শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে যাওয়ার জন্য বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। এর আগে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে শুভেন্দু কে মুর্শিদাবাদে যাওয়ার অনুমতি না দেওয়ায় কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন শুভেন্দু।
সেই মামলার শুনানির পরে আজ কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌমেন সেন এবং বিচারপতির রাজা বসু চৌধুরীর ডিভিশন বেঞ্চ শুভেন্দুকে শর্তসাপেক্ষে মুর্শিদাবাদের যাওয়ার অনুমতি দিয়ে জানিয়ে দেন মুর্শিদাবাদের নির্দিষ্ট এলাকা গুলিতে যেতে পারলেও তার সঙ্গে দুজনের বেশি যেতে পারবেন না। পাশাপাশি মুর্শিদাবাদের কোন এলাকায় শুভেন্দু অধিকারী কোনরকম জনসভা বা পথসভা করতে পারবেন না এবং উস্কানি ছড়ায় এমন ধরনের কোন প্ররোচনামূলক মন্তব্য করতে পারবেন না।
আদালত এও বলেছে, মুর্শিদাবাদে যাওয়ার ২৪ ঘন্টা আগে স্থানীয় এসপিকে জানাতে হবে। শুভেন্দুর সঙ্গে এলাকায় যেতে পারবেন দুই বিধায়ক ও নিরাপত্তারক্ষীরা। শুধুমাত্র আক্রান্ত পরিবারদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন বিরোধী দলনেতা।
গত শুক্রবার থেকে সংশোধিত ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে মুর্শিদাবাদের কিছু এলাকায় উত্তেজনা চলছে। শুভেন্দু এই পরিস্থিতি পরিদর্শনের জন্য সফরে যেতে চাইলেও পুলিশ অনুমতি দেয়নি। বিচারপতি সৌমেন সেন শুভেন্দু অধিকারীর আইনজীবীর উদ্দেশ্যে বলেন, উনি তো যেতেই পারেন। উনি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। ওঁর সব জায়গায় যাওয়ার স্বাধীনতা আছে। আদালতের অনুমতির কী প্রয়োজন?
তার উত্তরে শুভেন্দুর আইনজীবী আদালতে জানান, এর আগে অনেক জায়গায় যেতে চাইলে বিরোধী দলনেতাকে আটকানো হয়েছে। পুলিশ অনুমতি দেয়নি। সন্দেশখালির ক্ষেত্রেও তাঁকে আটকানো হয়েছিল। সবক্ষেত্রেই আদালতের অনুমতি নিয়ে যেতে হয়েছে। তাঁর আইনজীবী হাই কোর্টে দাবি করেন, “অন্য দলের নেতারা ধুলিয়ানে গিয়েছেন, কিন্তু আমার মক্কেলকে বাধা দেওয়া হচ্ছে। শুধু বিরোধী দলনেতার ক্ষেত্রেই রাজ্যের যত বাধা। এর আগে সন্দেশখালির সময়ও একই ঘটনা ঘটেছিল। রাজ্য পুলিশ শুভেন্দুকে সেখানে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি।”
পাল্টা হিসেবে রাজ্যের তরফে বলা হয়, উনি বিরোধী দলনেতা। ওখানে গিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য রাখলে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত আদালতে দাবি করেন, বিরোধী দলনেতার পদ কোনও সাংবিধানিক পদ নয়। তাই তাঁকে বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে কেন! উনাকে যাওয়ার অনুমতি দিলে উনি শর্ত ভাঙেন। প্রচুর মানুষ তাঁর সঙ্গে থাকেন। পাল্টা হিসেবে শুভেন্দুর আইনজীবী আদালতকে বলেন, মুর্শিদাবাদের পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে।
প্রথমে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের একক বেঞ্চ এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করে, কিন্তু ডিভিশন বেঞ্চে আবেদনের পর শুভেন্দু শর্তসাপেক্ষে অনুমতি পান।