শৌভিক তালুকদার। কলকাতা সারাদিন।
‘বাংলার বকেয়া কবে মেটানো হবে নরেন্দ্র মোদি জবাব দাও।’ কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে বাংলার প্রাপ্য বকেয়া ডাকার দাবিতে সংসদের ভেতরে ও বাইরে এমন স্লোগান তুলে সরব হলেন তৃণমূলের লোকসভায় এবং রাজ্যসভার সাংসদরা।
কেন্দ্রীয় প্রকল্পে বাংলার জন্য কত টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে? আজ থেকে প্রায় ২১ মাস আগে সে সংক্রান্ত শ্বেতপত্র প্রকাশের চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ২১ মাস পেরোনোর পরও কেন্দ্রের তরফে কোনও শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হয়নি।এবার সেই দাবি নতুন করে জোরালো করার উদ্যোগ নিল তৃণমূল কংগ্রেস। শ্বেতপত্র প্রকাশ না করার প্রতিবাদে সংসদে অভিনব বিক্ষোভ দেখালেন তৃণমূল সাংসদরা।
প্রসঙ্গত, অভিষেক দীর্ঘদিন বলে আসছেন, ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটে বিজেপি বাংলায় হারার পর থেকেই ১০০ দিনের কাজ এবং আবাস যোজনার টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। ভোটে জিততে না পেরে বাংলার মানুষকে ভাতে মারার পরিকল্পনাতে বিজেপির এই প্রচেষ্টা বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ বলেছিলেন, ‘২০২১ সালে ভোটে হারের পর থেকে কেন্দ্রীয় সরকার যদি এক পয়সাও ১০০ দিনের কাজে বাংলাকে দিয়ে থাকে, তা হলে তা শ্বেতপত্র আকারে প্রকাশ করা হোক। বিজেপির লোক জন মিথ্যা বলতে পারেন, কিন্তু কাগজ কখনও মিথ্যা বলে না।’
বুধবার লোকসভা রাজ্যসভার সাংসদদের দেখা গেল সাদা কাগজ হাতে বিক্ষোভ দেখাতে। শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি, তাই সাদা কাগজে কিছু না লিখেই প্রতিবাদ করা হয়। সঙ্গে স্লোগান, ‘বাংলার বকেয়া কবে মেটানো হবে নরেন্দ্র মোদি জবাব দাও।’ এদিন তৃণমূলের বিক্ষোভে শামিল হয়েছে কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টিও। কংগ্রেসের এক সাংসদ এবং সমাজবাদী পার্টির এক সাংসদও তৃণমূলের সাংসদদের সঙ্গে সাময়িকভাবে যোগ দেন প্রতিবাদে। শাসকদলের বক্তব্য, তাঁদের দাবি যে বৈধ, সেটা অন্য বিরোধী দলগুলির সমর্থনেই স্পষ্ট। রাজ্যের বকেয়া ইস্যু নিয়ে সমাজবাদী পার্টি বা কংগ্রেসের তেমন মাথাব্যাথা থাকার কথা নয়, তবু তারা প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন। এতেই স্পষ্ট, এই ইস্যুর গুরুত্ব কতটা।

এদিনের প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রসঙ্গে রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমাদের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক একুশ মাসে কেন্দ্রকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছিলেন। বাংলার কতটাকা বকেয়া রয়েছে। বাংলায় কেন্দ্রীয় প্রকল্পের জন্য কত টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, সেটার শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হোক। কিন্তু আজও কোনও শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হয়নি। তাই আমরা আজ কেন্দ্রের এই নীরবতার প্রতিবাদ করছি।’