শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
‘মালদায় আদিনা মসজিদ নয়, বরং সেখানে ছিল আদিনাথ মন্দির এবং একদিন হিন্দুরা এই মসজিদের কবর খুঁড়ে আসল ইতিহাস বের করবে।’ সংসদের শীতকালীন অধিবেশন চলাকালীন মালদার ঐতিহাসিক আদিনা মসজিদ নিয়ে এমন বিস্ফোরক দাবি করলেন বিজেপি সাংসদ তথা বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। শুক্রবার রাজ্যসভায় উপরাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘ইতিহাস বদলানো যায় না। একদিন হিন্দুরা ঠিক এই আদিনা মসজিদের কবর খুঁড়বে এবং তার থেকে বেরিয়ে আসবে আসল তথ্য।’
শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেন যে আদিনা মসজিদ যেখানে অবস্থিত, সেখানে আসলে ছিল আদিনাথ মন্দির। তাঁর মতে, এর ঐতিহাসিক প্রমাণ এবং এএসআই-এর নথিও রয়েছে। তিনি সংসদ কক্ষে উপরাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করেন, যাতে এই আদিনাথ মন্দিরের আসল রহস্য উন্মোচন করার জন্য সরকার পদক্ষেপ নেয়। সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে রাজ্যসভায় এই নিয়ে বক্তব্য রাখলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘আমরা ইতিহাসকে মিটিয়ে দিতে পারি না। নিজের কারবারকে ছাড়তে পারিনা। সংস্কৃতিকে মিটিয়ে ফেলতে পারিনা। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে এমনটাই চলছে। যেখানে বাবরি মসজিদ বানাতে চাইছে সেখানে আদিনাথ মন্দির ছিল তার আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার ঐতিহাসিক তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। সরকারের কাছে জমিরক্ষার জন্য আবেদন করলেন শমীক ভট্টাচার্য। পশ্চিমবঙ্গে বাবরি মসজিদ হতে দেবনা আমরা। এটা শুধু বাবর আর রামের লড়াই নয়। এটা ভারতের সংস্কৃতি বাঁচানোর লড়াই।’
অন্যদিকে, মন্দারমণি সমুদ্রসৈকতে অবৈধভাবে তৈরি রিসর্ট ভাঙতে রাজ্য সরকার ইচ্ছুক নয়, এমনই অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। রাজ্য সভাপতি ও রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য কেন্দ্রীয় পরিবেশ, অরণ্য ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের এক রিপোর্ট দেখিয়ে দাবি করেন, ২০২২ সালের মে মাসে জাতীয় গ্রিন ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে একটি যৌথ কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটিতে জাতীয় ও পশ্চিমবঙ্গ কোস্টাল জোন ম্যানেজমেন্ট অথরিটি, জাতীয় ও রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড এবং পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। গ্রিন ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ ছিল, মন্দারমণির নো ডেভেলপমেন্ট জোন-এ যেসব হোটেল, রিসর্ট বা রেস্তোরাঁ প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া চলছে, তা অবিলম্বে ভেঙে ফেলা এবং জরিমানা আদায় করতে হবে। সেই জরিমানার অর্থ দিয়ে সৈকতের পরিবেশগত ক্ষতি পূরণ করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনারও নির্দেশ ছিল। কিন্তু দু’ বছর কেটে গেলেও, আইনি জটিলতার আড়ালে এখনও পর্যন্ত কোনও অবৈধ রিসর্ট ভাঙা হয়নি, অভিযোগ বিজেপির।

গত বছর ১১ নভেম্বর মন্দারমণির ‘অবৈধ’ হোটেল-লজ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল জেলা প্রশাসন। তবে হোটেল মালিকদের সংগঠন সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে গেলে বিচারপতি অমৃতা সিং ২২ নভেম্বর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেন, যা প্রথমে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকে। এর মাঝেই আদালত ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসককে পুরো বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছিল। পাশাপাশি, সিআরজেড জেলা কমিটি মন্দারমণি ও সংলগ্ন চারটি মৌজায় মোট ১৪৪টি হোটেল, লজ, রিসর্ট ও হোম স্টে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়। কিন্তু স্থগিতাদেশ ও আইনি প্রক্রিয়ার কারণে তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।