ভারতের সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court on Stray Dogs) এক ঐতিহাসিক কিন্তু বিতর্কিত নির্দেশ জারি করেছে— আগামী ৮ সপ্তাহের মধ্যে দিল্লি ও এনসিআর (নয়ডা, গুরুগ্রাম, গাজিয়াবাদ, ফরিদাবাদ) এলাকা থেকে সব বেওয়ারিশ রাস্তার কুকুরকে সরিয়ে ফেলতে হবে।
আদালত জানিয়েছে, কুকুরদের ডগ শেল্টারে স্থানান্তর করতে হবে, এবং এই প্রক্রিয়ায় কোনও পশুপ্রেমীর আপত্তি শোনা হবে না। কেউ বাধা দিলে তা আদালত অবমাননা হিসেবে গণ্য হবে।
এই নির্দেশ আসে কুকুরের কামড়ে জলাতঙ্ক রোগের ঘটনাবৃদ্ধির প্রেক্ষিতে। জানুয়ারি থেকে জুন ২০২৪ পর্যন্ত ৩৫,১৯৮ জন কুকুরে কামড়ানোর শিকার হয়েছেন রাজধানী দিল্লিতে, যার মধ্যে ৪৯ জন জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়েছেন। সম্প্রতি, ৬ বছরের এক শিশুর মৃত্যুর পর জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়, এবং বিচারপতি জে বি পাদ্রীওয়ালা ও বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চ এই নির্দেশ দেন।
প্রধান বিচারপতির ‘রিভিউ’ আশ্বাস
তবে এই সিদ্ধান্তে দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আবাসিক কল্যাণ সমিতি নির্দেশকে স্বাগত জানালেও, পশুপ্রেমীরা একে ‘অমানবিক’ ও ‘অতিদ্রুত’ বলে সমালোচনা করেছেন। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন— প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও তহবিল ছাড়া এত অল্প সময়ে এত বড় পদক্ষেপ নেওয়া কি বাস্তবসম্মত?
এই পরিস্থিতিতে প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাই বলেন— “আমি এটি খতিয়ে দেখব।” অর্থাৎ, ভবিষ্যতে এই নির্দেশ পুনর্বিবেচনার সম্ভাবনা রয়েছে।
নির্দেশের পেছনের কারণ
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, মানুষের জীবন সুরক্ষা সর্বাগ্রে। আদালত বলেছে— যদি কুকুরের কামড়ে মৃত্যুর ঘটনা ক্রমশ বাড়ে, তবে প্রশাসনের দায়িত্ব মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এজন্য আবাসিক এলাকা থেকে সব কুকুর সরিয়ে ডগ শেল্টারে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে পশু অধিকারকর্মীরা বলছেন— “পথ কুকুর সমস্যার সমাধান বন্দিশালা নয়, বরং টিকাদান, নির্বীজন ও সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।” তাদের মতে, একসঙ্গে হাজার হাজার কুকুর সরিয়ে নেওয়া হলে প্রাণীদের ওপর চাপ বাড়বে, এবং মানবিক দিকটি উপেক্ষিত হবে।
দুই দিকের লড়াই
এই বিতর্কে দুই পক্ষই তাদের যুক্তি তুলে ধরছে—
সমর্থকরা বলছেন: মানুষের জীবন রক্ষা সবার আগে, এবং জলাতঙ্ক প্রতিরোধে এই পদক্ষেপ জরুরি।
বিরোধীরা বলছেন: এটি হঠাৎ নেওয়া একটি ‘শক ট্রিটমেন্ট’, যা দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার সমাধান নয়।
প্রধান বিচারপতির বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, সুপ্রিম কোর্ট হয়তো সময়সীমা বাড়ানো বা বিকল্প সমাধান বিবেচনা করতে পারে। তবে বর্তমান নির্দেশ কার্যকর হলে আগামী দুই মাসের মধ্যে দিল্লি-এনসিআরের রাস্তায় পথ কুকুর দেখা যাওয়া প্রায় অসম্ভব হবে।
মানুষের নিরাপত্তা ও প্রাণীর অধিকার— এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখা যে কতটা কঠিন, এই মামলাই তার বড় উদাহরণ হয়ে উঠতে চলেছে।