সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
কলকাতা হাইকোর্টে বড়সড় ধাক্কা খেলো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ে ২০১৬ সালে চাকরি পাওয়া এস এস সি গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি যে সমস্ত কর্মীদের চাকরি ছাটাই হয়েছিল তাদের রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মাসে ২০ হাজার এবং ২৫ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্টের স্থগিতাদেশে আগামী ২০২৬ সালের ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত এই ভাতা দেওয়া যাবে না।
এসএসসি-র ২০১৬ সালের প্যানেলের চাকরিহারা গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি কর্মীদের ভাতা দেওয়া নিয়ে রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের উপরে আগেই অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। এ বার সেই স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও বাড়াল আদালত। হাইকোর্টের নির্দেশ, আগামী বছর ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত দেওয়া যাবে না কোনও ভাতা। শুক্রবার বিচারপতি অমৃতা সিনহার আদালতে এই মামলাটি ওঠে। তিনিই এই নির্দেশ দিয়েছেন।
রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যারা গ্রুপ সি-তে কর্মরত ছিলেন তাদের ২৫ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হবে এবং যারা গ্রুপ ডি-র কর্মী ছিলেন তারা ২০ হাজার টাকা ভাতা পাবেন। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই এর বিরোধিতায় মামলা হয় কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহারই এজলাসে। সেই সময়ই আদালত স্পষ্ট করেছিল, কোনও ভাবেই এই ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়। আর এই সিদ্ধান্তে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করা হয়।
এই মামলায় প্রথমেই কলকাতা হাইকোর্ট প্রশ্ন তুলেছিল, যাদের ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার তারা কীসের ভিত্তিতে এই টাকা পাবেন এবং ২৫ হাজার বা ২০ হাজার টাকার অঙ্কটাও কী ভিত্তি নির্ধারিত হল। সরকার ঠিক কী ভেবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা জানতে চায় রাজ্যের উচ্চ আদালত। বিশেষত, যাদের আর্জি সুপ্রিম কোর্টও গ্রহণ করেনি তাদের কেউ কেন ঘরে বসে টাকা পাবে তাও রাজ্য সরকারের থেকে, এই নিয়েই আপত্তি ছিল কলকাতা হাইকোর্টের।
এই ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে কলকাতা হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের হয়েছিল। মামলাকারীদের আইনজীবীর দাবি ছিল, চাকরিহারা গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি কর্মীদের ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরিপন্থী। অতীতে সেই আবেদনের প্রেক্ষিতেই আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভাতা দেওয়ার উপরে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। এ বার স্থগিতাদেশের সময়সীমা আরও বাড়ানো হলো।