সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
‘সংঙ্ঘের কোনও নিয়ন্ত্রণ স্বয়ংসেবকদের উপর নেই, কোনও রিমোট আমাদের হাতে থাকে না।’ বহু বিতর্কের মধ্যে দিয়ে কলকাতায় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস শতবর্ষ প্রতীক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এভাবেই বহু বিতর্কের জবাব দিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ প্রধান মোহন ভাগবত। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার হোক অথবা গোটা দেশে বিজেপির সংগঠন – যে কোন পদক্ষেপের পিছনে আরএসএসের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে দাবি করে বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। কিন্তু কলকাতায় আরএসএসের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে শতায়ু সঙ্ঘ অনুষ্ঠানে মোহন ভাগবত বলেন, ‘সংঙ্ঘের কোনও নিয়ন্ত্রণ স্বয়ংসেবকদের উপর নেই, কোনও রিমোট আমাদের হাতে থাকে না।
সংঘর এটা পদ্ধতি নয়। সঙ্ঘর শাখায় স্বয়ংসেবকরা আসেন। ওদের উপর কোনও কন্ট্রোল কখনওই থাকে না। আমাদের কাজ বন্ধুত্ব, শুদ্ধ সাত্ত্বিক প্রেমের পথে চলা। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ, ব্যকসিট ড্রাইভিংয়ের অনেক ন্যারেটিভ সামনে আসে। সেগুলি কী করে আসে তা আপনাদের জানা। কিন্তু এই সব কথায় রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের দায়িত্ব পাওয়া কার্যকর্তারা কর্ণপাত করেন না।’
আরএসএসের শতবর্ষ অনুষ্ঠানে বাংলায় এসে বৃহত্তর হিন্দু ঐক্যের ডাক দিলেন সরসংঘচালক মোহন ভাগবত। এমনকী বিজেপি থেকে আরএসএসের পৃথক অবস্থান ব্যক্ত করলেন।
মোহন ভাগবতের এই পৃথক অবস্থান ঘোষণা করার পর থেকে জাতীয় রাজনীতির অলিন্দে জোর চর্চা হতে শুরু করেছে। আর বাংলায় দাঁড়িয়ে এমন কথা বলায় বিজেপি নেতাদের বুঝিয়ে দিলেন একই পথে বিজেপি-আরএসএস চলবে না। তিনি আজ বলেছেন, বিজেপি আর আরএসএসকে গুলিয়ে ফেললে ভুল হবে। সংঘের কোনও শত্রু নেই। হিন্দু সমাজের ঐক্য ও সংহতিই একমাত্র লক্ষ্য সংঘের। ঠিক কী বলেছেন সরসংঘচালক? রবিবার মোহন ভাগবত বলেন, ‘সংঘ নিয়ে অনেক সময় ভুল ব্যাখ্যা হয়। অনেকেই নাম জানেন কিন্তু সংঘের সঠিক কাজ জানেন না। আরএসএস শুধু হিন্দু সমাজের উন্নতির কথা ভাবে। কোনওরকম বিরোধের মনোভাব নিয়ে চলে না। সংঘ বাড়লে অনেকের স্বার্থে আঘাত লাগে। কিন্তু সংঘের কোনও শত্রু নেই।’

আরএসএসের হাতে যে কাউকে নিয়ন্ত্রণ করার কোনও ‘রিমোট কন্ট্রোল’ নেই তাও আরও একবার স্পষ্ট করলেন। স্বয়ংসেবকরা যে সত্যিকারেরই স্বয়ং সেবক তাও বললেন প্রকারান্তরে। এদিনের সেমিনার থেকে আরএসএস প্রধান বলেন, ‘অনেক সংস্থা আছে, অনেক মানুষ আছে যাঁরা ব্যক্তিগত কিছু কাজও করছে। এরা সবাই সংঘের স্বয়ংসেবক, ওরা সর্বদাই সঙ্ঘের। ওদের বিচার, সংস্কার, দৃষ্টি সবই সঙ্ঘ দিয়েছে। তার আধারেই ওরা স্বতন্ত্র, স্বাবলম্বী থেকে ওরা নিজেদের কাজ করবে এটাই আশা করা হয়। আর আমরা এইভাবেই চলি। স্বয়ংসেবক হওয়ার পর তাঁরা যে ক্ষেত্রে কাজ শুরু করেন তখন তাঁরা সেখানকার অনুশাসন পালন করে কাজ করেন। তাই আমি বলছি এদের দ্বারা যদি আপনারা সংঘকে দেখবেন বলে মনে করেন তাহলে বলব বাইরে যাঁরা কাজ করেন সেখানে তো অনেক ধরনের কথা হয়, বিপরীত হাওয়ার মধ্যে দাঁড়িয়েও ওদের কাজ করতে হয়। তবে ওদের সঙ্গে শলা পরামর্শ অবশ্যই চলে। আমাদের সাহায্য চাইলে অবশ্যই আমরা ওদের সাহায্য করব। ভাল কাজের জন্য তো আমরা সব সময়ই যে কারও সাহায্য করি।’