বাংলার রাজনীতিতে উত্তেজনার আবহ তৈরি হয়েছে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে। বিজেপির বিরুদ্ধে বাংলাবিদ্বেষ ও ভাষা আক্রমণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল যুব কংগ্রেসের রাজ্য সভানেত্রী সায়নী ঘোষ। রবিবার গান্ধী মূর্তির পাদদেশে এক ধরনা-সমাবেশে সায়নী স্পষ্ট বার্তা দেন—এবারের লড়াই বাংলা ও বাঙালির সম্মান রক্ষার জন্য।
তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি পরিকল্পিতভাবে বাংলার সংস্কৃতি ও ভাষার মর্যাদাকে আঘাত করছে। বাংলা বললেই পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলাদেশি তকমা দিয়ে হেনস্থা করা হচ্ছে, পুশব্যাক করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিকে তিনি স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরের জন্য লজ্জাজনক বলে উল্লেখ করেন।
সায়নী ঘোষের কণ্ঠে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি— “বাংলার সম্মান, বাংলাভাষার মর্যাদা ও বাঙালির অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই চলবে। বিজেপি বাংলাকে যতই জ্বালাক, আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই বাংলাকে ঠান্ডা করবেন।”
তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে বিজেপির ভোটব্যাংক নির্ভর সাংস্কৃতিক রাজনীতির সমালোচনা। দীপাবলি ও ছটপুজোয় ছাড় দেওয়া হলেও দুর্গাপুজোয় ভারতীয় রেলের কোনও বিশেষ সুবিধা নেই—এ বিষয়েও ইঙ্গিত দেন তিনি। সায়নীর মতে, এটি বাংলার প্রতি রাজনৈতিক অবহেলা ও সাংস্কৃতিক বৈষম্যের প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, বিজেপি কেবল বাংলাকে অপমান করতে জানে— “যে ভাষায় আমরা মা বলেছি, দিদি বলেছি, সেই ভাষাকে বাংলাদেশি ভাষা বলবে? বাংলার মানুষ তার জবাব ভোটে দেবে।”

এদিনের সমাবেশে উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতা, হাওড়া এবং অন্যান্য জেলার যুব নেতৃত্বরা উপস্থিত ছিলেন। বিজেপির বিভাজনমূলক রাজনীতি, এসআইআর আইন এবং অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও তীব্র আক্রমণ করেন সায়নী। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে প্রশ্ন ছুড়ে দেন—পাহেলগাঁওয়ে কীভাবে অনুপ্রবেশ ঘটল, তার জবাব কোথায়?
তৃণমূলের দাবি, বাংলার মানুষ উন্নয়ন ও সর্বধর্ম সমন্বয়ের রাজনীতিতে আস্থা রাখে। বিজেপির বিভাজন, বিদ্বেষ ও বাংলাবিরোধী মনোভাব ২০২৬-এ শেষ হবে। সায়নীর ভাষায়— “এটা আপনার ‘সুনার বাংলা’ নয়, এটা আমাদের ‘সোনার বাংলা’।”
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই বার্তা স্পষ্ট—২০২৬-এর নির্বাচন শুধু ক্ষমতার লড়াই নয়, এটি হবে বাংলার আত্মমর্যাদা, ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার লড়াই। তৃণমূল এই লড়াইয়ে মানুষের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, আর বিজেপি বিরোধী শিবিরকে রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে বিদায় করার ডাক দিচ্ছে।