সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
চোখের চিকিৎসা করানোর জন্য শর্তসাপেক্ষে তিন সপ্তাহের জন্য বিদেশে যেতে পারবেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা হাইকোর্টে বিদেশ যাত্রার অনুমতি না পেলেও সুপ্রিম কোর্টে কলকাতা হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলা দায়ের করার পরেই বিদেশ যাওয়ার অনুমতি পেলেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ। তবে বিদেশে যাওয়ার আগে দু দিন আগে তাঁকে পুলিশের কাছে জানিয়ে যেতে হবে, তিনি কখন যাবেন, কখন ফিরবেন, ফ্লাইট ডিটেইলস, কোন হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা হবে ইত্যাদি। এছাড়াও বিদেশে তিনি কোন ঠিকানায় থাকবেন জানাতে হবে পুলিশকে।
সুপ্রিম কোর্টে এদিন অভিষেকের আইনজীবী বলেন, আগেও তিনি চোখের চিকিৎসা করাতে বিদেশ গিয়েছেন, হঠাৎ করে তাঁকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর বিরুদ্ধে যে মামলাগুলি চলছে, সেগুনির প্রতিটিরই এফআইআর হয়েছে ৫ মে-র পর। তখন পুলিশের তরফ থেকে বলা হয়, ৫ মে-র আগে তাঁর বিরুদ্ধেঅভিযোগ করা বা মুখ খোলার পরিস্থিতিই ছিল না। তাই এই এফআইআর-গুলি ৫ মে-র পরই হয়েছে।
তখন অভিষেকের আইনজীবী বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তদন্তে সহযোগিতা করেছেন। যখন যখন পুলিশ ডেকেছে, তিনি হাজিরা দিয়েছেন। এ কথা বলে আইনজীবী আদালতকে অনুরোধ করেন, তাঁর মক্কেলকে বিদেশযাত্রার অনুমতি দিতে। আদালত তখন তাঁকে ৩ সপ্তাহের জন্য বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার অনুমতি দেন।
শুনানির শুরুতেই রাজ্য সরকারের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল (এএসজি) এস ভি রাজু অভিষেকের আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি আদালতে দাবি করেন, অভিষেকের বিরুদ্ধে বর্তমানে ১৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং বিদেশে যাওয়ার অনুমতি পেলে তিনি আর দেশে না-ও ফিরতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। কিন্তু রাজ্য সরকারের এই যুক্তি খারিজ করে দেয় শীর্ষ আদালত। শুনানিপর্বে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী পর্যবেক্ষণ জানান, ‘প্রত্যেক ব্যক্তিরই বিদেশে যাওয়ার এবং নিজের পছন্দের চিকিৎসা পরিষেবা বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে।’ বেঞ্চ আরও মনে করিয়ে দেয় যে, মূল মামলাটি একটি নির্বাচনী ভাষণের সঙ্গেই কেবল সম্পর্কিত।
প্রসঙ্গত, চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক। যদিও তাঁকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেননি বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। আদালতের মন্তব্য ছিল, ভারতে বা কলকাতাতে চিকিৎসা করাতে হবে তৃণমূল নেতাকে। গতকাল, বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চ চোখের চিকিৎসার জন্য অভিষেককে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি।
বিচারপতি জানিয়েছিলেন, চিকিৎসা সংক্রান্ত মতামত নেওয়ার জন্য গত বৃহস্পতিবার অভিষেককে এসএসকেএম হাসপাতালে যেতে হবে। সেখানকার চক্ষু বিভাগের প্রধান একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে অভিষেকের বিদেশে গিয়ে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার দিকটি খতিয়ে দেখবেন। কিন্তু অভিষেকের আইনজীবী আদালতে স্পষ্টি জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তাঁর মক্কেল এসএসকেএম-এ যাবেন না। তারপরেই পুরো মামলাই খারিজ করে দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক। সেখানেই তাঁর আর্জির ভিত্তিতে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে শীর্ষ আদালত।