সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা… আমারে দুদন্ড শান্তি দিয়েছিল নাটোরের বনলতা সেন। কোন কবিতার আসর অথবা রবীন্দ্র সদনের মঞ্চ নয়, জীবনানন্দ দাশ কবি নজরুল এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একের পর এক কবিতা উদাত্ত কণ্ঠে আবৃত্তি করতে করতে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করলেন তৃণমূলের রাজ্য সভা সাংসদ ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়। সঙ্গে গলা মেলালেন সাগরিকা ঘোষ শতাব্দী রায়রা।
রাজধানী দিল্লির বুকে বাংলা তথা বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং রাজনৈতিক সৃষ্টিশীলতার নতুন ইতিহাস তৈরি হল আজ তৃণমূলের এই বিক্ষোভ প্রদর্শনের মাধ্যমে।
বৃহস্পতিবার অধিবেশনের শেষ দিনে সংসদ উত্তাল হল বাংলা গান, কবিতা, বিক্ষোভ, প্রতিবাদে। সংসদের অন্দরে যেমন কালাকানুন, এসআইআর, ভাষাসন্ত্রাসের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়, তেমনই সংসদ চত্বরে বাংলাকে হেয় করা এবং অপমান করার প্রতিবাদে তৃণমূলের লোকসভা এবং রাজ্যসভার সাংসদেরা ঘুরে ঘুরে গাইলেন রবীন্দ্র-নজরুল গান, করলেন নানা কবিতা আবৃত্তি। অন্য সাংসদেরা দাঁড়িয়ে দেখলেন বাংলার সাংসদদের প্রতিবাদের গান।
গতকাল সংসদে প্রধানমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রীদের অপসারণ করার জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে বিল পেশ করেছিলেন তার প্রতিবাদে আগেই সরব হয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদরা। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় অমিত শাহ ঢুকতেই শোনা গেল গো-ব্যাক স্লোগান। সেই সঙ্গে চলল গান-কবিতার মাধ্যমে প্রতিবাদ। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, সাগরিকা ঘোষ-সহ অনেকে উচ্চকণ্ঠে আবৃত্তি করলেন, অন্যরা গাইলেন রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের গান। চারদিক থেকে তাঁদের ঘিরে দাঁড়িয়ে রইলেন অন্য দলের সাংসদরাও। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি পরিকল্পিতভাবে বাংলাকে হেয় করছে। রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা টিকিয়ে রাখতে না পেরে এখন সরাসরি বাংলা ভাষা ও বাংলাভাষীদের আক্রমণ করছে। এর জবাব বাংলার মানুষই দেবেন—সাফ জানিয়ে দিলেন সাংসদরা। প্রতিবাদের আঁচ এতটাই তীব্র যে, রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যানের শেষ দিনের চা-চক্রে যোগ দেননি তৃণমূল সাংসদরা। তাঁদের বক্তব্য, বাংলার মর্যাদা খর্ব করার পাশাপাশি বিরোধীদের কণ্ঠ রুদ্ধ করতে কালাকানুন আনা হচ্ছে। এই সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার প্রশ্নই ওঠে না।

অন্যদিকে, বুধবার আইনমন্ত্রী কিরণ রিজিজুর বিরুদ্ধে তিন তৃণমূল সাংসদকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার বিহিত চেয়ে এদিন স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান শতাব্দী রায়, মিতালি বাগ এবং মহুয়া মৈত্র। তৃণমূল কংগ্রেস জানাচ্ছে, সংসদে এবং সংসদের বাইরে এই লড়াই চলবে, যতদিন না বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে সরানো হচ্ছে।