সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মনকে কেন্দ্র করে স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুনের ঘটনার তদন্ত আরও এক ধাপ এগোল বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। পুলিশ সূত্রের খবর অনুযায়ী, নিউ টাউন এলাকার বিভিন্ন সড়কে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ হাতে পেয়েছে পুলিশ, যেখানে একটি নীলবাতি লাগানো সরকারি গাড়িকে ঘটনাস্থল থেকে যাত্রাগাছির দিকে যেতে ও ফিরে আসতে দেখা গিয়েছে বলে দাবি। এই গাড়িটি ওই বিডিও-র সরকারি যান কি না, সেটি যাচাই করা হচ্ছে।
স্বপন কামিল্যা নামে ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে ২৮ অক্টোবর দুপুরে সল্টলেক দত্তাবাদের দোকান থেকে দুটি গাড়ি ও কয়েকটি বাইকে আসা কিছু ব্যক্তিরা তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ। ফুটেজের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, ওই ব্যবসায়ীকে প্রায় ২০-৩০ মিনিটের মধ্যেই নিউ টাউনের AB ব্লকের একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে একাধিকবার শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে বলে জেরায় ধৃতদের বক্তব্য দাবি পুলিশের।
পুলিশের দাবি, ওই ফ্ল্যাট থেকে রাতের দিকে স্বপন কামিল্যার দেহ সংজ্ঞাহীন অবস্থায় বের করে আনা হয় এবং একটি নীলবাতি লাগানো গাড়িতে তোলা হয়। অভিযোগ, এরপর যাত্রাগাছির খালপাড়ের জঙ্গলের অংশে দেহ ফেলে আসা হয়। ঘটনাস্থলের কাছে থাকা সিসিটিভিতেও ওই গাড়ির উপস্থিতি ধরা পড়েছে বলে তদন্তকারীদের বক্তব্য।
এছাড়া, এক প্রত্যক্ষদর্শীও জানিয়েছেন যে, সেদিন রাতে ওই ফ্ল্যাটের ভিতর থেকে একজনকে টেনে হিঁচড়ে গাড়িতে তোলা হয়। তারই দুই দিন পর যাত্রাগাছির খালপাড় থেকে আহত অবস্থায় দেহ উদ্ধার হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক শরীরিক পরীক্ষায় মাথা ও শরীরের একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁদের পরিচয়— রাজু ঢালি, যিনি অভিযুক্ত বিডিও-র ব্যবহৃত গাড়ির চালক ছিলেন বলে তদন্তকারীদের দাবি, এবং তুফান থাপা, যাকে স্থানীয়ভাবে বিডিও-র ঘনিষ্ঠ ঠিকাদার বলে পরিচিত। আদালতের নির্দেশে তাঁরা বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে আছেন এবং তাঁদের থেকে ঘটনার আরও তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
ধৃতদের জেরায় জানা গেছে, ঘটনাস্থলে মোট ছ’জন উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি পুলিশ। তদন্তকারীদের কথায়, অভিযুক্তরা স্বীকার করেছেন যে মারধরের সময় আচমকা মাথায় জোরে আঘাত লাগায় স্বপনবাবু অচেতন হয়ে পড়েন। এরপর ঘাবড়ে গিয়ে তাঁর দেহ সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মন জানিয়েছেন, এই ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো যোগ নেই এবং তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেছেন, তিনি নির্দোষ এবং পুরো ঘটনাটি একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হতে পারে। তবে তদন্তকারীরা বলছেন, অভিযোগ অস্বীকার করা গেলেও সিসিটিভি ফুটেজ, গাড়ির গতিপথ, মোবাইল লোকেশন ও কল রেকর্ড বর্তমানে তদন্তের মূল হাতিয়ার।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে, এবং আরও সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।