কেরালার ত্রিশূর লোকসভা আসন নিয়ে শুরু হয়েছে প্রবল বিতর্ক। সম্প্রতি প্রকাশিত এক নির্বাচনী তালিকায় দেখা গিয়েছে, প্রায় ৬০ হাজার ভুয়ো ভোটদাতা (fake voters in Thrissur) যুক্ত হয়েছে বিজেপির জেতা এই আসনে। খালি বাড়ি, বন্ধ ফ্ল্যাট, এমনকি দীর্ঘদিন আগে বিদেশে চলে যাওয়া মানুষের নামেও ভোটার তালিকা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
খালি বাড়ি থেকে নকল ভোটার!
স্থানীয় প্রশাসনের পরিদর্শনে ধরা পড়েছে, ত্রিশূরের একাধিক ওয়ার্ডে বহু বাড়ি বহু বছর ধরে তালাবদ্ধ। তবুও সেইসব ঠিকানায় ভোটারদের নাম রয়েছে। অনেক ফ্ল্যাট এখনো সম্পূর্ণ খালি থাকা সত্ত্বেও সেখানে একাধিক ভোটারের নাম নথিভুক্ত। শুধু তাই নয়, মৃত ব্যক্তিদের নামও এখনও ভোটার তালিকায় সক্রিয় রয়েছে।
বিরোধীদের দাবি তদন্তের
বাম শিবির ও কংগ্রেস উভয়ই দাবি তুলেছে—এটি বিজেপির ভোট ব্যাংক বাড়ানোর জন্য একটি পরিকল্পিত চক্রান্ত। তাদের মতে, fake voters in Thrissur শুধু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ক্ষতি করছে না, বরং ভবিষ্যতের নির্বাচনকেও অস্বচ্ছ করে তুলছে। বিরোধীদের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ জানানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের অবস্থান
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, অভিযোগের ভিত্তিতে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, প্রতিটি সন্দেহভাজন বাড়ি ও ঠিকানা যাচাই করা হবে। যাদের প্রকৃত পরিচয় প্রমাণিত নয়, তাদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।
ভোটের সঠিকতা নিয়ে প্রশ্ন
সাধারণ মানুষ এই খবর শুনে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হল সঠিক ও স্বচ্ছ ভোটদান। অথচ fake voters in Thrissur বিতর্কে তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। স্থানীয় নাগরিক সমাজ সংগঠনগুলিও ভোটার তালিকা পরিশোধনের দাবি তুলেছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
বিজেপির তরফে অবশ্য এই অভিযোগকে রাজনৈতিক কৌশল বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, ভোটার তালিকা প্রস্তুত করে নির্বাচন কমিশন, দলীয়ভাবে কোনও ভূমিকা নেই। তবে বিরোধীরা বলছে, বিজেপি প্রভাব খাটিয়ে কমিশনের কাজে চাপ সৃষ্টি করছে।
আগামী দিনের প্রভাব
যদি সত্যিই ৬০ হাজার ভুয়ো ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়, তবে ত্রিশূরের আসন পুনর্গণনা বা পুনর্নির্বাচনের দাবি উঠতে পারে। কেরালার রাজনীতিতে এটি বিরাট মোড় আনতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।