প্রিয়াঙ্কা মান্না। কলকাতা সারাদিন।
কতটাও খুবই রক্তের লাল হয়ে গিয়েছে গরমের ছুটিতে বাঙালির প্রিয় ভ্রমণ গন্তব্য কাশ্মীরের মাটি। তাই বেছে নিন বিকল্প।
পশ্চিমবঙ্গের পড়শি রাজ্য ওড়িশার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত কোরাপুট জেলা তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, আদিবাসী সংস্কৃতি এবং ঐতিহাসিক স্থাপত্যের জন্য বিখ্যাত।
পাহাড়-পর্বত, ঝরনা, গুহা ও সবুজ অরণ্যে ঘেরা এই অঞ্চল প্রকৃতি ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের জন্য এক আদর্শ গন্তব্য।
কোরাপুটের প্রধান দর্শনীয় স্থানসমূহ:
১. দেওমালি পাহাড়
ওড়িশার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ, দেওমালি (উচ্চতা ১,৭৬২ মিটার), ট্রেকিং ও অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য আদর্শ। পাহাড়ের চূড়া থেকে চারপাশের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করা যায়।

২. দুদুমা জলপ্রপাত (মাছকুণ্ড)
প্রায় ১৭৫ মিটার উচ্চতা থেকে পড়া এই জলপ্রপাতটি তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত। এটি “মৎস্য তীর্থ” নামেও পরিচিত।
৩. গুপ্তেশ্বর গুহা মন্দির
জয়পুরের নিকটবর্তী এই গুহা মন্দিরটি শিবের একটি প্রাচীন তীর্থস্থান। প্রতি শ্রাবণ মাসে হাজার হাজার ভক্ত এখানে পুণ্যার্থে আসেন।
৪. কোলাব জলাধার
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই জলাধারটি পিকনিক ও বোটিংয়ের জন্য উপযুক্ত স্থান। এটি কোরাপুট শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
৫. আদিবাসী সংগ্রহশালা
১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগ্রহশালায় ওড়িশার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনধারা, পোশাক, বাদ্যযন্ত্র ও হস্তশিল্পের নিদর্শন সংরক্ষিত আছে।
৬. সবরা শ্রীক্ষেত্র
কোরাপুট শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এই জগন্নাথ মন্দিরটি তার শান্ত পরিবেশ ও স্থাপত্যশৈলীর জন্য পরিচিত।

কোরাপুটে যাতায়াত
কোরাপুট রেলস্টেশনটি ভুবনেশ্বর, কলকাতা, বিশাখাপত্তনম ও বিজয়নগরম থেকে সংযুক্ত। এছাড়াও ২৬ নং জাতীয় সড়ক কোরাপুটের মধ্য দিয়ে গেছে। কলকাতা, ভুবনেশ্বর, ব্রহ্মপুর ও বিশাখাপত্তনম থেকে বাস ও গাড়ি সহজলভ্য। কলকাতা থেকে ট্রেনে যেতে চাইলে সম্বলেশ্বরী এক্সপ্রেস ধরতে পারেন।
হাওড়া স্টেশন থেকে এই ট্রেন ছাড়ার সময় রাত ১০:১০। পরের দিন কোরাপুটে পৌঁছোতে সন্ধে হয়ে যাবে। প্রায় ২১ ঘণ্টা সময় লাগে কলকাতা থেকে এখানে পৌঁছোতে। এই ট্রেনটি প্রতিদিন চলাচল করে এবং হাওড়া থেকে কোরাপুটে সরাসরি যায়।
সড়কপথে যেতে চাইলে কলকাতা থেকে কোরাপুটে সরাসরি বাস পরিষেবা সীমিত। তবে, আপনি কলকাতা থেকে ভুবনেশ্বর বা বিশাখাপত্তনম পর্যন্ত বাসে যেতে পারেন এবং সেখান থেকে কোরাপুটের উদ্দেশ্যে স্থানীয় বাস বা ট্যাক্সি নিতে পারেন।কলকাতা থেকে ভুবনেশ্বর, প্রায় ৮ ঘণ্টা ২৫ মিনিট লাগে। ভুবনেশ্বর থেকে কোরাপুটে যেতে প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় লেগে যাবে।
থাকার ব্যবস্থা
কোরাপুটে বিভিন্ন হোটেল, অতিথিশালা ও ইকো-রিট্রিট উপলব্ধ। দেওমালি পাহাড়ের পাদদেশে ক্যাম্পিংয়ের সুযোগও রয়েছে।
ভ্রমণের সেরা সময়
অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত কোরাপুট ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত। এই সময় আবহাওয়া মনোরম থাকে এবং বিভিন্ন উৎসব ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও ঐতিহাসিক স্থাপত্যের সমন্বয়ে কোরাপুট একটি অনন্য ভ্রমণ গন্তব্য। এই অঞ্চলের শান্ত পরিবেশ ও আদিবাসী সংস্কৃতি আপনাকে মুগ্ধ করবে।