সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
বিশ্বের দরবারে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের অপারেশন সিঁদুর অভিযান নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য সর্বদলীয় সাংসদ প্রতিনিধি দলে তৃণমূলের প্রতিনিধিত্ব করবেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ তৃণমূলের সংসদীয় কমিটির চেয়ারপার্সন মমতা তাঁকে মনোনীত করেছেন বিশ্বের দরবারে ভারত তথা তৃণমূলের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য।
“বিদেশনীতিতে আমরা কেন্দ্রের পাশে রয়েছি। এখনও আমরা কেন্দ্রের দৃষ্টিভঙ্গি ও অ্যাকশনকে সমর্থন করছি। কিন্তু ওরা সদস্য নির্ধারণ করে দিতে পারে না। তারা নিজেদের সদস্য বাছাই করতে পারে, কিন্তু অন্য দলের সদস্য ঠিক করে দিতে পারে না।” ২৪ ঘন্টা আগেই গত কাল অর্থাৎ সোমবার সকালে এভাবেই অপারেশন সিঁদুর নিয়ে বিশ্বের দরবারে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য সর্বদলীয় প্রতিনিধি দলে তৃণমূলের প্রতিনিধি নির্বাচন প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন মমতা।
সেই সঙ্গে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, “কোনও আবেদন আসেনি আমাদের কাছে। যদি আমাদের কাছে আবেদন আসত, তবে আমরা অবশ্যই বিবেচনা করতাম। আমরা দেশের পাশে রয়েছি। আগেও বলেছি, বিদেশনীতিতে আমরা কেন্দ্রের পাশে রয়েছি। এখনও আমরা কেন্দ্রের দৃষ্টিভঙ্গি ও অ্যাকশনকে সমর্থন করছি। কিন্তু ওরা সদস্য নির্ধারণ করে দিতে পারে না। তারা নিজেদের সদস্য বাছাই করতে পারে, কিন্তু অন্য দলের সদস্য ঠিক করে দিতে পারে না। এটা দলের সিদ্ধান্ত। যদি আমায় অনুরোধ করে, তবে আমরা চিন্তাভাবনা করে নাম পাঠাব। লোকসভা-রাজ্যসভার চেয়ারম্যান আমি। অথচ আমাদের কখনও জানানো হয় না। আমাদের জানালে অবশ্যই জানাব।”
এরপরেই কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে গতকাল রাতেই তৃণমূলের কাছে আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রতিনিধি পাঠানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয় বলে জানা গিয়েছে। কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু ব্যক্তিগতভাবে মমতাকে ফোন করে তাকে না জানিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করার পাশাপাশি দলের প্রতিনিধির নাম পাঠানোর অনুরোধ করেন বলে জানা গিয়েছে। এই অনুরোধ পাওয়ার পরেই আজ সকালে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ষকে সর্বদলীয় প্রতিনিধি দলে তৃণমূলের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য মনোনীত করেন মমতা। এর আগে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা না বলই বহুদলীয় সংসদীয় প্রতিনিধিদলে বহরমপুরেঔঞর সাংসদ ইউসুফ পাঠানের নাম রেখেছিল কেন্দ্রের ভাজপা সরকার।
প্রসঙ্গত গতকাল সংসদের প্রতিরক্ষা বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লি রওনা হওয়ার আগে এই সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে অভিষেক বলেন, “তৃণমূল থেকে কে যাবেন এটা বিজেপি কী করে ঠিক করে দিতে পারে। সরকার কী করে ঠিক করে দিতে পারে? তাঁরা তো তৃণমূলের প্রতীকে জিতে সাংসদ হয়েছেন।”
এর আগে কংগ্রেসের প্রতিনিধি নির্বাচন নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। শুক্রবার মোদি সরকারের তরফে কংগ্রেসের কাছে চারটি নাম পাঠাতে বলা হয়। কংগ্রেসের প্রস্তাবিত তালিকায় নাম ছিল প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আনন্দ শর্মা, লোকসভায় কংগ্রেসের উপ-দলনেতা গৌরব গগৈ, রাজ্যসভার সাংসদ সৈয়দ নাসির হুসেন এবং রাজ্যসভার আর এক সাংসদ রাজা ব্রার-এর। কিন্তু শনিবার সকালে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে, দেখা যায়, সেখানে নাম রয়েছে কংগ্রেস সাংসদ শশী তারুরের। যাঁর নাম কংগ্রেসের প্রস্তাবিত তালিকায় ছিলই না।

কাশ্মীরে সাংসদ প্রতিনিধি দল তৃণমূলের
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের সংসদীয় সর্বদলীয় প্রতিনিধি দলে অভিষেকের নাম ঘোষণার পাশাপাশি কাশ্মীরের শ্রীনগর, পুঞ্চ, রাজৌরি সহ পাক সীমান্তবর্তী যে সমস্ত এলাকায় পাকিস্তানি গোলাবর্ষণের ফলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং নিহত হয়েছেন, সেই সমস্ত এলাকা পরিদর্শনের জন্য ৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মমতা। তৃণমূলের রাজ্যসভার সংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, নাদিমুল হক, সাগরিকা ঘোষ, মমতা বালা ঠাকুর এবং বাংলার মন্ত্রী মানুষ ভূঁইয়াকে আগামীকাল ২১ মে থেকে তেইশ মে পর্যন্ত কাশ্মীরের পাক সীমান্তবর্তী যে সমস্ত এলাকায় সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন মমতা।