ব্রেকিং
  • Home /
  • বাংলার রাজনীতি /
  • Mamata attacks BJP : ‘বাংলায় ডিটেনশন ক্যাম্প হবে না, রোহিঙ্গা কোথায় দেখাও’ কেন্দ্র ও কমিশনকে মমতার চ্যালেঞ্জ

Mamata attacks BJP : ‘বাংলায় ডিটেনশন ক্যাম্প হবে না, রোহিঙ্গা কোথায় দেখাও’ কেন্দ্র ও কমিশনকে মমতার চ্যালেঞ্জ

সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন। ‘বাংলায় কোনও ডিটেনশন ক্যাম্প হবে না। কোথায় রোহিঙ্গা আছে দেখাও!’ এভাবেই বৃহস্পতিবার নদীয়ার কৃষ্ণনগরের মঞ্চ থেকে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ও জাতীয় নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্যে খোলা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বাংলায়....

Mamata attacks BJP : ‘বাংলায় ডিটেনশন ক্যাম্প হবে না, রোহিঙ্গা কোথায় দেখাও’ কেন্দ্র ও কমিশনকে মমতার চ্যালেঞ্জ

  • Home /
  • বাংলার রাজনীতি /
  • Mamata attacks BJP : ‘বাংলায় ডিটেনশন ক্যাম্প হবে না, রোহিঙ্গা কোথায় দেখাও’ কেন্দ্র ও কমিশনকে মমতার চ্যালেঞ্জ

সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন। ‘বাংলায় কোনও ডিটেনশন ক্যাম্প হবে না। কোথায় রোহিঙ্গা আছে দেখাও!’ এভাবেই বৃহস্পতিবার....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন

সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।

‘বাংলায় কোনও ডিটেনশন ক্যাম্প হবে না। কোথায় রোহিঙ্গা আছে দেখাও!’ এভাবেই বৃহস্পতিবার নদীয়ার কৃষ্ণনগরের মঞ্চ থেকে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ও জাতীয় নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্যে খোলা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বাংলায় কোনও ডিটেনশন ক্যাম্প হবে না। কোথায় রোহিঙ্গা আছে দেখাও! রোহিঙ্গারা তো মণিপুর, নাগাল্যান্ড হয়ে আসবে, সেখানে কেন এসআইআর হবে না। নাম কাটলে বাড়িতে জিনিস আছে তো, নাম কাটলে ধরবেন সবাই। মহিলারা সবাই লড়বেন, ছেলেরা পিছনে থাকবেন। বিজেপি ভোট আসলে কাউকে কাউকে টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করে। তখন নোটবন্দি করেছিল, এখন করছে ভোটবন্দি, বাংলাকে ধ্বংস করে দেওয়ার প্ল্যান ওদের। যাঁরা দাঙ্গা করে তাঁরা নাগরিক, আর যাঁরা শান্তিতে থাকে তাঁরা নাগরিক নয়, এটা কেমন কথা! এসআইআর কেন এতো তাড়াতাড়ি, আমি বলেছিলাম সময় নিয়ে কর। নির্বাচন আসছে তাই গায়ের জোরে দখল করতে চাইছে। আমাদের আঘাত করতে প্রত্যাঘাত করতে জানি। আজকাল এআই দিয়ে ভিডিও বানানো হয়। আমাকে নিয়ে ভিডিও বানানো হচ্ছে। বাংলা থেকে আমরা কাউকে তাড়াতে দেব না। বিএসএফ-র কাছেও যাবেন না।’
কমিশনের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবারই এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার শেষ দিন। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও কমিশনের ওই ফর্ম পূরণ করেননি। বৃহস্পতিবার নদিয়ার কৃষ্ণনগরের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই একথা জানান। ‘কেন এখনও ফর্ম ফিলাপ করেননি’, তার কারণও নিজেই জানালেন তিনি।



মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘শুনুন আমি এখনও ফর্ম ফিলাপ করিনি। কেন করিনি? তিনবার সেন্ট্রাল মিনিস্টার ছিলাম। সাতবার এমপি হয়েছি। আর আপনাদের আর্শীবাদ, শুভেচ্ছায় তিনবার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছি। আমাকে আজকে প্রমাণ করতে হবে, আমি নাগরিক কিনা? এর চেয়ে নাকখত দেওয়া অনেক ভাল!’
এরপরই বিজেপি-কমিশনকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, ‘ওই দাঙ্গাবাজদের কাছে প্রমাণ করতে হবে, আমি দেশের নাগরিক কিনা।’ প্রশ্ন তুলেছেন, ‘দেশ যখন স্বাধীন হয়েছিল কোথায় ছিলে তোমরা? ইংরেজদের রাজত্বের সময় ওদের দাসত্ব করেছো তোমরা। আজকে দেশ চেনাচ্ছো আমাদের? রবীন্দ্রনাথকে গালি দিয়ে, বঙ্কিম, রাজামোহনকে অসম্মান করে নেতাজিকে অসম্মান করে মাতঙ্গিনী, ক্ষুদিরামকে অসম্মান করে। এ কোন ভারত?’ মঞ্চে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, তৃণমূল এসআইআর এর বিরোধী নয়। কিন্তু যেভাবে তাড়াহুড়ো করে ২ মাসের মধ্যে গোটা এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ করার চেষ্টা করছে, তাতে আপত্তি।মমতার কথায়, ‘আমরা তো বলেছিলাম, সময় নিয়ে এসআইআর করো। এত তাড়াহুড়ো কেন? হোয়াই সো হাঙ্গরি?’

 

এটা বাংলা, উত্তরপ্রদেশ নয়

কয়েকদিন আগে ব্রিগেডে গীতাপাঠ অনুষ্ঠানে প্যাটিস বিক্রেতাকে মারধরে অভিযোগ ওঠে। এদিন নদিয়ার সভা থেকে সেই প্রসঙ্গ টেনে আনলেন ক্ষুব্ধ মমতা। এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘একজন গরিব হকার জিনিস বিক্রি করতে গিয়েছে, তাকে ধরে মারা হয়েছে। এটা বাংলা, উত্তরপ্রদেশ নয়। এখানে তোমাদের আদেশও চলবে না। এরা যে গীতা পাঠ করে, তার জন্য মিছিল করার কী দরকার ছিল। ধর্ম মানে ভাগাভাগি নয়। কে নিরামিষ খাবে, সেটা কি তোমরা ঠিক করবে নাকি?’

মমতা বলেন, ‘গরিব হকার তার জিনিস বিক্রি করতে গিয়েছে। সব মিটিংয়েই কেউ না কেউ আসেন। কেউ চা বিক্রি করেন, কেউ শিঙাড়া বিক্রি করেন, কেউ ঝালমুড়ি, কেউ আবার বিস্কিট বিক্রি করেন। সেও গিয়েছিল, তার মাথায় খেলেনি যে এটা বিক্রি করব না, ওটা বিক্রি করব না। তাকে ধরে মেরেছোষ সবক’টাকে কাল অ্যারেস্ট করেছি, যারা গায়ে হাত দিয়েছে। এটা বাংলা, উত্তরপ্রদেশ নয়। এখানে তোমাদের গদ্দারি চলবে না, তোমাদের হুকুম, আদেশও চলবে না।’ গীতাপাঠ নিয়েও বিজেপি-কে আক্রমণ করেন।



বলেন, ‘এরা যে গীতাপাঠের কথা বলে! আমরা সবাই তো বাড়িতে গীতাপাঠ করি! তার জন্য পাবলিক মিটিংয়ের কী দরকার আছে? ঠাকুর-দেবতা মনে থাকেন। রমজান নমাজের সময় একসঙ্গে যান সকলে, দুর্গাপুজো হয় একসঙ্গে মিলেমিশে। যারা গীতা গীতা বলে চিৎকার করছে, তাদের জিজ্ঞেস করব, ধর্ম নিয়ে শ্রীকৃষ্ণ কী বলেছিলেন? বলেছিলেন, ধর্ম মানে ধারণ করা। কোনটা ধারণ করা? ধর্ম মানে পবিত্রতা, ধর্ম মানে মানবতা, ধর্ম মানে মনুষ্যত্ব, ধর্ম মানে শান্তি। ধর্ম মানে হিংসা নয়, ভেদাভেদ নয়, ভাগাভাগি নয়। বিজেপি-র বন্ধুরা যাঁরা গীতাপাঠ করছেন, আশাকরি শুনছেন। উত্তর দেবেন।’
বিজেপি-র উদ্দেশে আক্রমণ শানিয়ে মমতা আরও বলেন, ‘এত কিসের খিদে? এত খেয়েও হচ্ছে না? বাংলাকেও খেতে হবে? আপনারা বিজেপি-কে কোলে স্থান দেবেন, না দেবেন না, বাংলায় থাকতে চান, না চান না, মাছ-মাংস খাবেন, না খাবেন না, তা আপনাদেরই ঠিক করতে হবে। কে আমিষ খাবে, কে নিরামিষ খাবে, তা যার যার নিজস্ব ব্যাপার। আমি কারও উপর হস্তক্ষেপ করতে দেব না। মানুষকে ক্রীতদাস বানাতে চাইছো? আঘাত করলে প্রত্যাঘাত করতেও জানি। সুস্থ বাঘের চেয়ে আহত বাঘ ভয়ঙ্কর।’

রাজা রামমোহনকে ‘ইংরেজদের দালাল’ বলে আক্রমণ করা হোক বা সংসদে বঙ্কিচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নাম গুলিয়ে ফেলা, সম্প্রতি বার বার প্রশ্নের মুখে পড়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বয়ং। সেই নিয়েও এদিন আক্রমণ শানান মমতা। বলেন, ‘আজ আপনারা বাংলার মহাপুরুষদের অপমান করছেন, অসম্মান করছেন। দুই কান থাকলে, এক কান কাটার ভয় থাকে। যার দুই কান নেই, তার কী ভয়? এদের দু’টো কান নেই। শোনে না, দেখে না, মানুষের কথা জানতে চায় না। এসআইআর করো, আর যা-ই করো, বাংলা থেকে কাউকে তাড়াতে দেব না। আর তাড়ালে কী করে ফিরিয়ে আনতে হয় জানি।’

আজকের খবর