সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
বড় খবর – পুরীর একটি হোটেলে উদ্ধার হল পূর্ব বর্ধমানের এক বাঙালি গৃহবধূ ও তাঁর প্রেমিকের দেহ। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়াল। আত্মহত্যা নাকি খুন – এই প্রশ্ন ঘিরে এখন উত্তেজনা চরমে।
👩 মৃতা গৃহবধূ মিতালি ঘোষ, বছর দশেক আগে পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়না থানার হরিহরপুত্র গ্রামের ব্যবসায়ী প্রশান্ত ঘোষের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। তাঁদের একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে। তবে কয়েক বছর আগে মিতালির জীবনে আসে ভিন্ন মোড়। বাঁকুড়ার সোনামুখী এলাকার তরুণী মিতালির সঙ্গে পাশের গ্রামের যুবক কুমারীশ ঘোষের সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক তৈরি হয়।
💔 পরিবার সূত্রে খবর, প্রথমদিকে বিষয়টি জানাজানি হলে স্বামী প্রশান্ত ও দুই পরিবার বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করে। কিন্তু কিছুদিন পরেই ফের যোগাযোগ শুরু হয় মিতালি ও কুমারীশের। একাধিকবার ফোন ও ছবির মাধ্যমে এই সম্পর্ক প্রকাশ্যে আসে।
📵 সপ্তাহ খানেক আগে মিতালি বাড়ি থেকে বেরোন মোবাইল ফোন আনতে যাবেন বলে। তারপর থেকে তাঁর ফোন সুইচ অফ হয়ে যায়। শ্বশুরবাড়ি ও বাপের বাড়ি কোথাও তাঁর খোঁজ মেলেনি। মৃতার ভাই বৃন্দাবন ঘোষ জানান, নিখোঁজ ডায়েরিও করা হয়েছিল রায়না থানায়। অভিযোগ, সময়মতো পুলিশ ব্যবস্থা নিলে হয়তো মিতালিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা যেত।
🏨 বৃহস্পতিবার দুপুরে পুরীর একটি হোটেল কক্ষ থেকে মিতালি ও কুমারীশের দেহ উদ্ধার হয়। খবর পেয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষ পুলিশে যোগাযোগ করে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই দম্পতি কয়েকদিন ধরে হোটেলে ছিলেন। তাঁদের কাছে পরিচয়পত্র ছিল কি না, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
❓ মৃত্যুর কারণ নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান আত্মহত্যা হতে পারে। তবে খুনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। কারণ মৃতার স্বামী প্রশান্ত ঘোষ দাবি করেছেন, তাঁর স্ত্রী বাড়ি থেকে গয়না ও নগদ টাকা নিয়ে বেরিয়েছিলেন। সেই সূত্রও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।
🗣️ মৃতার স্বামী প্রশান্ত জানিয়েছেন –
“কয়েকদিন আগে স্ত্রী বাড়ি থেকে মোবাইল আনতে গিয়েছিল। তারপর আর কোনো খোঁজ মেলেনি। ওড়িশা পুলিশ ফোন করে জানায়, মিতালির দেহ উদ্ধার হয়েছে পুরী থেকে।”

📌 অন্যদিকে, মৃতার ভাইয়ের অভিযোগ –
“পুলিশ যদি তৎপরতা দেখাত, তবে হয়তো দিদিকে বাঁচানো যেত। এখন আমরা শুধু সত্যিটা জানতে চাই।”
🔍 বর্তমানে ওড়িশা পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ, মৃতদের কল রেকর্ড, এবং পরিবারের বক্তব্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। আগামী রিপোর্টে পোস্টমর্টেমের তথ্য উঠে আসবে, যা হয়তো জানিয়ে দেবে এটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত খুন।