সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
বিধাননগরের বাড়িতেই হঠাৎ হামলার মুখে পড়লেন তৃণমূল নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। জানা গিয়েছে, গতকাল সন্ধ্যায় নিজের বাড়িতে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক চলাকালীন আচমকাই এক যুবক তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে চারপাশে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়। উপস্থিত নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত বলে অভিযোগ। কোনওক্রমে প্রাণে বাঁচেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। ঘটনাস্থলেই ধরা পড়ে যায় অভিযুক্ত যুবক অভিষেক দাস ওরফে পাপাই ওরফে পাপাই। পরে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ এসে তাঁকে আটক করে নিয়ে যায়।
জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বাড়িতে ঢুকে হঠাৎ হামলা চালালো এক যুবক। রবিবার সন্ধ্যায় সল্টলেকে তাঁর বাসভবনে ঘটে এই ঘটনা। পুলিশ সূত্রে খবর, এদিন সন্ধেয় বাড়িতেই যাঁরা থাকেন তাঁদের সঙ্গে বসে সময় কাটাচ্ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। সেইসময় গেটের বাইরে অনেকক্ষণ তাঁর সঙ্গে দেখা করার আর্জি জানিয়ে অপেক্ষা করছিল যুবক। হাবড়ার জয়গাছির বাসিন্দা বলেই নিজের পরিচয় দেয় ওই যুবক। নাম পাপন দাস।
অভিযোগ, এরপরে ভিতরে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের সঙ্গে দেখা করার নাম করে ঢুকেই দু-একটা কথাবার্তার পরেই আচমকা প্রাক্তন মন্ত্রীর উপর ঝাঁপিয়ে পরে এলোপাহাড়ি কিল-চড় মারতে শুরু করে ওই যুবক। উপস্থিত সকলে এই ঘটনায় স্বভাবতই হতচকিত হয়ে যান। এর পরেই যুবককে ধরে ফেলার চেষ্টা করতেই সে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তের নাম অভিষেক দাস (বয়স প্রায় ৩০ বছর)। সে উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ার বাসিন্দা। বিধাননগর থানার এক ঊর্ধ্বতন আধিকারিক জানান, রাত প্রায় ৯টা নাগাদ জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে অনুসরণ করে অভিষেক তাঁর বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে। অভিযোগ, কিছু বুঝে ওঠার আগেই হঠাৎ করে সে প্রাক্তন মন্ত্রীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তলপেটে ঘুষি মারে। অচিরেই নিরাপত্তারক্ষী ও আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ওই যুবককে আটক করেন। পরে তাঁকে বিধাননগর থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
সল্টলেকে তৃণমূল বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বাড়িতে ঢুকে হঠাৎ ঝাঁপিয়ে পরে বিধায়ককে এলোপাথাড়ি চড়-ঘুষি মেরে তাঁকে মাটিতে ফেলে দিয়েছেন ছেলে অভিষেক দাস ওরফে পাপাই। অভিযোগ পেয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। অভিষেক দাসের বাড়ির লোক এদিন রাতেই খবর পেয়ে তড়িঘড়ি পৌঁছয় বিধান নগর নর্থ থানায়। পরিবার সূত্রে বাবা-কাকাদের তরফে দাবি করা হয়, ‘রবিবার ভোর চারটে নাগাদ বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল ছেলে। মানসিক ভারসাম্যহীন ওই যুবকের গত চার বছর ধরে চিকিৎসা চলছে।’
অভিষেকের বাবা জানান, ‘আমাদের থানা থেকে ফোন করে আসার জন্য বলা হয়েছে তাই আমরা এসেছি। কাকে মেরেছে কেন মেরেছে এই বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।’ অন্যদিকে অভিষেক দাস ওরফে পাপাই দাসের মা জানান, ভোর চারটে নাগাদ ছেলে বাড়ি থেকে বেরোয়। এরপর সকাল আটটা নাগাদ জানায় সে দত্তপুকুরে আছে। ‘কাজে আছি” বলে ফোনে জানায় সে। পরে বিকালে বলে ‘উল্টোডাঙায় আছি, কাজে আছি।’ এরপর রাত আটটা নাগাদ ছেলে বাড়িতে ফোন করে জানায়, সিকিউরিটি আমাকে আটকে রেখেছে।’ অভিষেকের মা আরও জানান, তাঁর ছেলে মানসিক রোগী। মানসিক হাসপাতালে দু-দু’বার ভর্তি হয়েছেন। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বাড়িতে চাকরির জন্য গিয়েছিলেন।’ হাবড়ার জয়গাছির বাসিন্দা এই পাপাই দাস ওরফে বুদ্ধ ওরফে অভিষেক দাস মানসিক রোগী। এর আগেও হাবরার চেয়ারম্যান, হাবরার ভাইস চেয়ারম্যান-সহ একাধিক রাজনৈতিক নেতাদের বাড়িতে আচমকা ঢোকার ইতিহাস রয়েছে তাঁর। একাধিকবার পুলিশ তাঁকে আটকও করেছে একই রকম অভিযোগে।
পাপাইয়ের বাবার এফসিআর গোডাউন রয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। এদিকে এই ঘটনায় চোট পেয়েছেন বিধায়ক। ঘটনার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, দেখে মনে হল ছেলেটি নেশাগ্রস্থ ছিল আগে থেকেই আমার বাড়িতে রেইকি করছিল। আমার বাড়িতে যে কর্মচারী থাকে তাঁকে সে বারবার আমি কোথায় জিজ্ঞেস করেছিল। এরপর আটটা নাগাদ আমি বাড়িতে ঢুকতেই পিছন পিছন ও বাড়িতে প্রবেশ করে হঠাৎ এসে আমার পেটে একটা ঘুসি মারে। প্রাক্তন মন্ত্রী আরও বলেন, ‘এরপর আমি চেঁচামেচি করতেই বাইরে থাকা যে নিরাপত্তারক্ষী সে আসে ও তাকে আটক করে ফেলে। যুবককে ধরে পুলিশের কাছে পাঠানো হয়েছে। কেন মারল বুঝতে পারছি না। তবে এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ জানাবো এর আগে কখনও এই ছেলেটিকে দেখিনি কোথাও। আজ পর্যন্ত এ ধরনের ঘটনা আমার সঙ্গে ঘটেনি।’