গাজা (Gaza Summit) নিয়ে আলোচনা চলছিল মিশরে। মঞ্চে বিশ্বের তাবড় রাষ্ট্রনেতারা উপস্থিত। সবার মাঝে নজর কাড়লেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) — কিন্তু রাজনীতি নয়, আলোচনার কেন্দ্রে চলে এলেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি (Giorgia Meloni)।
৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্প হঠাৎই জনসমক্ষে বলে বসেন, “আমার এটা বলার অনুমতি নেই, বললে রাজনৈতিক কেরিয়ার শেষ হয়ে যেতে পারে… কিন্তু উনি একজন সুন্দরী যুবতী!” — আর মুহূর্তেই মঞ্চ জুড়ে হাসির রোল।
“সুন্দরী বললে রাগ করবেন না তো?” — ট্রাম্পের চমকপ্রদ মন্তব্য
গুরুগম্ভীর সম্মেলনের মাঝেই ট্রাম্পের মজার সুরে উক্তি, “আপনাকে সুন্দরী বললে আপনি নিশ্চয়ই রাগ করবেন না তো? কারণ আপনি সত্যিই সুন্দরী।”
(Trump praised Meloni beauty)
মেলোনি তখন মঞ্চে হাসছেন মৃদু হেসে, বাকিদের মুখেও ফুটে ওঠে বিস্ময় ও মজা মেশানো হাসি। উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাতাহ এল-সিসি, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান, এবং কাতারের আমির শেখ তামিম হামাদ আল থানি।
মেলোনির রূপ নয়, গুণেও মুগ্ধ ট্রাম্প
শুধু বাহ্যিক প্রশংসাই নয়, ট্রাম্প পরে বলেন, “মেলোনি একজন অসাধারণ নেতা (Giorgia Meloni leadership)। ইতালির মানুষ তাঁকে শ্রদ্ধা করে, উনি অত্যন্ত সফল রাজনীতিক।”
তিনি যোগ করেন, “এই সম্মেলনে তাঁর উপস্থিতি প্রমাণ করে, নেতৃত্বে নারী কতটা শক্তিশালী।”
এমন প্রশংসা শুনে মেলোনি ধন্যবাদ জানান ট্রাম্পকে, হাসিমুখে বলেন, “ধন্যবাদ, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, তবে আমরা এখানে গাজা শান্তির জন্য এসেছি।”
ভাইরাল মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়
মিশরের (Egypt Gaza Peace Summit) সম্মেলনের সেই ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। নেটিজেনদের একাংশ লিখেছেন, “এটাই তো ট্রাম্পের স্টাইল!”
আর কেউ লিখেছেন, “ট্রাম্প রাজনীতিকে মঞ্চে রূপান্তর করেন শোতে!”
তবে অনেকেই বলছেন, ট্রাম্পের বক্তব্যে কোনো অসম্মান ছিল না; বরং মেলোনির নেতৃত্ব ও ব্যক্তিত্বের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশই করেছেন তিনি।
মোদি ও ম্যাক্রোঁর সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ মেলোনি
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) সম্পর্কও অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ। মেলোনি তাঁর স্মৃতিকথার ভূমিকা লেখার দায়িত্ব মোদিকেই দিয়েছিলেন। জন্মদিনে মোদিকে “অনুপ্রেরণা” বলেও প্রশংসা করেছিলেন তিনি।
অন্যদিকে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ (Emmanuel Macron)-এর সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক বজায় রাখেন মেলোনি। সম্প্রতি জি৭ সম্মেলনের একটি ভিডিওতে তাঁকে ম্যাক্রোঁর দিকে রসিকতাপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকাতে দেখা যায়, যা নেটমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল।
মিশরের (Gaza Peace Conference) মঞ্চে ট্রাম্প ও মেলোনির এই “রূপ ও রসিকতা”র মুহূর্ত এখন বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রে।
রাজনৈতিক তর্কের বাইরে, এই ঘটনা এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের কূটনৈতিক সৌজন্যে — যেখানে হাসি, প্রশংসা আর ব্যক্তিত্বের মেলবন্ধনেই খুঁজে পাওয়া গেল এক অনন্য মুহূর্ত।