুজোর পর অতিরিক্ত বিদ্যুতের বিল আসবে না, রাজ্যবাসীকে আশ্বাস বিদ্যুৎমন্ত্রীর।
পুজোর সময় পুলিশ-প্রশাসনের পাশাপাশি দিনরাত কর্তব্যে অনড় থাকে বিদ্যুৎ দফতর। এবছর শারদোৎসব উপলক্ষ্যে বুধবার থেকেই চালু হয়ে গেল বিদ্যুৎ দফতরের কন্ট্রোল রুম। চলবে জগদ্ধাত্রীপুজো পর্যন্ত, সাংবাদিক বৈঠকে জানালেন রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। প্রথমে হল পুজোর সময় বিদ্যুৎ পরিষেবা নিয়ে বৈঠক। ছিলেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, বিদ্যুৎ সচিব শান্তনু বসু-সহ রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার শীর্ষ আধিকারিকরা। ছিলেন ইসিএসসি-এর প্রতিনিধিও। বিদ্যুৎমন্ত্রীর পরামর্শ, বিদ্যুৎ দফতর থেকে চাহিদা অনুযায়ী সঠিক সংযোগ নিতে হবে উদ্যোক্তাদের।
এদিন, সাংবাদিক বৈঠকে অরূপ বলেন, পুজোর সময় বিদ্যুৎ সংক্রান্ত সমস্যা মেটানোর জন্য চালু করা হল কন্ট্রোল রুম। ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকবে। বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, দুর্গাপুজো, কালীপুজো, জগদ্ধাত্রী পুজোতে নীরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা দিতে চায় রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষৎ। সেই কারণে, বুধবার থেকে শুরু করে জগদ্ধাত্রী পুজো পর্যন্ত খোলা থাকবে ২৪ ঘণ্টার পুজো কন্ট্রোল রুম। উৎসবের সময়ে বিদ্যুৎ দফতরের কর্মী ও আধিকারিকদের ছুটি থাকছে না। তিনি জানান, গণেশ চতুর্থী থেকে চালু হয়ে গেল বিদ্যুৎ দফতরের পুজোর কন্ট্রোল রুম। এই কন্ট্রোল রুম চালু থাকবে জগদ্ধাত্রী পুজোর বিসর্জন পর্যন্ত। বুধবার এ কথা জানান বিদ্যুৎ মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। এ বছরের পুজোর মরশুমে মোট ১২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হবে। তারজন্যে আমরা প্রস্তুত বলে জানান বিদ্যুৎ মন্ত্রী।
এর পরেই বিদ্যুৎমন্ত্রীর পরামর্শ, চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সংযোগ নিন পুজো উদ্যোক্তরা। অনেক সময়ই দেখা যায়, প্রয়োজনরে তুলনায় কম ইউনিট নেন তাঁরা। ফলে বিদ্যুতের তার ও যন্ত্রাংশের উপর চাপ পড়ে আগুন লেগে যায়। এলাকায় আঁধার নেমে আসে। এর থেকে যত পরিমাণ দরকার,তত পরিমাণই ইউনিট নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অরূপ। একই সঙ্গে ছেঁড়া ও খোলা তার যেন ব্যবহার না করা হয়। মণ্ডপের ভিতর মূল সংযোগ স্থাপনকারী তারগুলি পাইপের মধ্যে দিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

অরূপ বিশ্বাস জানিয়েছেন, প্রত্যেক বছরের মতোই এবারও ডিভিসি, এনটিপিসি, রেল-সহ বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করেছে সরকার। পুজো মণ্ডপে বিদ্যুৎ সংযোগ সংক্রান্ত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য বিদ্যুৎপর্ষদ যে এলাকায় পরিষেবা দেয়, সেখানে ২০১১ সালে ২০ হাজার ৯৭০টি পুজো হত। এতে মাত্র ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ লাগত। এখন পুজো হয় ৫০ হাজার ৫৫০টি। এখন ১৩৪৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ ৫৪২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে চাহিদা। সিইএসসি-র পরিষেবা অঞ্চলে ২০২৪ সালে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে ৫ হাজার ৪৮৪ পুজোয়। এতে বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয় ৫৫ মেগাওয়াট। সব মিলিয়ে ৫৬ হাজার ৩৪টি পুজো হয় যেখানে সরকারিভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়। এছাড়াও বিভিন্ন বাড়ির পুজো এবং ক্লাবের পুজো থাকে যেখানে আলাদা করে বিদ্যুৎ সংযোগ লাগে না।
গত বছর তৃতীয়া এবং চতুর্থীতে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে। চতুর্থীতে ৯ হাজার ৯১২.৭১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। তারপরে ধাপে ধাপে চাহিদা কমে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, এইবছর প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হতে পারে। সরকার এবং সিইএসসি এর জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি।